Axis My India on WB Poll 2026: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। আগামিকালই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে বাংলার মসনদে চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরছেন, নাকি প্রথমবার ঘাসফুল শিবিরকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষা রাজ্যে বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত দিলেও, দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সংস্থা ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ শেষ মুহূর্তে তাদের তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। কেন এই সিদ্ধান্ত? তা নিয়ে ইতিমধ্যে মুখ খুলেছেন সংস্থার কর্ণধার প্রদীপ গুপ্তা। তারপরও ব্যাখ্যা করলেন যে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন দেখেছেন।
কেন প্রকাশিত হল না এক্সিট পোল?

সাধারণত পূর্বাভাসের জন্য পরিচিত প্রদীপ গুপ্ত ও তাঁর সংস্থা ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’। কিন্তু এবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই কোনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দিতে অস্বীকার করেছে। প্রদীপ জানিয়েছেন, সমীক্ষা করার সময় তাঁদের প্রতিনিধিরা এক নজিরবিহীন ও অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। সমীক্ষকদের কাছে বাংলার প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারই মুখ খুলতে চাননি। তাঁরা কাকে ভোট দিয়েছেন বা কার পক্ষে হাওয়া, সে বিষয়ে নীরবতা পালন করেছেন।
প্রদীপের কথায়, ‘আমাদের স্যাম্পলিং মডেলে সাধারণত মানুষের কিছুটা জড়তা বা উত্তর না দেওয়ার প্রবণতাকে (Non-response rate) হিসেবে রাখা হয়। কিন্তু এবার পশ্চিমবঙ্গে সমীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকার করার হার গত কয়েক দশকের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে। ভোটারদের এই চরম নীরবতার কারণে কোনও বৈজ্ঞানিক তথ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ভুল তথ্য দিয়ে জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইনি বলেই আমরা সমীক্ষা প্রকাশ থেকে বিরত থেকেছি।’
বিজেপির অবস্থান নিয়ে কী বললেন প্রদীপ?
{{/usCountry}}বিজেপির অবস্থান নিয়ে কী বললেন প্রদীপ?
{{/usCountry}}যদিও সংস্থাটি কোনও সিট শেয়ারিং বা ভোটের শতাংশ প্রকাশ করেনি, তবে প্রদীপ ব্যক্তিগতভাবে বিজেপির পরিস্থিতি নিয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ দিয়েছেন। একটি সংবাদমাধ্যম আজতককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, গত নির্বাচনের তুলনায় এবার বাংলায় বিজেপির অবস্থা অনেক বেশি মজবুত ও উন্নত।
তিনি সরাসরি কোনও দলের জয়ের কথা না বললেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়েছিল, তার আগের নির্বাচনে (২০১৬) তারা পেয়েছিল মাত্র ৩টি আসন। এবার সেই গ্রাফ আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, ভোটের ময়দানে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির লড়াই যে অত্যন্ত সেয়ানে-সেয়ানে হয়েছে এবং গেরুয়া শিবির যে গতবারের চেয়ে ভালো ফল করতে পারে, সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।