B.Tech vs BA Degree for UPSC: অনেকেই খুব ছোটোবেলা থেকেই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় বসার স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্ন দেখেন আমলা হওয়ার। তবে সেজন্য দশম শ্রেণির পরে বা দ্বাদশ শ্রেণির পরে কী বিষয় নিয়ে পড়বেন, তা নিয়ে অনেকেই কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। বিশেষত অনেকেরই প্রশ্ন থাকে যে আইএএস অফিসার হওয়ার জন্য কোন ডিগ্রি বা সাবজেক্ট সবচেয়ে ভালো? বিশেষ করে বিএ নাকি বিটেক - কোন ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থীরা বেশি সুবিধা পান, তা নিয়ে দ্বিমতের শেষ নেই।
UPSC-র ন্যূনতম যোগ্যতা: ডিগ্রি যাই হোক, সুযোগ সবার সমান

ইউপিএসসির নির্দেশিকা অনুযায়ী, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসার জন্য নির্দিষ্ট কোনও স্ট্রিম বা বিষয়ের বাধ্যবাধকতা নেই। আবেদনকারীকে যে কোনও স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে কোনও বিষয়ে (আর্টস, সায়েন্স, কমার্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল বা ল') শুধুমাত্র একটি স্নাতক বা ব্যাচেলর ডিগ্রি পাশ হতে হবে।
আর্টস বা বিএ (BA) ডিগ্রি কেন এগিয়ে থাকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি শুধুমাত্র ইউপিএসসির সিলেবাস বা পাঠ্যক্রমের কথা বিবেচনা করা হয়, তবে আর্টস বা হিউম্যানিটিজ স্ট্রিমকে সবচেয়ে বেশি সহায়ক বলে মনে করা হয়। এর প্রধান কারণ হল, বিএয়ের সিলেবাসের একাংশের সঙ্গে সরাসরি ইউপিএসসির জেনারেল স্টাডিজ পেপারের পাঠ্যক্রম অনেকটা মিলে যায়।
১) ইতিহাস, ভূগোল এবং সমাজবিজ্ঞান: এই বিষয়গুলো ইউপিএসসি মেইনস পরীক্ষার জেনারেল স্টাডিজ পেপার-১ (GS-1)-এর একটি বিশাল অংশ জুড়ে থাকে।
২) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: এই দুটি বিষয় জেনারেল স্টাডিজ পেপার-২ (GS-2) এবং এথিক্স (GS-4) পেপারের জন্য একটি মজবুত ভিত তৈরি করে।
৩) অর্থনীতি: এই বিষয়টি প্রিলিমস এবং মেইনসের GS-3 পেপারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
{{/usCountry}}৩) অর্থনীতি: এই বিষয়টি প্রিলিমস এবং মেইনসের GS-3 পেপারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
{{/usCountry}}আর্টস স্ট্রিমের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, তাঁরা কলেজ জীবনেই এই বিষয়গুলোর মৌলিক ধারণা বা বেসিক কনসেপ্টের সঙ্গে পরিচিত হয়ে যান। ফলে বিজ্ঞান বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়াদের মতো তাঁদের একদম শূন্য থেকে শুরু করতে হয় না। এছাড়া মেইনস পরীক্ষার জন্য একটি ভালো ‘অপশনাল সাবজেক্ট’ বা ঐচ্ছিক বিষয় বেছে নিতেও এটি সাহায্য করে।
ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য স্ট্রিমের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য
বিএ কোর্সের সিলেবাসের সঙ্গে ইউপিএসসির মিল অনেক বেশি। তবুও গত কয়েক বছরের ফলাফল একদম উল্টো এক আধুনিক ট্রেন্ডের দিকে ইঙ্গিত করছে। বর্তমানে বিটেক (B.Tech) অর্থাৎ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিকেল ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থীরা এই পরীক্ষায় শুধু সফলই হচ্ছেন না, বরং টপারদের তালিকায় সিংহভাগ জায়গা দখল করে রাখছেন।
১) আদিত্য শ্রীবাস্তব (টপার ২০২৩): তিনি আইআইটি কানপুর থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক করেছেন।
২) ইশিতা কিশোর (টপার ২০২২): তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রী রাম কলেজ অব কমার্স থেকে ইকোনমিক্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।
৩) শ্রুতি শর্মা (টপার ২০২১): তিনি সেন্ট স্টিফেনস কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক ছিলেন।
৪) শুভম কুমার (টপার ২০২০) এবং কনিষ্ক কাটারিয়া (টপার ২০১৮): দু'জনেই আইআইটি বম্বে থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছিলেন।
কেন সফল হচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রার্থীরা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটি (বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা) এবং প্রবলেম-সলভিং স্কিল (সমস্যা সমাধানের দক্ষতা) সাধারণত অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। এই দক্ষতা তাঁদের প্রিলিমস পরীক্ষার সিএসএটি (CSAT) পেপার পাশ করতে এবং মেইনস পরীক্ষার উত্তর লিখনে দারুণভাবে সাহায্য করে।
তবে আপনার জন্য কোন ডিগ্রিটি সঠিক?
ইউপিএসসি বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা- এমন কোনও জাদুকরী ডিগ্রি নেই, যা আপনাকে নিশ্চিতভাবে একজন আইএএস অফিসার বানিয়ে দেবে। সফল হওয়ার সেরা কৌশল হলো এমন একটি বিষয় বেছে নেওয়া, যেটিতে আপনার নিজস্ব গভীর আগ্রহ রয়েছে। , আপনার ডিগ্রির ওপর নয়, আইএএস হওয়া নির্ভর করে আপনার ধারাবাহিকতা, কঠোর পরিশ্রম, নিয়মানুবর্তিতা এবং কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ও বেসিক কনসেপ্টের উপরকে।