Bengaluru company ban 4 North India States: উত্তর ভারতের চারটি রাজ্য থেকে কোনও পুরুষকে চাকরি দেবে না বলে ঘোষণা করল বেঙ্গালুরুর একটি সংস্থা। এ১ স্পোর্টস ওয়ার্ল্ড নামে ওই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা কার্তিক এসজি জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার এবং মধ্যপ্রদেশের কোনও পুরুষকে তাঁর সংস্থায় নিয়োগ করবেন না। আর সেটার নেপথ্যে আছে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা। এমবিএ গ্র্যাজুয়েট করা এক পুরুষ কর্মী মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবস্থার করতেন। এমনকী শারীরিকভাবে হেনস্থা করারও চেষ্টা করেছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন কার্তিক।
'১ রাজস্থান মহিলা পুরো সমর্থন করেছেন সেই সিদ্ধান্তের'

মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তা তিনি বলেন, ‘আমি এই বিষয়টির জন্য দুঃখিত। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা এবং তর্কবিতর্কের পরে আজ আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছি যে উত্তর ভারতের এই চারটি রাজ্য থেকে আসা কোনও পুরুষ প্রার্থীকে আমরা চাকরিতে নেব না - উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার এবং মধ্যপ্রদেশ। আমাদের (টিমে) ইতিমধ্যে একজন রাজস্থানি (মহিলা) আছেন। আর তিনি ১০০ শতাংশ এই সিদ্ধান্তের সমর্থন জানিয়েছেন।’
সেই সিদ্ধান্তের জেরে প্রশ্নের মুখে পড়েন কার্তিক
আর সেই বিষয়টি শুরু হয় বিতর্ক। উত্তর ভারত এবং দক্ষিণ ভারত বিতর্কও শুরু হয়ে যায়। একজন নেটিজেন বলেন, 'ভাবুন, একজন কর্মী নিয়োগের কতটা বাজে যে দক্ষতার নিরিখে ব্যক্তিগত স্তরে কাউকে বিচার পরিবর্তে পুরো রাজ্যকেই কালো তালিকাভুক্ত করে দিচ্ছেন। আর তারপর নিজের সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা দেখাতে একজন কর্মীর কথা বলছেন। এই পোস্টের মাধ্যমে যতটা না বেশি উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার বা মধ্যপ্রদেশের ছবি প্রকাশ পাচ্ছে, তার থেকে বেশি আপনাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ছবিটা সামনে আসছে।'
নিজের সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে কী যুক্তি পেশ কার্তিকের?
{{/usCountry}}নিজের সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে কী যুক্তি পেশ কার্তিকের?
{{/usCountry}}যদিও নিজের সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে যুক্তি পেশ করে কার্তিক বলেন, 'আমরা এই সিদ্ধান্তের পক্ষেই আছি। ও একজন এমবিএ গ্র্যাজুয়েট ছিল। রেজিউম এবং ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে ভালো ভালো মনে হয়েছিল। কিন্তু দু'মাস পর থেকেই মহিলা কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে শুরু করেছিল। এমনকী একজন মহিলা কর্মীকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করেছিল। ব্যবসা চালানোর থেকেও আমাদের কাছে আমাদের টিমের সুরক্ষা এবং আমরা যাঁদের সঙ্গে কাজ করি, সেই বাচ্চাদের নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মানুষের জীবনকে মূল্য দিই। একে অপরকে সম্মান করি।'
যুক্তি ও পালটা যুক্তি
যদিও সেই যুক্তি মেনে নেননি অনেকেই। তাঁদের বক্তব্য, উত্তর ভারতের ওই চারটি রাজ্যে জন্মগ্রহণ করলেই কীভাবে কারও যৌন হেনস্থাকারী হয়ে ওঠার আশঙ্কা বেশি থাকে? এরকম না করে নিজেদের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ভালো করার পরামর্শ দিয়েছেন কেউ-কেউ। আবার অনেকেই পাশে দাঁড়িয়েছেন ওই সংস্থার। তেমনই একজন বলেছেন, 'আপনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। কারণ এই ব্যাপারটা ওদের বেড়ে ওঠার মধ্যে গভীরভাবে নিহিত আছে।'