সিবিএসই শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্যক্রম এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি কার্যকর হতে চলেছে। ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির সুপারিশ মেনে এবং ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্কের ভিত্তিতে এই বড়সড় রদবদল করা হচ্ছে। এর ফলে পাঠ্যবই থেকে শুরু করে পড়াশোনার ধরণ—সবক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন দেখতে পাবেন পড়ুয়ারা।
‘থ্রি-ল্যাঙ্গুয়েজ ফর্মুলা’ কী?

নতুন শিক্ষাবর্ষের সবথেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল 'থ্রি-ল্যাঙ্গুয়েজ ফর্মুলা'। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এখন থেকে তিনটি ভাষা পড়তে হবে। নিয়ম অনুযায়ী:
১) এই তিনটি ভাষার মধ্যে অন্তত দুটি অবশ্যই ভারতীয় ভাষা হতে হবে।
২) তৃতীয় ভাষাটি ভারতীয় বা বিদেশি যে কোনও ভাষা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতেস এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হল, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বহুভাষিক দক্ষতা গড়ে তোলা এবং ভারতীয় ভাষাগুলির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করা। ষষ্ঠ শ্রেণিতে যারা এই নতুন নিয়মে পড়াশোনা শুরু করবে, তাদের নবম ও দশম শ্রেণিতেও দুটি ভারতীয় ভাষা বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে।
ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন পাঠ্যবই ও এনসিইআরটির ভূমিকা
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির সমস্ত বিষয়ের বই বদলে যাচ্ছে। এনসিইআরটি (NCERT) ইতিমধ্যেই নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। বর্তমানে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে কয়েকটি ব্রিজ কোর্স বা পরীক্ষামূলক বই চালু থাকলেও, ২০২৬ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন বই হাতে পাবে ছাত্রছাত্রীরা। গণিত, বিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোতেও বাস্তবমুখী ও প্রয়োগমূলক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: HS Semester Exam Future: উচ্চমাধ্যমিকের সেমেস্টার প্রথা বাতিল হয়ে যাচ্ছে?
গণিত ও বিজ্ঞানে 'টু-লেভেল' পদ্ধতি
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: HS Semester Exam Future: উচ্চমাধ্যমিকের সেমেস্টার প্রথা বাতিল হয়ে যাচ্ছে?
গণিত ও বিজ্ঞানে 'টু-লেভেল' পদ্ধতি
{{/usCountry}}নতুন পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে গণিত এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দুটি স্তরের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা একটি নির্দিষ্ট স্তরের পর গণিত নিয়ে এগোতে চায় না। তাদের জন্য 'স্ট্যান্ডার্ড' এবং 'বেসিক'—এই দুই স্তরের প্রশ্নপত্র বা পাঠ্যক্রম বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে, যা দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে। তবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই এই ধারণার বীজ বপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের।
সামগ্রিক মূল্যায়ন ও হলিস্টিক রিপোর্ট কার্ড
কেবলমাত্র পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিচার করার দিন শেষ হতে চলেছে। নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী 'হলিস্টিক প্রোগ্রেস কার্ড' চালু হচ্ছে। এখানে শিক্ষার্থীর পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি তার সৃজনশীলতা, খেলাধুলা, আচার-ব্যবহার এবং সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। পড়ুয়া নিজে, সহপাঠী এবং শিক্ষক— তিন পক্ষই এই মূল্যায়নে অংশ নেবেন।
কেন এই পরিবর্তন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কেবল মুখস্থ বিদ্যা দিয়ে সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে 'ক্রিটিক্যাল থিংকিং' বা বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা এবং হাতে-কলমে শেখার অভ্যাস গড়ে তুলতেই এই পরিবর্তন। ২০২৬-২৭ সেশনটি সিবিএসইর ইতিহাসে একটি মাইলফলক হতে চলেছে কারণ এখান থেকেই প্রথাগত শিক্ষা থেকে বেরিয়ে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রবেশ করবে ভারত।