CJP Saurav Das on ABVP win: ‘জেন-জি আন্দোলনের’ রেশ কি ভোঁতা হয়ে গেল? দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের চারটি কেন্দ্রীয় পদের ফলপ্রকাশের পরে একটি মহল থেকে এমনই সন্দেহ প্রকাশ করা হতে থাকে। বিজেপির তরফেও দাবি করা হতে থাকে যে দেশের 'আসল' জেন-জি'রা পদ্মশিবিরের সঙ্গেই আছে। যদিও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) যুগ্ম-আহ্বায়ক সৌরভ দাস দাবি করলেন, অধিকাংশ পড়ুয়াই বর্তমান শাসক দলের বিপক্ষেই আছেন। কিন্তু তাঁদের ভোট ভাগাভাগি হচ্ছে। আর বিরোধী ভোট একজোট না হওয়ার ফায়দা লুটছে বিজেপি। তাছাড়া স্রেফ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল দিয়ে পুরো দেশের ‘মুড’ নির্ধারণ করা যায় বলেও দাবি করেন সৌরভ।
'অধিকাংশ পড়ুয়াই সরকার-বিরোধী, কিন্তু তাঁরা বিভক্ত'

নিজের প্রথম 'পর্যবেক্ষণ' হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টির যুগ্ম-আহ্বায়ক দাবি করেন, ‘অধিকাংশ পড়ুয়াই বর্তমান সরকারের বিপক্ষে। তবে তাঁরা বিভক্ত। আর সেই কারণেই সরকার লাভবান হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও আশার আলো রয়েছে। যাঁরা বিভিন্ন পদে আসীন হচ্ছেন, তাঁদের মনে রাখা উচিত যে তাঁরা কোনও রাজা বা রানি নন; সংখ্যাগরিষ্ঠ পড়ুয়াই তাঁদের ভোট দেননি।’
বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া উচিত, মত সৌরভের
আর দ্বিতীয় 'পর্যবেক্ষণ' হিসেবে সৌরভ বলেন, ‘সিজেপিকে ব্যতিব্যস্ত করার পিছনে সময় ও শক্তি ব্যয় না করে কংগ্রেস এবং তাদের সাংগঠনিক শাখাগুলির উচিত নিজেদের ঘর গুছিয়ে নেওয়া। নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার এই প্রক্রিয়া গত ১২ বছর ধরে চলছে। আর মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। ঠিক যেমনটা দেখা গিয়েছে সেই বিদ্রোহী NSUI প্রার্থীর ক্ষেত্রে, যিনি সংগঠনের টিকিট না পেয়েও বিপুল ব্যবধানে সহ-সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন। সবাই নয়, তবে বামপন্থী জোটের একাংশ এখনও মতাদর্শগত বিশুদ্ধতা এবং নিজেদের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টিতেই অতিরিক্ত মনোযোগ দিচ্ছে। তাদের উচিত বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া - কারণ স্বীকৃতির জন্য কেউ তাদের কাছে ছুটে আসছে না।’
সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ‘কর্মসংস্থানের অভাব, ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা, জরাজীর্ণ স্কুল, মূল্যবৃদ্ধি ও ব্যাপক হতাশায় নিমজ্জিত কোটি-কোটি তরুণ ভারতীয়ের রাজনৈতিক মনোভাবকে কেবল একটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে বিচার করা কোনওভাবেই সঠিক নয়। বিশেষত ওই নির্বাচন পুরোপুরি অর্থ ও পেশিশক্তির জোরে করা হয়েছে।’
উত্তরাখণ্ডের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে তো ABVP হেরেছে, যুক্তি সৌরভের
পাশাপাশি সৌরভ দাবি করেছেন, মাত্র আটদিন আগেই উত্তরাখণ্ডের সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নির্বাচনে হেরে গিয়েছে এবিভিপি। দিল্লির কলেজের জেন-জি'দের থেকে সেই জেন-জি'দের মূল্য কি কম? তাঁর কথায়, ‘এই জাতির জন্য এটা অভিশাপ যে সরকার কেবল নির্বাচনকেই সাফল্যের মাপকাঠি বলে মনে করে। বিশেষ করে যখন ফলাফল থেকে এটা স্পষ্ট যে বিরোধী শিবিরের ভোট বিভাজনই তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার একমাত্র কারণ।’
আর সৌরভ সেইসব মন্তব্য করেছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরে। তাতে তিনটি পদই জিতেছে এবিভিপি। একটি জিতেছে নির্দল। সভাপতি পদে এবিভিপির জয়ের মার্জিন ছিল ২,০০০-র মতো। সম্পাদক পদে ৬,৭০০-র মতো ভোটে জিতেছে। আর যুগ্ম-সম্পাদক পদে জয়ের মার্জিন ৯০০-র কম ছিল। সৌরভ-সহ একাংশের দাবি, বিরোধী ভোট ভাগাভাগির কারণে শেষ হাসি হেসেছে এবিভিপি। যা প্রমাণ করছে যে বিরোধীদের ঐক্য কতটা জরুরি।