Disaster Information Alert System শনিবার সকালে ভারতের কয়েক কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর কাছে আচমকা সাইরেনের সঙ্গে একটি বিশেষ বার্তা ভেসে আসে। ফোনের স্ক্রিনে বড় অক্ষরে লেখা ছিল - ‘এমার্জেন্সি অ্যালার্ট: সিভিয়ার’ (Emergency Alert: Severe)। সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হলেও এটি আসলে ভারত সরকারের একটি পরিকল্পিত মহড়া বা টেস্টিং প্রসেস। কেন্দ্রীয় সরকারের টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDMA) যৌথভাবে ভারতের নিজস্ব 'এমার্জেন্সি অ্যালার্ট সিস্টেম' পরীক্ষা করছে।
কেন এই জরুরি সতর্কবার্তা?

প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন— ভূমিকম্প, সুনামি, বন্যা বা অন্য কোনো জাতীয় সংকটের সময় সাধারণ মানুষকে দ্রুত সতর্ক করার জন্য একটি শক্তিশালী ব্যবস্থার প্রয়োজন। বর্তমানে যে এসএমএস ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা হয়, তাতে একসঙ্গে লাখ-লাখ মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। কিন্তু এই নতুন ‘সেল ব্রডকাস্টিং সিস্টেম’ (Cell Broadcast System) ব্যবহার করে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার সমস্ত সচল মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব।
পরীক্ষামূলক বার্তার মূল উদ্দেশ্য
১) সিস্টেমটির কার্যকারিতা যাচাই করা।
২) বিভিন্ন টেলিকম অপারেটরদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই অ্যালার্ট ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে কিনা, তা দেখা।
৩) মোবাইল হ্যান্ডসেটগুলি এই প্রযুক্তি সাপোর্ট করছে কিনা, তা নিশ্চিত করা।
সেই বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে, ‘এটি ভারত সরকারের টেলিযোগাযোগ বিভাগ দ্বারা সেল ব্রডকাস্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে পাঠানো একটি নমুনা পরীক্ষামূলক বার্তা। অনুগ্রহ করে এটি উপেক্ষা করুন, কারণ আপনার পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।’
কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
{{/usCountry}}কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
{{/usCountry}}এই বিশেষ প্রযুক্তিটি ‘কমন অ্যালার্টিং প্রোটোকল’-র (CAP) ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি সাধারণ এসএমএস সার্ভিসের থেকে আলাদা। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, আপনার ফোন যদি ‘সাইলেন্ট’ বা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডেও থাকে, তবুও এই অ্যালার্টটি বিকট শব্দ এবং তীব্র কম্পন তৈরি করতে সক্ষম। এমনকী নেটওয়ার্ক জ্যাম থাকলেও এই বার্তা পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয় না। সি-ডট (C-DOT) দ্বারা উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকার নির্দিষ্ট কোনও রাজ্য, শহর বা এমনকী একটি নির্দিষ্ট ব্লকের মানুষের কাছে মুহূর্তের মধ্যে বার্তা পাঠাতে পারবে।
আরও পড়ুন: NEET 2026 Exam Advisory: এই ভুলটা করবেন না, NEET-র কয়েক ঘণ্টা আগে সতর্ক করল NTA, কী করতে হবে?
আতঙ্কের কারণ নেই: সরকারের আশ্বাস
হঠাৎ ফোনের এই আচরণে অনেক ব্যবহারকারী সমাজমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে ভারত সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, এটি সম্পূর্ণ একটি নিরাপদ পরীক্ষা। সারা ভারতে এই সিস্টেমটি চালু করার আগে এর ত্রুটি-বিচ্যুতি খতিয়ে দেখার জন্য পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজ্যে এই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এর আগে গত বছরও কয়েক দফায় এমন ট্রায়াল চালানো হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হার বাড়ছে, তাতে এই ধরণের ডিজিটাল সতর্কতা ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত সহায়ক হবে। দুর্যোগ আসার কয়েক মিনিট আগে যদি সঠিক তথ্য মানুষের হাতে পৌঁছায়, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব।