আগে আমরা সবাই জলে থাকতাম, ডাঙায় এলাম কীভাবে? আমাদের আদিম পূর্বপুরুষদের ‘মন বদল’ কেন হয়েছিল, বললেন বিজ্ঞানীরা
এক সময়ে সকলেই থাকত জলে। তার পরে ডাঙায় উঠে আসার দরকার কেন পড়ল? বিবর্তনের অজানা অধ্যায় দেখতে পেলেন বিজ্ঞানীরা।
পৃথিবীর বুকে প্রাণের স্পন্দন কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের শেষ নেই। আমরা জানি যে জীবনের আদি উৎস ছিল সমুদ্র। কিন্তু সম্প্রতি Phys.org-এ প্রকাশিত একটি যুগান্তকারী গবেষণা আমাদের আদিমতম সামুদ্রিক পূর্বপুরুষদের বিবর্তনীয় রহস্য উন্মোচন করেছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত এই গবেষণাটি জানাচ্ছে, কীভাবে সাধারণ কিছু সামুদ্রিক জীব থেকে আজকের জটিল প্রাণীকুল বিবর্তিত হয়েছে।

কোটি কোটি বছর আগে যখন পৃথিবী ছিল কেবল জলমগ্ন এক গ্রহ, তখন সমুদ্রের নোনা জলেই লুকিয়ে ছিল বিবর্তনের বীজ। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে চেষ্টা করছেন সেই 'লুপ্ত যোগসূত্র' (Missing Link) খুঁজে বের করতে, যা আমাদের বলে দেবে ঠিক কীভাবে এককোষী প্রাণী থেকে বহুকোষী জটিল প্রাণের উদ্ভব হয়েছিল। ২০২৬ সালের এই নতুন গবেষণাটি সেই রহস্যের জট খুলেছে।
(আরও পড়ুন: আলোর গতি তো জানেন, অন্ধকারের গতি কত জানেন কি? নতুন আবিষ্কার চমকে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের! বদলে যেতে পারে অনেক হিসাব)
সমুদ্রের সেই আদিম কারিগর
গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক প্রাণীদের প্রায় সব শারীরিক কাঠামোর ব্লু-প্রিন্ট বা নকশা তৈরি হয়েছিল কয়েক কোটি বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে। বিজ্ঞানীরা বিশেষ ধরণের সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণীর ডিএনএ এবং প্রোটিন গঠন বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, তাদের স্নায়ুতন্ত্র এবং পেশির আদি রূপ আজকের মানুষের গঠনের সাথে অবিশ্বাস্যভাবে মিলে যায়। এই আদিম জীবগুলোই ছিল বিবর্তনের প্রথম কারিগর।
জিনগত বিবর্তন ও অভিযোজন
বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের গভীরে অক্সিজেনের মাত্রা পরিবর্তন এবং খনিজ উপাদানের প্রাচুর্য এই বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছিল। আদিম সামুদ্রিক জীবরা যখন অগভীর জলের দিকে আসতে শুরু করল, তখন তাদের শরীরে নতুন ধরণের কোষীয় পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমেই তৈরি হয় মেরুদণ্ড, যা পরবর্তীতে মাছ থেকে শুরু করে উভচর এবং সবশেষে স্তন্যপায়ী প্রাণীর উদ্ভবের পথ প্রশস্ত করে। গবেষকরা একে বলছেন 'জেনেটিক জাম্প' বা জিনগত লাফ।
কেন এই গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ?
এই আবিষ্কারটি কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। আমাদের শরীরের অনেক রোগ বা জিনগত ত্রুটির মূল উৎস লুকিয়ে আছে সেই প্রাচীন সামুদ্রিক ডিএনএ-র ভেতরে। আমাদের আদিম পূর্বপুরুষদের বিবর্তন বুঝতে পারলে আমরা অনেক বংশগত রোগের উৎস এবং তার প্রতিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাব।

বিবর্তনের অবিরাম যাত্রা
সমুদ্র থেকে ডাঙায় আসার এই যাত্রাটি সহজ ছিল না। কয়েক লক্ষ বছরের অভিযোজন, লড়াই এবং পরিবর্তনের ফসল আজকের এই জীববৈচিত্র্য। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গবেষণা প্রমাণ করে যে আমরা সবাই শেষ পর্যন্ত সমুদ্রের সন্তান। আমাদের রক্তে এখনও সেই আদিম সমুদ্রের নোনা স্বাদ এবং কোষের ভেতরে সেই প্রাচীন ডিএনএ-র সংকেত বহন করে চলেছি।
(আরও পড়ুন: সল্ট লেকের গভীরে মিলল বিশাল পানীয় জলের আধার, নোনা জলের নিচে মিষ্টির হদিশ! প্রকৃতির খেলায় হতবাক বিজ্ঞানীরা)
২০২৬ সালের এই আবিষ্কার বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের এক নতুন মাইলফলক। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির প্রতিটি ক্ষুদ্র প্রাণীর সাথে আমাদের এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সমুদ্রের গভীরে জন্ম নেওয়া সেই আদিম স্পন্দনই আজ মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং সভ্যতায় রূপান্তরিত হয়েছে। আমরা যত গভীরে অনুসন্ধান করব, ততই আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের শিকড় খুঁজে পাব।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


