ধোঁয়া সহ্য করতে পারতাম বলেই এগিয়ে গেলাম আমরা, পিছিয়ে গেল অন্য প্রজাতি! শরীরটাও বদলে গেল ভিতর থেকে, বলছে হালের গবেষণা

ধোঁয়ার কারণে বদলে গিয়েছিল DNA। সেই কারণেই নাকি এতটা পথ চলে আসতে পেরেছি আমরা। হারিয়ে গিয়েছে অন্য প্রজাতিরা। এমনই বলছে হালের গবেষণা।

Published on: Mar 19, 2026, 10:57:47 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মানুষের আদিমতম আবিষ্কারগুলোর মধ্যে 'আগুন' অন্যতম। আগুনের ব্যবহার কেবল আমাদের রান্না করা খাবার বা নিরাপত্তা দেয়নি, বরং এটি আমাদের শরীরের গভীরে থাকা ডিএনএ (DNA)-তেও চিরস্থায়ী পরিবর্তন এনেছে। পপুলার সায়েন্স (Popular Science)-এ প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে জীববিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ধোঁয়া সহ্য করতে পারতাম বলেই এগিয়ে গেলাম আমরা, পিছিয়ে গেল অন্য প্রজাতি
ধোঁয়া সহ্য করতে পারতাম বলেই এগিয়ে গেলাম আমরা, পিছিয়ে গেল অন্য প্রজাতি

প্রায় ১০ লক্ষ বছর আগে যখন আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রথম আগুনের নিয়ন্ত্রণ শিখল, তখন থেকেই মানব প্রজাতির ইতিহাস বদলে যেতে শুরু করে। আগুন আমাদের শীত থেকে বাঁচিয়েছে, অন্ধকার দূর করেছে এবং হিংস্র পশুর হাত থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আগুনের ধোঁয়ায় থাকা বিষাক্ত পদার্থের সাথে লড়াই করতে গিয়ে আমাদের ডিএনএ-তে এক বিশেষ ধরণের অভিযোজন বা 'মিউটেশন' ঘটেছে, যা অন্য কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে দেখা যায় না।

(আরও পড়ুন: বাঁচতে নয়, নিজেদের পছন্দেই অন্য প্রজাতির সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হত আদিম নারী, আজও আমাদের রক্তে আছে তাদের চিহ্ন! বলছে গবেষণা)

আগুনের ধোঁয়া ও বিষক্রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই

আগুনের ধোঁয়ায় প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন থাকে, যা ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে এবং ডিএনএ-তে পরিবর্তন এনে ক্যান্সার ঘটাতে পারে। আদিম মানুষ যখন গুহার ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে থাকতে শুরু করল, তখন তারা প্রতিনিয়ত এই ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসত। পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, এই ধোঁয়ার বিষক্রিয়া সহ্য করার জন্য মানুষের শরীরে একটি বিশেষ জিনের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনটি আমাদের শরীরকে ধোঁয়ার বিষাক্ত পদার্থগুলো আরও দ্রুত ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে।

কেন অন্য প্রাণীদের মধ্যে এই পরিবর্তন নেই?

গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়ানডার্থাল (Neanderthals) বা ডেনিসোভানদের (Denisovans) মতো আদিম প্রজাতির মানুষের মধ্যে এই বিশেষ ডিএনএ মিউটেশন ছিল না। ফলে তারা আগুনের ধোঁয়ায় অনেক বেশি সংবেদনশীল ছিল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই জেনেটিক সুবিধার কারণেই আধুনিক মানুষ বা 'হোমো সেপিয়েন্স' দীর্ঘ সময় আগুনের পাশে থেকেও সুস্থ থাকতে পেরেছে এবং শেষ পর্যন্ত পৃথিবীতে আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছে।

(আরও পড়ুন: ২০০ বছরের বেশি হয়ে যেতে পারে মানুষের আয়ু, তিমি মাছের থেকে সামান্য সাহায্য দরকার! বলছে গবেষণা)

রান্না করা খাবার ও মস্তিষ্কের বিকাশ

আগুনের ব্যবহারের ফলে রান্নার প্রচলন শুরু হয়। রান্না করা খাবার হজম করা কাঁচা খাবারের চেয়ে অনেক সহজ। এর ফলে আমাদের শরীরের হজম শক্তির পেছনে ব্যয় হওয়া শক্তির একটি বড় অংশ বেঁচে যায়, যা সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করেছে। রান্নার ফলেই আমাদের চোয়ালের হাড় ছোট হয়েছে এবং মস্তিষ্কের আকার বড় হয়েছে। এই পরিবর্তনের ছাপও আমাদের ডিএনএ-তে স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।

(আরও পড়ুন: মানুষের মূত্রের স্ক্রিস্টাল থেকে ৪৮ কোটি তামার সূচ, মহাকাশে আজও ভেসে বেড়াচ্ছে এসব! শুনলে চমকে যাবেন)

বর্তমান যুগে আগুনের ডিএনএ-র প্রভাব

হাজার হাজার বছর আগের সেই জিনগত পরিবর্তন আজও আমাদের শরীরে বর্তমান। বর্তমানে আমরা যখন কলকারখানার ধোঁয়া বা সিগারেটের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসি, তখন আমাদের শরীরের সেই আদিম মেকানিজম আমাদের রক্ষা করার চেষ্টা করে। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, বিবর্তন আমাদের ধোঁয়া সহ্য করার ক্ষমতা দিলেও বর্তমান সময়ের অতিরিক্ত বায়ুদূষণ সেই সীমাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

ধোঁয়াই বদলে দিয়েছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের
ধোঁয়াই বদলে দিয়েছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের

(আরও পড়ুন: মন থেকে হিংসা দূর হতেই তৈরি হয়েছিল এই অঙ্গ, এখন কোনও কাজেই লাগে না! যদিও মাথা খাটাতে গেলেই হাত যায় এখানে, বলছে গবেষণা)

আগুন কেবল একটি বাহ্যিক আবিষ্কার ছিল না, এটি ছিল আমাদের শরীরের ভেতরে ঘটে যাওয়া এক নীরব বিপ্লব। আগুনের শিখাই আমাদের ডিএনএ-কে এমনভাবে গড়েছে যাতে আমরা বুদ্ধিমান ও সহনশীল হয়ে উঠতে পারি। আজকের আধুনিক সভ্যতা সেই আদিম আগুনের কাছে চিরঋণী, যা আমাদের জিনগতভাবে 'মানুষ' হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More