মানুষের মূত্রের স্ক্রিস্টাল থেকে ৪৮ কোটি তামার সূচ, মহাকাশে আজও ভেসে বেড়াচ্ছে এসব! শুনলে চমকে যাবেন
পৃথিবীর বাইরে আজও রয়ে গিয়েছে অদ্ভুত সব জিনিস। মানুষের মূত্রের ক্রিস্টাল থেকে কোটি কোটি তামার সূচ। কেন এরা আজও সেখানে রয়ে গিয়েছে, জেনে নিন।
মহাকাশ মানেই কেবল গ্রহ, নক্ষত্র আর ছায়াপথ নয়। মানুষের মহাকাশ অভিযানের কয়েক দশকে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে শুরু করে সৌরজগতের সীমানা পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আমাদেরই তৈরি অদ্ভুত সব বস্তু। এর মধ্যে কোনোটি বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাক্ষী, কোনওটি আবার মহাজাগতিক আবর্জনা বা শিল্পকলার নিদর্শন।

(আরও পড়ুন: )
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে কিছু ঘটনা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই কিছু বস্তু সেখানে উপস্থিত থাকাটা বেশ অদ্ভুত বলে মনে হতে পারে। নিচে এই ছয়টি বিশেষ বস্তুর রহস্য উন্মোচন করা হলো:
১. মানুষের মূত্রের ক্রিস্টাল (Urine Crystals)
মহাকাশচারীরা যখন স্পেস শাটল বা অ্যাপোলো মিশনে যেতেন, তখন বর্জ্য নিষ্কাশন ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। শুরুর দিকের মিশনগুলোতে মহাকাশচারীদের মূত্র মহাকাশে সরাসরি ফেলে দেওয়া হত। শূন্য মহাকাশের প্রচণ্ড ঠান্ডায় এই তরলটি মুহূর্তের মধ্যে বরফে পরিণত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্ফটিক বা ক্রিস্টালে রূপান্তরিত হতো। সূর্যালোকে এই ক্রিস্টালগুলো নক্ষত্রের মতো ঝিকমিক করত। বিখ্যাত মহাকাশচারী ওয়ালি শিরা একবার রসিকতা করে একে বলেছিলেন, ‘মহাকাশের সবথেকে সুন্দর দৃশ্য।’
(আরও পড়ুন: ডাইনোসরের আগে থেকে পৃথিবীতে আছে এই মাছগুলি! এর মধ্যে একটি তো সকলেরই চেনা)
২. ভয়েজারের গোল্ডেন রেকর্ড (Voyager Golden Record)
১৯৭৭ সালে নাসা ‘ভয়েজার ১’ এবং ‘ভয়েজার ২’ মহাকাশযান দুটি উৎক্ষেপণ করে। এই দুটিতেই রয়েছে একটি করে তামা দিয়ে তৈরি এবং সোনা দিয়ে মোড়ানো ১২ ইঞ্চির গ্রামোফোন রেকর্ড। যদি কখনও ভিনগ্রহের উন্নত কোনো সভ্যতা এই যানটির সন্ধান পায়, তবে তারা যেন পৃথিবীর পরিচয় পায়—সেই উদ্দেশ্যেই এটি পাঠানো। এতে রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার শুভেচ্ছা বাণী, বৃষ্টির শব্দ, পাখির ডাক এবং মোজার্ট ও বিটোভেনের ধ্রুপদী সঙ্গীত। এটি বর্তমানে আমাদের সৌরজগতের বাইরে আন্তঃনক্ষত্র মহাকাশে ভেসে চলেছে।
৩. কেসলার ক্লাউড (Kessler Cloud)
এটি কোনো একক বস্তু নয়, বরং মহাকাশ গবেষণার এক ভয়াবহ অভিশাপ। ডোনাল্ড কেসলার নামক এক বিজ্ঞানী এই তত্ত্ব দিয়েছিলেন। মানুষের ফেলে আসা পুরনো রকেট অংশ, বিকল স্যাটেলাইট এবং তাদের সংঘর্ষে তৈরি হওয়া লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র টুকরো পৃথিবীর কক্ষপথে এক মেঘের মতো বলয় তৈরি করেছে। একেই ‘কেসলার সিনড্রোম’ বা কেসলার ক্লাউড বলা হয়। এই আবর্জনাগুলো এতটাই দ্রুত গতিতে ঘোরে যে, একটি ছোট বল্টুও একটি সক্রিয় মহাকাশযানকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
৪. ৪৮ কোটি তামার সূচ (Project West Ford)
১৯৬০-এর দশকের শুরুতে কোল্ড ওয়ারের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ওয়েস্ট ফোর্ড’ নামে একটি পরীক্ষা চালায়। তারা পৃথিবীর চারপাশে একটি কৃত্রিম রেডিও প্রতিফলন বলয় তৈরি করতে ৪৮ কোটি অত্যন্ত পাতলা তামার সূচ মহাকাশে ছড়িয়ে দিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘ দূরত্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। যদিও আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তির কারণে এর প্রয়োজন ফুরিয়েছে, কিন্তু সেই সূচগুলোর অনেকগুলোই আজও পৃথিবীর কক্ষপথে ভাসমান আবর্জনা হিসেবে রয়ে গিয়েছে।
৫. মুন মিউজিয়াম (Moon Museum)
চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পা রাখার বছরেই (১৯৬৯) একটি অতি ক্ষুদ্র সিরামিক ওয়েফার বা চিপ চাঁদে রেখে আসা হয়েছিল। এটি ছিল বিশ্বের প্রথম ‘মহাকাশ যাদুঘর’। এতে অ্যান্ডি ওয়ারহলসহ তৎকালীন ছয়জন বিখ্যাত শিল্পীর আঁকা ছবি ছিল। চিপটি এতটাই ছোট ছিল যে এটি অ্যাপোলো ১২ ল্যান্ডারের একটি পায়ার সাথে গোপনে সেঁটে দেওয়া হয়েছিল। এটি আজও চাঁদের ধুলোয় মানুষের সৃজনশীলতার স্বাক্ষর বহন করছে।
(আরও পড়ুন: এই সময়ের সবচেয়ে রহস্যময় শিল্পী, অবশেষে খসে গেল মুখোশ! আড়ালের মুখটা দেখে হতবাক দুনিয়া)
৬. লেগো মিনি ফিগার (Lego Minifigures)
নাসার ‘জুনো’ (Juno) মহাকাশযান যখন বৃহস্পতি গ্রহের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়, তখন তার সাথে যাত্রী হিসেবে ছিল তিনটি ছোট লেগো মূর্তি বা মিনি ফিগার। অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি এই তিনটি মূর্তির মধ্যে ছিল রোমান দেবতা জুপিটার, তাঁর স্ত্রী জুনো এবং বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি। শিশুদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করতেই নাসা এই অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছিল। বর্তমানে জুনো যানের সাথে এই লেগো মূর্তিগুলো বৃহস্পতির কক্ষপথে ঘুরপাক খাচ্ছে।
(আরও পড়ুন: আকাশছোঁয়া গ্যাসের দাম! রান্নায় আনুন এই সামান্য বদল, মাসের শেষে বাঁচবে বিপুল টাকা)
মহাকাশে ভাসমান এই প্রতিটি বস্তু আমাদের সভ্যতার অগ্রগতির একেকটি গল্প বলে। কোনোটি আমাদের বর্জ্য, কোনোটি আমাদের শিল্পবোধ, আবার কোনোটি ভিনগ্রহের বন্ধুদের জন্য আমাদের বন্ধুত্বের বার্তা। মহাবিশ্বের অসীমতায় এই ক্ষুদ্র বস্তুগুলোই একদিন হয়তো মানুষের অস্তিত্বের একমাত্র প্রমাণ হয়ে থেকে যাবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


