২০০ বছরের বেশি হয়ে যেতে পারে মানুষের আয়ু, তিমি মাছের থেকে সামান্য সাহায্য দরকার! বলছে গবেষণা

২০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে মানুষ। দরকার একটু সাহায্য। এবং সেটিও তিমি মাছের থেকে। মুছে যেতে পারে ক্যানসার, অ্যালজাইমার্স ডিজিসের মতো অসুখও। 

Published on: Mar 19, 2026, 06:40:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মানুষের গড় আয়ু বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, অদূর ভবিষ্যতে মানুষ ২০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে—এমনই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘায়ু হওয়ার এই রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে সমুদ্রের বিশালকায় প্রাণী তিমির ডিএনএ-তে। বিজ্ঞানীরা বর্তমানে তিমির জেনোম বিশ্লেষণ করে মানুষের বার্ধক্য থামানোর উপায় খুঁজছেন।

২০০ বছরের বেশি হয়ে যেতে পারে মানুষের আয়ু, তিমি মাছের থেকে সামান্য সাহায্য দরকার! বলছে গবেষণা
২০০ বছরের বেশি হয়ে যেতে পারে মানুষের আয়ু, তিমি মাছের থেকে সামান্য সাহায্য দরকার! বলছে গবেষণা

বিবর্তন বিজ্ঞানের ইতিহাসে দীর্ঘায়ু হওয়া নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই। সাধারণত দেখা যায়, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে যাদের শরীরের আকার বড়, তাদের আয়ুও বেশি হয়। তবে তিমির ক্ষেত্রে বিষয়টি বিস্ময়কর। বিশেষ করে 'বো-হেড' (Bowhead Whale) প্রজাতির তিমি ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তিমির এই বিশেষ ক্ষমতা যদি মানুষের জিনতত্ত্বে প্রয়োগ করা যায়, তবে মানুষের আয়ুও বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ করা সম্ভব।

(আরও পড়ুন: ডাইনোসরের আগে থেকে পৃথিবীতে আছে এই মাছগুলি! এর মধ্যে একটি তো সকলেরই চেনা)

তিমির দীর্ঘায়ুর নেপথ্যে কী কাজ করে?

গবেষকদের মতে, তিমির শরীরে এমন কিছু বিশেষ জিন রয়েছে যা কোষের মেরামত (Cell Repair) করতে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম। সাধারণত দীর্ঘ জীবনে কোষের বিভাজনের সময় ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা থেকে ক্যান্সার বা বার্ধক্যজনিত রোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু তিমির শরীরে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীর গতির। তাদের জেনোম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা অতি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ মেরামত করতে পারে।

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল

মানুষের শরীরে যত বেশি কোষ থাকে, ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি তত বেশি থাকে। সেই হিসেবে তিমির মতো দানবীয় প্রাণীর অনেক আগেই ক্যান্সারে মারা যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে না। এই রহস্যকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘পেটো’স প্যারাডক্স’ (Peto’s Paradox) বলা হয়। তিমির শরীরে থাকা বিশেষ অ্যান্টি-ক্যান্সার জিনগুলো টিউমার বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। বিজ্ঞানীরা যদি এই জিনোম সিকোয়েন্স মানুষের জন্য কার্যকর কোনো থেরাপিতে রূপান্তর করতে পারেন, তবে অকাল মৃত্যু ঠেকানো অনেক সহজ হবে।

(আরও পড়ুন: বাঁচতে নয়, নিজেদের পছন্দেই অন্য প্রজাতির সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হত আদিম নারী, আজও আমাদের রক্তে আছে তাদের চিহ্ন! বলছে গবেষণা)

২০০ বছর বাঁচার সম্ভাবনা কতটা বাস্তব?

ইউনিভার্সিটি অফ লিভারপুলের বিজ্ঞানীরা প্রথমবার এই বো-হেড তিমির জেনোম ম্যাপ তৈরি করেছেন। তাঁদের মতে, মানুষের আয়ু বাড়ানোর জন্য কেবল ওষুধ নয়, বরং জেনেটিক এডিটিং বা জিন থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। তিমির দীর্ঘায়ুর জন্য দায়ী জিনগুলো শনাক্ত করে যদি মানুষের কোষের বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করা যায়, তবে ২০০ বছর পর্যন্ত সুস্থভাবে বেঁচে থাকা অসম্ভব নয়। এটি কেবল দীর্ঘ জীবন নয়, বরং বৃদ্ধ বয়সেও কর্মক্ষম থাকা এবং রোগমুক্ত জীবন যাপনের এক নতুন দিশা দেখাবে।

(আরও পড়ুন: মানুষের মূত্রের স্ক্রিস্টাল থেকে ৪৮ কোটি তামার সূচ, মহাকাশে আজও ভেসে বেড়াচ্ছে এসব! শুনলে চমকে যাবেন)

মানুষের আয়ু হবে ২০০ বছর?
মানুষের আয়ু হবে ২০০ বছর?

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রভাব

এই গবেষণা সফল হলে আলঝেইমার, পারকিনসন বা হৃদরোগের মতো বার্ধক্যজনিত সমস্যাগুলো ইতিহাসের পাতায় চলে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা বর্তমানে ইঁদুর এবং অন্যান্য প্রাণীর ওপর তিমির এই বিশেষ জিনগত বৈশিষ্ট্যগুলো পরীক্ষা করছেন। যদিও মানুষের ওপর এর প্রয়োগ নিয়ে নৈতিক ও প্রযুক্তিগত অনেক বিতর্ক রয়েছে, তবুও তিমির এই জৈবিক কৌশল আগামী দিনে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটাতে পারে।

(আরও পড়ুন: এই সময়ের সবচেয়ে রহস্যময় শিল্পী, অবশেষে খসে গেল মুখোশ! আড়ালের মুখটা দেখে হতবাক দুনিয়া)

প্রকৃতি সবসময়ই আমাদের অবাক করে দেয়। গভীর সমুদ্রের নীল তিমির জেনোমে যে মানুষের অমরত্বের ইঙ্গিত লুকিয়ে থাকতে পারে, তা কয়েক দশক আগেও ছিল অকল্পনীয়। হয়তো আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই এমন দিন আসবে যখন মানুষের কাছে শতবর্ষ পার করা হবে এক অতি সাধারণ ঘটনা।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More