IAS Officer Padma Jaiswal Removal: ২৩ সালের কেরিয়ার, ২০০৭ সালে ‘টাকার দুর্নীতি’- বরখাস্ত হওয়া IAS অফিসার পদ্মা কে?
IAS Officer Padma Jaiswal Removal: ২৩ সালের দীর্ঘ কেরিয়ার, ২০০৭ সালে ‘টাকার দুর্নীতি’- বরখাস্ত হলেন আইএএস অফিসার পদ্মা জয়সওয়াল। তাঁকে বরখাস্ত করার আদেশনামায় স্বাক্ষর করেছেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
IAS Officer Padma Jaiswal Removal: ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ঘটল। ২০০৩ ব্যাচের প্রবীণ আইএএস (IAS) অফিসার পদ্মা জয়সওয়ালকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ ২৩ বছর দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করার পর তাঁর এই বহিষ্কার ভারতের আমলাতান্ত্রিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁকে বরখাস্ত করার জন্য যে আদেশনামা তৈরি করা হয়, তাতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু স্বাক্ষর করেন। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরের সুপারিশের ভিত্তিতে ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি স্বয়ং এই বরখাস্তের আদেশে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন।

কী ছিল ১৮ বছর আগের সেই অপরাধ?
পদ্মা জয়সওয়ালের বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কিন্তু রাতারাতি নেওয়া হয়নি। এর পিছনে রয়েছে প্রায় ১৮ বছর পুরোনো একটি গুরুতর আর্থিক কেলেঙ্কারি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ইতিহাস। ঘটনাটি ২০০৭-০৮ সালের, যখন তিনি অরুণাচল প্রদেশের পশ্চিম কামেং জেলায় ডেপুটি কমিশনার পদে কর্মরত ছিলেন।
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি পদের অপব্যবহার এবং সরকারি তহবিল তছরুপের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলার পরে ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসেই তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীকালে ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে তাঁর সেই সাসপেনশন প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়। কিন্তু বিভাগীয় তদন্তের ফাইল বন্ধ হয়নি। দীর্ঘ বছর ধরে চলা সেই তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার পরই রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে এই চূড়ান্ত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হল।
কে এই পদ্মা জয়সওয়াল? এক নজরে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার
২০০৩ সালে মর্যাদাপূর্ণ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইএএস অফিসার হিসেবে নিজের প্রশাসনিক কেরিয়ার শুরু করেছিলেন পদ্মা জয়সওয়াল। তিনি সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করার পর পঞ্জাব ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতাও ছিল অত্যন্ত ঈর্ষণীয়। তিনি ইনস্টিটিউট অফ কোম্পানি সেক্রেটারি অফ ইন্ডিয়া (ICSI) থেকে প্রত্যয়িত কোম্পানি সেক্রেটারি (CS) ছিলেন এবং পূর্বে ইউজিসি (UGC) রিসার্চ ফেলো হিসেবেও কাজ করেছেন। ব্যবসা প্রশাসন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং আইনি পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের মতো জটিল বিষয়ে তাঁর দখল ছিল।
তাঁর দুই দশকেরও বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি এজিএমইউটি (AGMUT) ক্যাডারের অধীনে অরুণাচল প্রদেশ, দিল্লি, গোয়া এবং পুডুচেরির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একাধিক শীর্ষস্থানীয় পদের দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তীতে সিবিআই চার্জশিট পেশ করে। মামলা গড়ায় দিল্লি হাইকোর্টেও।
খবরটি নিয়ে কী বলছেন বরখাস্ত আইএএস?
সংবাদমাধ্যম 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এই বরখাস্তের খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর পদ্মা জয়সওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


