IIT Success Story: মধ্যপ্রদেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের ১৯ বছরের ওভাইস মনসুরি। নিজের অদম্য ইচ্ছা, কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে ‘আইআইটি বম্বে’-তে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যের গল্প বর্তমান প্রজন্মের হাজারো পরীক্ষার্থীর জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
অষ্টম শ্রেণিতেই বুনেছিলেন আইআইটির স্বপ্ন
‘আইআইটি বম্বে’-তে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন ওভাইস মনসুরি। (ফাইল ছবি)
{{^htLoading}} {{/htLoading}}
ওভাইসের মনে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন হঠাৎ করে জাগেনি। যখন তিনি মাত্র অষ্টম শ্রেণির ছাত্র, তখনই স্থির করেছিলেন যে ভবিষ্যতে দেশের একজন সেরা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল সুনির্দিষ্ট - আইআইটি বম্বে। এই বড় স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দশম শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করেই তিনি পাড়ি জমান দেশের ‘কোচিং হাব’ রাজস্থানের কোটায়। সেখানে গিয়েই শুরু হয় তাঁর জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার কঠোর প্রস্তুতি।
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে 'ড্রপ ইয়ার'-র সাহসী সিদ্ধান্ত
কোটায় দিন-রাত এক করে পড়াশোনা করার পর ওভাইস দ্বাদশ শ্রেণির সঙ্গেই প্রথমবার জেইই পরীক্ষা দেন। প্রথম অ্যাটেম্পটে তিনি ওবিসি (OBC) ক্যাটাগরিতে ৩৮ তম র্যাঙ্ক অর্জন করেন। এই ফলাফলের ভিত্তিতে দেশের যে কোনও শীর্ষস্তরের এনআইটি বা নামী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অনায়াসেই সুযোগ পেয়ে যেতেন তিনি। কিন্তু ওভাইস এই ফলাফলে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কারণ তাঁর মনে-প্রাণে জড়িয়ে ছিল কেবল আইআইটি বম্বের ‘সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং’ ব্রাঞ্চ।
সাধারণত শিক্ষার্থীরা যে কলেজ বা ব্রাঞ্চ পায়, তা নিয়েই পড়াশোনা শুরু করে দেয়। কিন্তু ওভাইস সেখানে এক সাহসী ও ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। কোনও সাধারণ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হয়ে তিনি একটি বছর ‘ড্রপ’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তিনি মধ্যপ্রদেশে চলে আসেন এবং কোনও বড় কোচিং সেন্টারে না গিয়ে একটি শান্ত ঘরে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় ‘সেলফ স্টাডি’ শুরু করেন।
ভোর ৫টা থেকে লড়াই এবং ডিজিটাল দুনিয়া থেকে নির্বাসন
{{^htLoading}} {{/htLoading}}
ওভাইস জানান, তাঁর প্রতিদিনের রুটিন শুরু হত ভোর পাঁচটায়। সারাদিন নিয়ম মেনে আট থেকে ১০ ঘণ্টা গভীর মনোযোগের সাথে পড়াশোনা করতেন তিনি। এই দীর্ঘ প্রস্তুতির সময়ে তাঁর সাফল্যের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি ছিল ডিজিটাল দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকা। আজকের দিনে যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণের প্রধান কারণ, সেখানে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে রেখেছিলেন।
অবশেষে যখন চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়, দেখা যায় ওভাইস মনসুরি সর্বভারতীয় স্তরে ১৮৫৬ র্যাঙ্ক অর্জন করেছেন। এর সঙ্গে-সঙ্গেই প্রথম রাউন্ডের কাউন্সেলিংয়েই পূরণ হয় তাঁর আজীবনের স্বপ্ন— আইআইটি বম্বেতে প্রিয় ‘সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিভাগে পড়ার সুযোগ পান তিনি।
অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা:
নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা:
অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।
Home/News/IIT Success Story: সোশ্যাল মিডিয়া 'ব্যান', ভোর ৫ টায় ওঠা- ১ বছর ড্রপ নিয়ে কীভাবে IIT-তে সুযোগ পেলেন মনসুরি?
{{^htLoading}}
Advertisement
{{/htLoading}}
SHARE THIS ARTICLE ON
{{#usCountry}}{{/usCountry}}
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe