রাশিয়া একগুচ্ছ লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছে। তবে পঞ্চম প্রজন্মের ‘স্টেলথ’ ফাইটার জেট সুখোই-৫৭ যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি ভারত সরকার। নির্দিষ্টভাবে রাশিয়ার নাম না করলেও সংবাদমাধ্যম এনডিভিটির ডিফেন্স সামিটে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরকে সিং জানিয়েছেন, আপাতত বিদেশ থেকে পঞ্চম প্রজন্মের কোনও যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সেই পরিস্থিতিতে ‘স্টেলথ’ (রেডারে ধরা যাবে না) AI নেটওয়ার্কের উপরে আস্থা রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব।
আধুনিক যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ‘স্টেলথ’-র গুরুত্ব

আসলে আধুনিক যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ‘স্টেলথ’ প্রযুক্তি (পঞ্চম প্রজন্ম বা ফিফথ জেনারেশন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমেরিকার হাতে তো স্টেলথ যুদ্ধবিমান আছেই। তবে ভারতের জন্য সবথেকে দুশ্চিন্তার বিষয় হল যে চিনও রেডারকে ফাঁকি দেওয়া জে-২০ এবং জে-৩৫ যুদ্ধবিমান ওড়াচ্ছে। যে যুদ্ধবিমান পাকিস্তানও পাবে।
২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর হবে AMCA-র প্রোটোটাইপ আসতে
কিন্তু ভারত এখনও পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান থেকে অনেক দূরে আছে। ভারতের যে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট AMCA, তা ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হতে এখনও কয়েক বছর লেগে যাবে। খোদ প্রতিরক্ষা সচিব জানিয়েছেন, AMCA-র প্রথম প্রোটোটাইপ আসতেই ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর হয়ে যাবে। সেই পরিস্থিতিতে রেডার ফাঁকি দেওয়ার মতো যুদ্ধবিমানের ঘাটতি নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।
তেজসই টেক্কা দেবে চিনের পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেটকে
{{/usCountry}}তেজসই টেক্কা দেবে চিনের পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেটকে
{{/usCountry}}আর সেখানেই ভারতের AI নেটওয়ার্ক কার্যকর হয়ে উঠবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব। ওই সামিটে তিনি জানিয়েছেন, চিনা জে-২০ এবং জে-৩৫ ফাইটার জেটের যে স্টেলথ বৈশিষ্ট্য আছে, তা ভারতের নিজস্ব তেজস যুদ্ধবিমানে থাকবে না। কিন্তু রেডার ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ক্ষেত্রে আরও অন্যান্য উপায় আছে। ভালো প্রযুক্তির সঙ্গে অত্যাধুনিক নেটওয়ার্ককে মিশিয়ে দিয়ে এমন অনেক কাজ করা যায়, যা ভাবাও যায় না। তথাকথিত স্টেলথ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ফারাক থাকলেও নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব।
আরও পড়ুন: NEET PG 2026: বায়ুসেনার দায়িত্ব সামলে পড়াশোনা! নিট পিজি-তে বাজিমাত ড. পাল্লাক্ষী প্রসাদের
সেই রেশ ধরে তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় বায়ুসেনার যে ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম আছে, তা দুর্দান্ত। সেটিকে এখন ভারতীয় সেনার নেটওয়ার্ক এবং এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকে (তেজস বা রাফাল যুদ্ধবিমান) আরও ক্ষুরধার করে তোলার ক্ষেত্রে AI-র বাড়তি স্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব।