কানাডায় ট্রুডো আমলে নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের পর দিল্লি ও ওটাওয়ার সম্পর্ক বেশ কিছুটা তলানিতে ঠেকেছে। এরপর কানাডার তখতে বর্তমানে মার্ক কার্নির সরকার। সদ্যই যাঁকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে দিল্লি। এই কার্নির সঙ্গে সদ্য জোহানেসবার্গে জি ২০ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী। বহু পর্ব পর, দুই দেশ যখন পুরনো তিক্ততা ভুলে কাছাকাছি আসছে, ঠিক তখনই কানাডার বুকে ভারত বিরোধী স্লোগান শোনা গেল খলিস্তানপন্থীদের তরফে। শুধু তাইই নয়, সেখানে ভারতীয় পতাকার অবমাননাও হয়েছে।

ভারতে নিষিদ্ধ সংগঠন 'শিখস ফর জাস্টিস' কানাডার ওটাওয়ার রাস্তায় নেমে 'আনঅফিশিয়াল রেফারেন্ডাম' র আয়োজন করে। সেই শিবির থেকেই ভারতীয় পতাকার অবমাননা হয়। এখানেই তাঁরা থামেননি। সেখানে ভারতীয় নেতা মন্ত্রীদের নামে ‘তাঁদের খুন’র হুমকির স্লোগানও দেওয়া হয়। একই স্লোগানে হুমকির বার্তা যায় ভারতীয় কূটনীতিকদের। প্রসঙ্গত, ভারতের তরফে ওট্টাওয়াতে বর্তমানে রাষ্ট্রদূত দীনেশ পট্টনায়ক। সদ্য তিনি এক সাক্ষাৎকারে দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করে নেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। এবিষয়ে সদ্য তিনি লরেন্স গ্যাং-র অনমোল বিষ্ণোই-র প্রত্যর্পণ ইস্যুর কথা তোলেন। পাশাপাশি পট্টনায়ক বলেছিলেন,' এই গ্যাংগুলির সম্পর্কে আমাদের কাছে যতই গোয়েন্দা তথ্য থাকুক না কেন.. বিষ্ণোই গ্যাং এবং শিখ গ্যাং উভয়ই এখানে কাজ করছে এবং বিশ্বব্যাপী কার্টেলের সাথে যুক্ত, আমরা তা ভাগ করে নিচ্ছি।' ওই সাক্ষাৎকারে পট্টনায়েক বলেন,'গত ৪০ বছর ধরে, আমরা এয়ার ইন্ডিয়ার কনিষ্ক বোমা হামলার পর থেকে কানাডার অভ্যন্তরে চরমপন্থীদের উপস্থিতি নিয়ে কথা বলে আসছি। আমরা এই বিষয়টি উত্থাপন করে প্রমাণ সরবরাহ করে আসছি।'
এদিকে, ওট্টাওয়ায় ম্যাকন্যাব কমিউনিটি সেন্টারের কাছে, সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ৩ টে পর্যন্ত খলিস্তানি সমর্থকরা তাদের হলুদ পতাকা সঙ্গে নিয়ে সেখানে ভোটিং চালান। সংগঠনের দাবি, দুই কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে সেদিন গোটা কানাডা থেকে প্রায় ৫৩ হাজার জন সেখানে জড়ো হন।