UPSC Civil Serivces Success Story: মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পরই বাবার মৃত্যু হয়েছিল। তারপর নিজেই বাবার সাইকেল দোকান চালানো শুরু করেন। বন্ধ হয়ে যায় পড়াশোনা। কিন্তু ছেলের পড়াশোনা শুরু করতে তাঁর মা'ই সাইকেলের দোকান চালাতে শুরু করেন। আর সেই মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার বরুণ বরণওয়াল ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস দিয়ে হলেন আইএএস অফিসার।
১৬ বছরেই বাবার মৃত্যু হয় বরুণের

২০০৬ সালে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা দেওয়ার ঠিক তিনদিন পরই বরুণের বাবা মারা যান। সেইসময় তাঁর বয়স ছিল ১৬। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীর ব্যক্তির প্রয়াণে পরিবারের উপর আকাশ ভেঙে পড়েছিল। তিনি সাইকেলের দোকান চালাতেন। বাবার মৃত্যুর পরে বাধ্য হয়ে সাইকেলের দোকান চালাতে থাকেন বরুণ। অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে ছেড়ে দেন পড়াশোনা।
বরুণ নয়, সাইকেল দোকান চালানোর দায়িত্ব তুলে নেন মা
প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার বদলে দোকানে গিয়ে সাইকেলের পাঞ্চার সারাতে শুরু করেন বরুণ। কিন্তু মেধাবী ছেলের স্বপ্নকে এভাবে শেষ হয়ে যেতে দেখতে চাননি মা। তিনি বলেন, ‘তুমি পড়াশোনা চালিয়ে যাও, দোকান আমি সামলাব।’ তারপর মা সাইকেল দোকান সামলাতে থাকেন। আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকেন বরুণ।
সেভাবেই স্কুল জীবন শেষ করার পর বরুণের প্রবল ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু মেডিক্যাল কলেজের ফি দেওয়া পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব ছিল। বাধ্য হয়ে বরুণ নিজের পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন এবং পুণের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভরতি হন। কলেজে পড়ার সময় স্কলারশিপ পেয়ে যান। পাশাপাশি টিউশনিও পড়াতে থাকেন। তারপর ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পূর্ণ করে বহুজাতিক সংস্থায় চাকরি পান।
{{/usCountry}}সেভাবেই স্কুল জীবন শেষ করার পর বরুণের প্রবল ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু মেডিক্যাল কলেজের ফি দেওয়া পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব ছিল। বাধ্য হয়ে বরুণ নিজের পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন এবং পুণের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভরতি হন। কলেজে পড়ার সময় স্কলারশিপ পেয়ে যান। পাশাপাশি টিউশনিও পড়াতে থাকেন। তারপর ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পূর্ণ করে বহুজাতিক সংস্থায় চাকরি পান।
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: Success Story: স্কুলের ফি জোগাতে বাড়ি-বাড়ি কাজ করতেন মা, UPSC দিয়ে IPS অফিসার হলেন ছেলে সাফিন
UPSC সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার প্রস্তুতি ও সাফল্য
তবে সেই বড় চাকরি করতে-করতেই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার স্বপ্ন দেখতে থাকেন বরুণ। বড় অঙ্কের বেতনের চাকরি ছেড়ে প্রস্তুতি শুরু করে দেন। একটি নামজাদা কোচিং প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে যদি বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে প্রথম অ্যাটেম্পটেই ভালো ফলাফল করে দেখাবেন। বরুণের আত্মবিশ্বাস ও অদম্য ইচ্ছা দেখে তাঁকে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ করে দেয় ওই প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন: Success Story: ৩ বার প্রিলিতে ‘ফেল’, খোঁচা দিতেন আত্মীয়রা, সেই মেয়েই UPSC ক্লিয়ার করে হলেন IAS
আর সেই স্বপ্নপূরণের জন্য ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসের প্রস্তুতি শুরু দেন। প্রথম অ্যাটেম্পটেই বাজিমাত করেন। সর্বভারতীয় স্তরে ৩২ তম স্থান অধিকার করে আইএএস অফিসার হন বরুণ।