Success Story: ৩ বার প্রিলিতে ‘ফেল’, খোঁচা দিতেন আত্মীয়রা, সেই মেয়েই UPSC ক্লিয়ার করে হলেন IAS
Success Story: ৩ বার ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার প্রিলিমিনারিতে ‘ফেল’ করেছিলেন। খোঁচা দিতেন আত্মীয়রা। সেই মেয়েই ইউপিএসসি ক্লিয়ার করে হলেন আইএএস অফিসার। একটা সময় টানা ছয় মাস বিরতি নিয়েছিলেন পড়াশোনা থেকে।
Success Story: ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা দিয়ে আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু প্রথম তিনবার প্রিলিমিনারিতে সাফল্য পাননি। সেইসময় খোঁচা দিতেন আত্মীয়রা। চতুর্থবারে সাফল্য পেলেও নিজের স্বপ্নের আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্নপূরণ হয়নি। শেষপর্যন্ত কীভাবে সাফল্য পেলেন দেবঙ্গী মীনা?

UPSC-র প্রস্তুতি, ধাক্কা পরপর অ্যাটেম্পটে
২০২০ সালে প্রথমবারের মতো ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেছিলেন দেবঙ্গী। কিন্তু প্রথম অ্যাটেম্পটে প্রিলিমসের গণ্ডি পার করতে পারেননি। দ্বিতীয় অ্যাটেম্পটেও হয়েছিল একই পরিণতি। তারপর ২০২৩ সালে যখন তৃতীয়বারের মতো প্রিলিমসেই আটকে গিয়েছিলেন, তখন নিজের উপর বিশ্বাস রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। যে মেয়ে জীবনে কোনও পরীক্ষায় দ্বিতীয় হননি, তাঁর কাছে বিষয়টা আরও ধাক্কার ছিল।
এই কঠিন সময়ে সমাজ ও আত্মীয়স্বজনদের মনোভাব বদলে যেতে শুরু করেছিলেন। নিকটাত্মীয়রা খোঁচা দিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। এমনকী তাঁর বাবা-মা'কেও শুনতে হত- ‘স্কুলের টপাররা নাকি বড় হয়ে ফ্লপ করে।’ পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে দেবঙ্গী বলেন, ‘আমার জীবনে এটাই প্রথমবার ছিল, যখন আমি কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ফেল করেছিলাম। মানুষ খুব দ্রুত একটি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আপনার সমস্ত যোগ্যতা বিচার করতে শুরু করে দেন।’
চতুর্থবারে UPSC ক্র্যাক, তবে স্বপ্নের IAS হয়নি
তবে সেই কটাক্ষের মধ্যেই নিজের উপর থেকে আত্মবিশ্বাস হারাননি দেবঙ্গী। বরং চতুর্থ অ্যাটেম্পটের আগে ছয় মাস বিরতি নেন। তারপর নতুন করে শুরু করেছিলেন। ২০২৪ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস ক্লিয়ার করে ইন্ডিয়ান সিভিল অ্যাকাউন্টস সার্ভিসে (ICAS) সুযোগ পান।
শেষ চেষ্টা, IAS হওয়ার স্বপ্নপূরণ
আইসিএএসের প্রশিক্ষণ চলাকালীন দেবঙ্গী সিদ্ধান্ত নেন যে শেষবারের মতো আইএএসের জন্য ঝাঁপাবেন। আগের মেইনস পরীক্ষায় জেনারেল স্টাডিজে ৪৪১ নম্বর ছিল, যা যথেষ্ট ভালো। মূল খামতি ছিল অপশনাল সাবজেক্ট ভূগোলে, যেখানে তিনি পেয়েছিলেন ২২৩ নম্বর।
আইসিএএস প্রশিক্ষণের ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি নিজের অপশনাল সাবজেক্টের ভুলত্রুটি শুধরে নেন। ফলে পরের বার ভূগোলে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ২২৩ থেকে লাফিয়ে ২৮৬-এ পৌঁছে যায়। এই নম্বর বৃদ্ধির ফলেই ২০২৫ ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ২৩৬ তম র্যাঙ্ক অর্জন করেন। স্বপ্নপূরণ করেন আইএএস অফিসার হওয়ার।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


