NEET UG 2026 Success Story: NEET-তে বাজিমাত ট্রাক চালকের মেয়ের, ৩ বার ধাক্কার পরে কটাক্ষ করেছিল পরিবারের লোকজনই
NEET UG 2026 Success Story: সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকার (নিট) ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। আর নিট পরীক্ষায় সাফল্যের অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী লিখলেন এক ছাত্রী। তাঁর বাবা ট্রাক চালক। সেই মেয়ে বাজিমাত করেছেন নিটে।
NEET Success Story: নিট পরীক্ষায় বাজিমাত করলেন ট্রাক চালকের মেয়ে। দিনকয়েক আগেই সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকার (নিট) ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তাতে সাফল্য লাভ করেছেন বিহারের মেয়ে কায়নাত খানম। তাঁর বাবা ইমতিয়াজ আহমেদ খান। আর সেই সাফল্যের পরে উচ্ছ্বাসে ভেয়ে গিয়েছেন কায়নাত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা এক লড়াকু জীবন
কায়নাত বিহারের ছোট্ট গ্রাম মোরওয়ারার বাসিন্দা। বাবা ইমতিয়াজ আহমেদ খানের উপার্জনেই চলে পুরো পরিবারের খরচ। আর্থিক অনটন নিত্যসঙ্গী হলেও সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কখনও কোনও খামতি রাখতে চাননি ইমতিয়াজ। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নকে নিজের চোখেই দেখতেন।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিহার: লড়াইয়ের শুরু
কায়নাতের প্রাথমিক পড়াশোনা শুরু হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে দাদু-দিদার বাড়িতে। তবে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় পরিস্থিতি বদলে গিয়েছিল। ফিরে এসেছিলেন নিজের গ্রামে। সেখানে অনলাইন পড়াশোনা করার সময় সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা। মেয়ের পড়াশোনায় যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য ইমতিয়াজ শহরে একটি ঘর ভাড়া নেন।
৩ বার ব্যর্থতা এবং সমাজের কটূক্তি
কায়নাতের এই সাফল্যের পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রথম তিনবারের অ্যাটেম্পটে নিট পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। একে তো চরম আর্থিক সংকট, তার ওপর পরপর তিনবার অসফল হওয়ায় পরিবারের কিছু লোকজন এবং প্রতিবেশীরা তাঁকে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিতে শুরু করেন। শুনতে হয় নানা ধরনের কটূক্তি ও খোটা। কিন্তু কায়নাত দমে যাননি। তিনি প্রতিটা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেন এবং নিজের ভুলগুলো শুধরে নতুন উদ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকেন।
অবশেষে তাঁর এই কঠোর তপস্যার ফল মিলেছে। ২০২৬ সালের নিচ পরীক্ষায় ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৫৯৩ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় স্তরে ১,৪০৭ তম স্থান অর্জন করেছেন কায়নাত। সেই সাফল্যের পর কায়নাত জানিয়েছেন, 'আমার এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব আমার বাবা-মা এবং আমার শিক্ষকদের। তাঁদের সহযোগিতা ও ভরসা না থাকলে আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছাতে পারতাম না।'
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


