Jaishankar on Pakistan Terrorism: প্রায় ১৭ মিনিটের বক্তৃতায় একবারও নাম নিলেন না। কিন্তু যেখানে 'আগুন' লাগানোর, ঠিক সেখানেই লাগিয়ে দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে নাম না করে পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদের সিরিয়াল প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে উল্লেখ করে ভারতের বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পরে যে সিন্ধু জলচুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল, সেই অবস্থানে অনড়ই থাকছে নয়াদিল্লি। কারণ জঙ্গি হামলা চালানোর পরও ভালো ব্যবহার করা হবে - এমন প্রত্যাশা না রাখাই ভালো। বরং সন্ত্রাসবাদ চালালে প্রত্যুত্তরের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত পাকিস্তানের।
‘সন্ত্রাসবাদের সিরিয়াল প্র্যাকটিশনার', পাকিস্তানকে চাঁচাছোলা আক্রমণ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ভাষণের পরদিনই জয়শংকর বলেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের সিরিয়াল প্র্যাকটিশনার (সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত) একটি দেশ গতকাল এই পরিষদে বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করেছে। সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল। আর সন্ত্রাসবাদের পরিণতি থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন যুক্তি খাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু সেই যুক্তি ধোপে টিকবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার আমরা প্রয়োগ করবই।'
জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়ে ভালো ব্যবহার আশা না করাই ভালো, সাফ বার্তা
সেইসঙ্গে নাম না করে সিন্ধু জলচুক্তির (যা নিয়ে হইচই করে পাকিস্তান) দিকে ইঙ্গিত করে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, 'সন্ত্রাসবাদ ও সদিচ্ছা - এই দুটি বিষয় কখনওই একসঙ্গে চলতে পারে না। তাই তার উপরে ভিত্তি করে যে বোঝাপড়া তৈরি হয়, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। এখন সন্ত্রাসবাদের পথ ছেড়ে নিজেদের আচরণ সংশোধন করাই হল জঙ্গিদের দায়িত্ব।’
মধ্যপ্রাচ্য থেকে গ্লোবার সাউথ- কী কী বার্তা জয়শংকরের?
{{/usCountry}}মধ্যপ্রাচ্য থেকে গ্লোবার সাউথ- কী কী বার্তা জয়শংকরের?
{{/usCountry}}তারইমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়েও মুখ খুলেছেন জয়শংকর। তিনি জানান, যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়েই মালুম হচ্ছে। যে দেশগুলি সেইসব সংঘাত থেকে বহু দূরে আছে, সেগুলিকেও গুনতে হচ্ছে যুদ্ধের মাশুল। অথচ সেই দেশগুলির সঙ্গে যুদ্ধের ন্যূনতম কোনও সম্পর্ক নেই বা সেগুলির কোনও দোষই নেই। তাছাড়াও যেভাবে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিশানা করা হচ্ছে, তা নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেছেন জয়শংকর।
সেইসঙ্গে 'গ্লোবাল সাউথ' যে সব প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে, সেগুলিকে '4F' হিসেবে চিহ্নিত করে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী জানান. খাদ্য (ফুড), জ্বালানি (ফুয়েল), সার (ফার্টিলাইজার) এবং আর্থিক (ফিনান্স) ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। ‘সুপার এল নিনো’ এবং সার সংকটের সম্মিলিত প্রভাব পড়ছে শস্য পরিবহণের উপরে। তার ফলে খাদ্যসুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে বলেও জানান ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী।