বর্তমানে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার অবহেলায় আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে? দেশের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক সম্প্রতি তাদের কোটি-কোটি গ্রাহকদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা জারি করেছে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণ না হলে তারা বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ?

পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অপব্যবহার রোধ করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত যে সমস্ত অ্যাকাউন্ট দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় পড়ে রয়েছে এবং যেগুলোতে কোনও লেনদেন হচ্ছে না, সেই অ্যাকাউন্টগুলোকেই চিহ্নিত করা হচ্ছে। ব্যাঙ্ক সূত্রে খবর, গত তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে যে সমস্ত অ্যাকাউন্টে কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন (ডেবিট বা ক্রেডিট) হয়নি এবং যাঁদের অ্যাকাউন্টে শূন্য ব্যালেন্স বা ন্যূনতম ব্যালেন্স নেই, সেই অ্যাকাউন্টগুলোই বন্ধের তালিকায় রয়েছে।
কারা এই ঝুঁকির মুখে পড়ছেন?
১) গত তিন বছর ধরে যে অ্যাকাউন্টে কোনও লেনদেন হয়নি।
২) অ্যাকাউন্টে যদি ব্যালেন্স শূন্য থাকে।
৩) যে সমস্ত অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি (KYC) বা গ্রাহক পরিচয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন নেই।
তবে ব্যাঙ্ক এটিও স্পষ্ট করেছে যে, ডিমেট অ্যাকাউন্ট, লকার সুবিধা থাকা অ্যাকাউন্ট বা যে সমস্ত অ্যাকাউন্টে ছাত্রদের স্কলারশিপ বা সরকারি ভর্তুকির টাকা আসে, সেই অ্যাকাউন্টগুলো এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হতে পারে।
অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে গ্রাহকদের কী করতে হবে?
আপনার যদি পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে কোনও পুরনো বা কম ব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে সেটি সচল রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, অ্যাকাউন্টটি চালু রাখতে গ্রাহককে অবিলম্বে তাদের নিকটস্থ হোম ব্রাঞ্চে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় কেওয়াইসি (KYC) নথি জমা দিতে হবে। এই নথিপত্রগুলোর মধ্যে আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি থাকা বাধ্যতামূলক।
{{/usCountry}}আপনার যদি পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে কোনও পুরনো বা কম ব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে সেটি সচল রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, অ্যাকাউন্টটি চালু রাখতে গ্রাহককে অবিলম্বে তাদের নিকটস্থ হোম ব্রাঞ্চে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় কেওয়াইসি (KYC) নথি জমা দিতে হবে। এই নথিপত্রগুলোর মধ্যে আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি থাকা বাধ্যতামূলক।
{{/usCountry}}একবার কেওয়াইসি আপডেট হয়ে গেলে এবং একটি ন্যূনতম লেনদেন (টাকা জমা বা তোলা) করলেই অ্যাকাউন্টটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে যাবে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিচ্ছে যে, গ্রাহকরা যেন অন্তত মাসে একবার হলেও তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে ছোটখাটো লেনদেন করেন যাতে অ্যাকাউন্টটি 'ইনঅ্যাক্টিভ' বা 'ডরম্যান্ট' পর্যায়ে না যায়।
সময়সীমা ও ব্যাঙ্কের নোটিশ
পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের সুবিধার্থে আগেই নোটিশ পাঠাতে শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও এই তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যাঁরা সাড়া দেবেন না, তাঁদের অ্যাকাউন্টগুলো নিরাপত্তার খাতিরে 'ফ্রিজ' বা বন্ধ করে দেওয়া হবে। একবার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেলে পরবর্তীতে তা পুনরায় চালু করা অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ এবং জটিল হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গ্রাহকদের জন্য বিশেষ পরামর্শ
আপনার যদি পিএনবিতে এমন কোনও অ্যাকাউন্ট থাকে, যা আপনি আর ব্যবহার করতে চান না, তবে সেটি ফেলে না রেখে নিয়ম মেনে বন্ধ করে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আর যদি অ্যাকাউন্টটি ব্যবহারের ইচ্ছা থাকে, তবে আজই ব্যাঙ্কে গিয়ে আপনার তথ্য যাচাই করে নিন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে কেওয়াইসি আপডেট না করলে শুধু অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়াই নয়, আটকে যেতে পারে আপনার সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও।