...
...
Next Story

গোবি মরুভূমিতে মিলল ডাইনোসর যুগের ১ সেন্টিমিটার জীবাশ্ম! বিজ্ঞানীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এটি

বিজ্ঞানীরা যখন বিশালকায় ডাইনোসরদের হাড়গোড় খুঁজতে ব্যস্ত, তখন এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণীর অবশেষ বিবর্তনের এক হারানো যোগসূত্র খুঁজে দিয়েছে।

Published on: Mar 23, 2026, 10:26:12 IST
Advertisement

মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমি বরাবরই প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এক স্বর্গরাজ্য। তবে সম্প্রতি সেখানে পাওয়া মাত্র ১ সেন্টিমিটারের একটি ক্ষুদ্র জীবাশ্ম বিজ্ঞানীদের রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ডাইনোসরদের যুগের এই ক্ষুদ্রকায় প্রাণীর জীবাশ্মটি আমাদের বিবর্তনীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে।

গোবি মরুভূমিতে মিলল ডাইনোসর যুগের ১ সেন্টিমিটার জীবাশ্ম! বিজ্ঞানীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এটি
গোবি মরুভূমিতে মিলল ডাইনোসর যুগের ১ সেন্টিমিটার জীবাশ্ম! বিজ্ঞানীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এটি

বিবর্তনীয় বিজ্ঞানে অনেক সময় বড় আবিষ্কারের চেয়ে ছোট ছোট সূত্রগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমিতে সম্প্রতি আবিষ্কৃত ১ সেন্টিমিটারের একটি জীবাশ্ম ঠিক তেমনই এক দৃষ্টান্ত। বিজ্ঞানীরা যখন বিশালকায় ডাইনোসরদের হাড়গোড় খুঁজতে ব্যস্ত, তখন এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণীর অবশেষ বিবর্তনের এক হারানো যোগসূত্র খুঁজে দিয়েছে।

(আরও পড়ুন: পাওয়া গেল ১২০ কোটি বছরের পুরনো জল, তখন ডাইনোসরও আসেনি পৃথিবীতে! কেমন খেতে সেই প্রাচীন জল? ইতিহাসের কোন রহস্য উন্মোচিত হল)

আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট ও ক্ষুদ্রতা

সাধারণত ডাইনোসর বললেই আমাদের চোখে বিশাল শরীরের ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু এই নতুন আবিষ্কৃত জীবাশ্মটি একটি ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী প্রাণীর (Mammal), যা আনুমানিক ৭ কোটি বছর আগে ক্রিটেসিয়াস যুগে ডাইনোসরদের পায়ের নিচেই বিচরণ করত। মাত্র ১ সেন্টিমিটার বা তারও কম আকারের এই জীবাশ্মটি এতই সূক্ষ্ম যে, এটি খুঁজে পাওয়া ছিল খড়ের গাদায় সুচ খোঁজার মতো কঠিন কাজ। উন্নত প্রযুক্তির সিটি স্ক্যানিং এবং মাইক্রোস্কোপিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এর হাড়ের গঠন শনাক্ত করেছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই জীবাশ্মটি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বিবর্তনের ধারায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়কে তুলে ধরে।

১. বিবর্তনীয় যোগসূত্র: এটি প্রমাণ করে যে ডাইনোসরদের রাজত্বকালে স্তন্যপায়ী প্রাণীরা কেবল টিকে ছিল না, বরং তারা আকারে ছোট হওয়ার কারণে খুব দ্রুত পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারত।

২. অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন: ক্ষুদ্র হলেও এই জীবাশ্মটির দাঁত এবং চোয়ালের গঠন ছিল অত্যন্ত মজবুত। এটি সম্ভবত পোকা-মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত। এর শ্রবণযন্ত্রের হাড়ের গঠন আধুনিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের কান এবং শোনার ক্ষমতার বিকাশের আদিম রূপটি বুঝতে সাহায্য করছে।

৩. প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা: গোবি মরুভূমির তৎকালীন শুষ্ক পরিবেশে এই ধরণের ছোট প্রাণীরা কীভাবে বেঁচে থাকত, তা নিয়ে নতুন করে গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

(আরও পড়ুন: গায়ের গন্ধ পেলেই ‘মাতাল’, তার পরেই কামড়! ১০,০০০ বছর ধরে এই চলে আসছে, অথচ তার আগে রক্তই খেত না মশা, বলছে গবেষণা)

প্রত্নতাত্ত্বিকদের বিস্ময় ও চ্যালেঞ্জ

মঙ্গোলিয়ার ইনস্টিটিউট অফ প্যালিয়ন্টোলজি এবং আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রির গবেষকরা জানিয়েছেন, এই জীবাশ্মটি সংরক্ষণ করা এক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বাতাসের সামান্য ঝাপটা বা অসাবধানতায় এটি নষ্ট হয়ে যেতে পারত। তাঁরা বলছেন, সাধারণত বড় প্রাণীদের হাড় সহজে সংরক্ষিত হয়, কিন্তু এত ছোট শরীরের নরম হাড় লক্ষ লক্ষ বছর ধরে পাথরের স্তরে টিকে থাকা এক অলৌকিক ঘটনা।

(আরও পড়ুন: ধোঁয়া সহ্য করতে পারতাম বলেই এগিয়ে গেলাম আমরা, পিছিয়ে গেল অন্য প্রজাতি! শরীরটাও বদলে গেল ভিতর থেকে, বলছে হালের গবেষণা)

ডাইনোসরদের সাথে সহাবস্থান

এই আবিষ্কারটি আমাদের জানায় যে ডাইনোসরদের দাপটের মাঝেও ক্ষুদ্র প্রাণীরা নিজস্ব এক বাস্তুসংস্থান তৈরি করে নিয়েছিল। ডাইনোসররা বিলুপ্ত হয়ে গেলেও এই ধরণের ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী প্রাণীরাই শেষ পর্যন্ত টিকে গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাদের থেকেই আজকের আধুনিক স্তন্যপায়ী প্রাণী ও মানুষের উদ্ভব হয়েছে। অর্থাৎ, এই ১ সেন্টিমিটারের জীবাশ্মটির মধ্যেই আমাদের আদিমতম পূর্বপুরুষদের ছাপ লুকিয়ে আছে।

(আরও পড়ুন: মন থেকে হিংসা দূর হতেই তৈরি হয়েছিল এই অঙ্গ, এখন কোনও কাজেই লাগে না! যদিও মাথা খাটাতে গেলেই হাত যায় এখানে, বলছে গবেষণা)

গোবি মরুভূমির এই ক্ষুদ্র আবিষ্কারটি প্রমাণ করে যে বিজ্ঞানে আকারের চেয়ে তথ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। মাত্র ১ সেন্টিমিটারের এই হাড়ের টুকরোটি আমাদের কোটি কোটি বছরের পুরনো এক পৃথিবীর গল্প বলছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে বিবর্তনের মঞ্চে সবথেকে ছোট খেলোয়াড়টিও কখনও কখনও সবথেকে বড় রহস্যের সমাধান করে দিতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe