রাজপথে লাল জুতোর সারি, নারী হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল শহর, প্রশাসনের ঘুম কাড়ল নীরব আন্দোলন

পারিবারিক সহিংসতা এবং নারী হত্যার ঘটনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষ এখন রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। শত শত জোড়া লাল জুতো সাজিয়ে রাখা হয়েছে রাস্তায়। প্রতিটি জুতো এক একজন নিহত নারীর প্রতীক।

Published on: Apr 6, 2026, 10:28:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রোমানিয়ার রাজপথে সারিবদ্ধভাবে রাখা শত শত জোড়া লাল জুতো কেবল কোনো শিল্প প্রদর্শনী নয়, বরং এটি একটি নিস্তব্ধ আর্তনাদ। দেশটিতে ক্রমবর্ধমান নারী হত্যা বা 'ফেমিসাইড' (Femicide)-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই অভিনব পথ বেছে নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

রাজপথে লাল জুতোর সারি, নারী হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল শহর
রাজপথে লাল জুতোর সারি, নারী হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল শহর

ইউরোপের অন্যতম দেশ রোমানিয়া বর্তমানে এক গভীর সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পারিবারিক সহিংসতা এবং নারী হত্যার ঘটনা দেশটিতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষ এখন রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। সম্প্রতি রাজধানী বুখারেস্টের প্রধান চত্বরে শত শত জোড়া লাল জুতো সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রতিটি জুতো এক একজন নিহত নারীর প্রতীক, যাঁদের জীবন কেড়ে নিয়েছে তাঁদেরই পরিচিত কেউ অথবা কোনো নিকটাত্মীয়।

(আরও পড়ুন: ২০০ বছরের বেশি হয়ে যেতে পারে মানুষের আয়ু, তিমি মাছের থেকে সামান্য সাহায্য দরকার! বলছে গবেষণা)

'লাল জুতো' আন্দোলনের প্রতীকী গুরুত্ব

এই আন্দোলনের মূল প্রেরণা এসেছে মেক্সিকোর শিল্পী এলিনা শভেত (Elina Chauvet)-এর কাছ থেকে, যিনি ২০০৯ সালে প্রথমবার নারী হত্যার বিরুদ্ধে লাল জুতোর ব্যবহার করেছিলেন। লাল রঙটি এখানে সহিংসতার শিকার হওয়া নারীদের রক্তের প্রতীক। রোমানিয়ার নারীবাদী সংগঠনগুলো বলছে, দেশে প্রতি বছর বহু নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন, কিন্তু বিচারব্যবস্থা এবং পুলিশ প্রশাসনের নির্লিপ্ততা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে।

(আরও পড়ুন: মন থেকে হিংসা দূর হতেই তৈরি হয়েছিল এই অঙ্গ, এখন কোনও কাজেই লাগে না! যদিও মাথা খাটাতে গেলেই হাত যায় এখানে, বলছে গবেষণা)

রোমানিয়ার ভয়াবহ পরিসংখ্যান

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক শিউরে ওঠা তথ্য। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রোমানিয়ায় প্রতি বছর কয়েক ডজন নারী তাঁদের সঙ্গী বা প্রাক্তন সঙ্গীর হাতে প্রাণ হারান। কেবল গত এক বছরেই এই সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশ অনেক সময় পারিবারিক বিবাদ বলে বিষয়টিকে এড়িয়ে যায় এবং ভুক্তভোগী নারীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সুরক্ষা কবচ বা 'প্রোটেকশন অর্ডার' থাকা সত্ত্বেও নারীরা রক্ষা পাচ্ছেন না।

(আরও পড়ুন: সকলের নয়, চলন্ত গাড়িতে কারও কারও বমি পায়, পূর্বপুরুষদের বিষাক্ত খাবার খাওয়ার ভুলে এই সমস্যা! বলছে বিজ্ঞান)

বিচারব্যবস্থার ফাঁকফোকর

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো রোমানিয়ার আইনি ব্যবস্থার পরিবর্তন। বর্তমান আইনে নারী হত্যাকে অনেক সময় আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। বিক্ষোভকারীরা দাবি তুলেছেন যাতে 'ফেমিসাইড' বা 'নারী হত্যা'কে দণ্ডবিধিতে একটি বিশেষ অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়াও, ঘরোয়া সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য আরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র এবং জরুরি সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে।

(আরও পড়ুন: ধোঁয়া সহ্য করতে পারতাম বলেই এগিয়ে গেলাম আমরা, পিছিয়ে গেল অন্য প্রজাতি! শরীরটাও বদলে গেল ভিতর থেকে, বলছে হালের গবেষণা)

বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনি

রোমানিয়ার এই আন্দোলন কেবল সেই দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই লাল জুতোর ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সারা বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংহতি প্রকাশ করেছে। এটি ইউরোপের অন্যান্য দেশের জন্যও একটি সতর্কবার্তা, যেখানে উন্নত সমাজ ব্যবস্থার আড়ালে নারীরা আজও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

(আরও পড়ুন: গায়ের গন্ধ পেলেই ‘মাতাল’, তার পরেই কামড়! ১০,০০০ বছর ধরে এই চলে আসছে, অথচ তার আগে রক্তই খেত না মশা, বলছে গবেষণা)

লাল জুতো দিয়ে সাজানো এই নীরব প্রতিবাদ রোমানিয়ার সমাজকে এক কঠিন আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ এই রক্তের লাল রঙ প্রশাসনের পোশাকে কলঙ্ক হয়েই থাকবে। এই আন্দোলন কেবল বিচার পাওয়ার লড়াই নয়, এটি প্রতিটি নারীর মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ের লড়াই।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More