Success Story: একেবারে ছোটোবেলায় বাবাকে হারান। বাবার মৃত্যুর পরে মা কোনওক্রমে সংসার চালাতেন। সেই পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি চাকরির প্রয়োজন ছিল। সেজন্য রেলওয়ের গ্রুপ ডি'র পরীক্ষা দেন। সেই পরীক্ষায় সফল হয়ে পয়েন্টসম্যান হন। তারপর বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) পরীক্ষা দিয়ে ডিএসপি হলেন রাজু কুমার।
১২ বছরেই বাবার মৃত্যু, রেলের চাকরিতে যোগ

ছোটোবেলা থেকেই লড়াই করে বড় হতে হয়েছে রাজুকে। ১২ বছরেই মৃত্যু হয় বাবার। অকালে বাবার মৃত্যুর পর চরম আর্থিক অনটন ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়েছিল। সেইসময় সন্তানদের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রাজুর মা। শতকষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা হতে দেননি।
সেইসঙ্গে রাজুও চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন। পরিবারের আর্থিক হাল ধরতে কম বয়স থেকেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। প্রথম সুযোগেই ভারতীয় রেলের গ্রুপ-ডি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে রক্সৌল রেলওয়ে স্টেশনে পয়েন্টসম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন।
IGNOU থেকে স্নাতক, শুরু PSC-র প্রস্তুতি
তবে রেলের চাকরির শারীরিক ধকল এবং দৈনিক ডিউটি সত্ত্বেও রাজু বড় সরকারি অফিসার হওয়ার স্বপ্নকে কখনওই ম্লান হতে দেননি। ২০২০ সালে সিদ্ধান্ত নেন যে PSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু চাকরি ছেড়ে পড়াশোনা করার কোনও সুযোগ ছিল না, তাই ডিউটির মধ্যেই কোনওক্রমে সময় বের করতে প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
আরও পড়ুন: Success Story: বেঁটে হওয়ায় হাসাহাসি করা হত, সেই মেয়েই PSC পরীক্ষায় বাজিমাত করে হলেন অফিসার
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: Success Story: বেঁটে হওয়ায় হাসাহাসি করা হত, সেই মেয়েই PSC পরীক্ষায় বাজিমাত করে হলেন অফিসার
{{/usCountry}}কাজের ফাঁকেই ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) থেকে দূরশিক্ষার মাধ্যমে স্নাতকে ভর্তি হন। ২০২৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যখন BPSC-র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, তখন আবেদন করেন। ডিউটির পর অবশিষ্ট যেটুকু সময় পেতেন, তার এক মুহূর্তও নষ্ট করতেন না রাজু। বন্ধুদের পরামর্শ নিয়ে তিনি কাজ ও পড়াশোনার মধ্যে চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করেন এবং একটি কঠোর শৃঙ্খলাবদ্ধ রুটিন মেনে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকেন।
কীভাবে PSC-র প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?
প্রথমদিকে বিশাল সিলেবাস বুঝতে কিছুটা সমস্যা হলেও পুরো পাঠ্যক্রমকে ছোটো-ছোটো অংশে ভাগ করে নেন রাজু। ছোটো-ছোটো লক্ষ্যপূরণ করতে থাকেন। পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। তার এই নিরলস সাধনার ফলস্বরূপ তিনি প্রথমবার পরীক্ষা দিয়েই BPSC-তে ৭২ তম স্থান অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।