...
...
Next Story

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ‘ইঞ্জিনিয়ার’ তারেক রহমান! এই অদ্ভুত মিমের রহস্য কী

বাংলাদেশি নেটিজেন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের মাঝে তারেক রহমানকে নিয়ে কেন এই মিম এবং এর নেপথ্য ঘটনাটি আসলে কী, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিপুল কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।

Published on: Feb 19, 2026, 18:42:50 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-র বিপুল জয়ের পর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক অভাবনীয় সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছেন। ইন্টারনেটে তাঁকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া 'ইঞ্জিনিয়ার' (Engineer) মিম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ‘ইঞ্জিনিয়ার’ তারেক রহমান! এই অদ্ভুত মিমের রহস্য কী (REUTERS)
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ‘ইঞ্জিনিয়ার’ তারেক রহমান! এই অদ্ভুত মিমের রহস্য কী (REUTERS)

বাংলাদেশি নেটিজেন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের মাঝে তারেক রহমানকে নিয়ে কেন এই মিম এবং এর নেপথ্য ঘটনাটি আসলে কী, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিপুল কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।

তারেক রহমান কেন এখন 'ইঞ্জিনিয়ার'? বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে কেন নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের পর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০০-র বেশি আসনে জয়লাভ করেছে বিএনপি। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর তারেক রহমান যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন, ঠিক তখনই ইন্টারনেটে তাঁর একটি নতুন পরিচয় ভাইরাল হয়ে যায়— 'ইঞ্জিনিয়ার'। কিন্তু মজার বিষয় হলো, তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতায় কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নেই। তবে কেন এই সম্বোধন?

'ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর অভিযোগ

বিরোধীদের দাবি, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি (NCP) জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বিএনপি-র এই বিশাল জয় জনমতের প্রতিফলন নয়, বরং এটি পরিকল্পিত 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' বা ভোট কারচুপির ফসল। এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ফেসবুকে তারেক রহমানকে প্রথম 'ইঞ্জিনিয়ার' বলে ব্যঙ্গ করেন। এরপর থেকেই এই শব্দটি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়।

তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসনে ছিলেন। ট্রোলকারীদের একাংশ দাবি করছেন যে, তিনি লন্ডন থেকেই এই নির্বাচনী জালিয়াতির 'ইঞ্জিনিয়ারিং' শিখে এসেছেন। ফেসবুকে জনৈক ইউজার লিখেছেন, ‘লন্ডন থেকে ইঞ্জিনিয়ার পাস!’— যা মূলত তাঁর প্রবাস জীবন এবং দেশের নির্বাচনে তাঁর প্রভাবকে ব্যঙ্গ করে বলা হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বৈপরীত্য

তারেক রহমানের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা উচ্চ মাধ্যমিক (HSC) পর্যন্ত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হলেও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণে তা সম্পন্ন করতে পারেননি। ট্রোলকারীরা এই বিষয়টিকেও হাতিয়ার করেছেন। অনেকের মতে, কোনো ডিগ্রি ছাড়াই তিনি যে দক্ষতার সাথে ভোট 'ইঞ্জিনিয়ারিং' করেছেন, তা বিস্ময়কর!

তারেক রহমানের প্রতিক্রিয়া

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জনৈক সাংবাদিক সরাসরি তাঁকে এই 'ইঞ্জিনিয়ারিং' অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেন। উত্তরে তারেক রহমান কিছুটা রসিকতা করেই বলেন, ‘আমাদের একমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল জনগণের মন জয় করা। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা তাতে সফল হয়েছি।’

বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই ছিল প্রথম বড় নির্বাচন। সেখানে বিএনপি-র জয় এবং বিরোধী জোটের কারচুপির অভিযোগের মাঝেই 'ইঞ্জিনিয়ার' মিমটি রাজনৈতিক অস্থিরতার এক প্রতীকী রূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক লড়াই এখন কেবল রাজপথে নয়, বরং মিম এবং ট্রোলের মাধ্যমে ডিজিটাল দুনিয়াতেও সমানভাবে চলছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe