Toto ‘kill switch’ chaos: টোটোচালকদের ঘুম ওড়াল অ্যাপ! ফোন দিয়ে দূর থেকে হঠাৎ গাড়ি বন্ধ করে দিচ্ছে যে কেউ
Toto ‘kill switch’ chaos: ‘প্র্যাঙ্ক ভিডিয়ো’ ও অ্যাপ - সেই গুঁতোয় নাভিঃশ্বাস উঠেছে দিল্লির টোটোচালকদের। অভিযোগ উঠেছে যে ফোন দিয়ে দূর থেকে হঠাৎ গাড়ি বন্ধ করে দিচ্ছে যে কেউ। তবে পশ্চিমবঙ্গে আপাতত এরকম কোনও ঘটনার খবর মেলেনি।
Toto ‘kill switch’ chaos: দিল্লির টোটোচালকদের ঘুম ছোটাল অ্যাপ! মূলত ‘প্র্যাঙ্ক ভিডিয়ো’ থেকে যে বিষয়টা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, সেটাই আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে টোটো বা ই-রিকশা চালকদের কাছে। একাধিক ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, তথাকথিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সরা টোটোর কাছে যাচ্ছেন। অ্যাপ ব্যবহার করে আচমকা টোটো বন্ধ করে দিচ্ছে। আর তার জেরে ব্যস্ত রাস্তায় আচমকা থমকে যাচ্ছে টোটো।

‘কিল সুইচ’ অস্ত্রে পরিণত হয়েছে অ্যাপ
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে বিক্রি হওয়া অরক্ষিত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাকের খামতির সুযোগ নিচ্ছে কয়েকটি অ্যাপ (অ্যাপের নাম উহ্য রাখা হল)। কোনও পাসওয়ার্ড ছাড়াই ব্লুটুথের মাধ্যমে কানেক্ট হয়ে যায় ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। ফলে ওইসব অ্যাপের মাধ্যমে যে কোনও স্মার্টফোনই ‘কিল সুইচ’ অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ স্মার্টফোনে ওই দুটির মধ্যে কোনও একটি অ্যাপ থাকলে যে কেউ আচমকা টোটো বন্ধ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভাইরাল রিলের পরে একের পর এক ঘটনা ঘটছে
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিন্দুস্তান টাইমসের সাংবাদিক ফোনে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে নিকটবর্তী একটি টোটোকে চিহ্নিত করেন। আর একটা টাচেই সেই টোটোকে বন্ধ করে দেন। সেই টোটোকে চালু করা যাচ্ছে শুধুমাত্র ওই অ্যাপের মাধ্যমেই। টোটোর চাবি কোনও কাজই করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। চালকদের দাবি, মাসকয়েক ধরেই এই সমস্যাটা চলছে। কিন্তু ভাইরাল রিলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গত কয়েকদিনে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এই সমস্যা।
পিছন থেকে বড় গাড়ি ধাক্কা মেরে দেবে না তো? আতঙ্কে চালকরা
জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে টোটোচালক সুনীল কুমার জানিয়েছেন, মাসছয়েক মেট্রো স্টেশনের কয়েক মিটার আগে আচমকা তাঁর ই-রিকশা থেমে গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ভেবেছিলেন যে ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছে। পরবর্তীতে তিনি যখন ব্যাটারি চার্জিংয়ের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন, তখন জানতে পেরেছিলেন যে আসলে কী হয়েছে।
একইসুরে ওখলার টোটোচালক চারু রজক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারই কমপক্ষে ১২ বার এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন যে রাস্তার মাঝে এরকম হঠাৎ টোটো থামিয়ে দিলে পিছন থেকে বড় গাড়ি ধাক্কা না মেরে দেয়। তবে চারু যে ডিলারের থেকে টোটো কিনেছেন, তিনি একটি অ্যাপের কথা বলেছেন। যে অ্যাপের মাধ্যমে টোটো ফের চালু করা যাবে। কিন্তু সকলে সেই পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত নন বলে জানিয়েছেন ওই টোটোচালক।
উত্তরপ্রদেশের টোটো নির্মাতা বলবিন্দর সিং সাইনি জানিয়েছেন, পাসওয়ার্ড দিয়ে ব্যাটারি সিস্টেম তৈরি করা হয়নি। কারণ কেউ কখনও এটা ভাবতেও পারেননি যে পর্যাপ্ত সুরক্ষার অভাবের কারণে এরকমভাবে পরিষেবা বিঘ্নিত হতে পারে। এমনভাবে টোটো তৈরি করা হয়েছে, যাতে সহজেই রক্ষণাবেক্ষণ ও সমস্যা চিহ্নিতকরণের কাজ করা যায়। তাই পাসওয়ার্ডের বিষয়টি রাখা হয়নি।
কেন্দ্রের তরফে কী বলা হচ্ছে?
তবে সেই সমস্যা এখনও সর্বজনীন নয় বলে মনে করছেন টোটোচালকরা। যেসব টোটো এখনও পুরনো ধাঁচের লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি (যাতে ব্লুটুথ সুবিধা নেই) ব্যবহার করছে, সেগুলিকে এই আতঙ্কের মুখে পড়তে হচ্ছে না। এমনকী লিথিয়াম-চালিত যে বাহনের নিজস্ব ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার আছে এবং থার্ড-পার্টি অ্যাপকে সাপোর্ট করে না, সেগুলিও এরকম বিপদের মুখে পড়ছে না বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আর পুরো বিষয়টির উপরে কেন্দ্রীয় সরকারেরও নজর আছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে বিষয়টির দিকে সরকারের নজর আছে। সেইসঙ্গে দিল্লির পরিবহণ মন্ত্রী পঙ্কজ সিং জানিয়েছেন, এখনও কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে বিষয়টি নিয়ে তথ্য তলব করেছেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


