Bus Driver Son Becomes IAS Officer: বাসচালকের ছেলে তিনি। পরিবারের হাল ধরতে সাইবার ক্যাফেতে করেছেন কাজ। তারইমধ্যে লোকজনের কটূক্তি, বক্রোক্তি শুনতে হয়েছে। বাসচালকের ছেলে কী-ই বা করবে বলে কটাক্ষ করেছেন অনেকে। কিন্তু স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি। লড়াই করে গিয়েছেন স্বপ্নপূরণের জন্য। আর শেষে স্বপ্ন হয়েছে সত্যি। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা পাশ করে আইএএস অফিসার হয়েছেন মইন আহমেদ মনসুরি। যিনি পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার।
আর্থিক অনটনের মধ্যেই বড় হওয়া

মইনের ছোটোবেলা কেটেছে নিম্নবিত্র পরিবারে। বাবা ছিলেন বাসচালক। পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ছিল না। বিশেষত সংসার চালানো, সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। তবে মইনের পড়াশোনায় ছেদ পড়তে দেননি। পরিবারের এমন পরিস্থিতিতে মইন নিজের খরচ চালাতে এবং পরিবারকে সাহায্য করতে সাইবার ক্যাফেতেও কাজ করেছিলেন।
আরও পড়ুন: Success Story: স্কুলের ফি জোগাতে বাড়ি-বাড়ি কাজ করতেন মা, UPSC দিয়ে IPS অফিসার হলেন ছেলে সাফিন
‘ড্রাইভারের ছেলে মজুরিই করবে’- কটাক্ষ বাড়ায় জেদ
মইন যখন ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ভাবছিলেন, তখন আশেপাশের মানুষ ও প্রতিবেশীদের একাংশ তাঁকে নিয়ে উপহাস করতে ছাড়েননি। মইনের বাবার পেশা তুলে অনেকে আড়ালে-আবডালে বলতেন, ‘ড্রাইভারের ছেলে আবার কী বড় কাজ করবে! বড় হয়ে তো সেই বাবার মতো মজুরি বা ড্রাইভিংই করবে।’
আরও পড়ুন: UPSC Success Story: ৩৫ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ফেল, তাতেও হার মানেননি, শেষে IAS অফিসার হলেন সেই বিজয়
চতুর্থ অ্যাটেম্পটে স্বপ্নপূরণ, হলেন IAS অফিসার
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: UPSC Success Story: ৩৫ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ফেল, তাতেও হার মানেননি, শেষে IAS অফিসার হলেন সেই বিজয়
চতুর্থ অ্যাটেম্পটে স্বপ্নপূরণ, হলেন IAS অফিসার
{{/usCountry}}কিন্তু সেই কটূক্তির সামনে মাথানত করেননি মইন। বরং এগুলোকে বানিয়েছিলেন নিজের স্বপ্নের জ্বালানি। যিনি দ্বাদশ শ্রেণি ও স্নাতক স্তরেের পড়াশোনা শেষ করার পরে ইউপিএসসির প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। প্রথম কয়েকবার ব্যর্থ হলেও তিনি আত্মবিশ্বাস হারাননি। অবশেষে ২০২২ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। চতুর্থ অ্যাটেম্পটে বাজিমাত করেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার হয়েছেন।
দেশের কাছে অনুপ্রেরণা
সেইসঙ্গে প্রমাণ করেছেন যে সমাজ বা আশেপাশের মানুষ আপনার সম্পর্কে কী বলছে তা কখনওই গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ হল যে আপনি নিজেকে নিয়ে কী ভাবছেন। আজ দেশের কোটি-কোটি যুবক-যুবতীর জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়েছেন তিনি।