...
...
Next Story

UPSC Civil Services Success Story: ১৮ বছরে দৃষ্টিহীন হন, মা লেখেন UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায়, ছেলে হলেন IAS অফিসার

UPSC Civil Services Success Story: ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা ভারতের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষার বড় অনুপ্রেরণা হলেন সম্যক জৈন। ভারতে সপ্তম স্থান অধিকার করে ইতিহাস রচনা করেছিলেন। এটি সাম্যক জৈনের কাহিনী।

Published on: May 15, 2026, 16:48:00 IST
Advertisement

UPSC Civil Services Success Story: স্বপ্ন দেখার জন্য চোখের দৃষ্টি নয়, মনের জোর আর লক্ষ্য স্থির থাকা প্রয়োজন- এই প্রবাদটিকেই বাস্তবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন দিল্লির তরুণ সম্যক জৈন। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় যেখানে প্রতি বছর লাখ-লাখ পরীক্ষার্থী দিনরাত এক করেও সফল হতে পারেন না, সেখানে সমস্ত শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাজিমাত করলেন তিনি। ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) পরীক্ষায় সপ্তম স্থান অধিকার করে তিনি কেবল নিজের পরিবারের নাম উজ্জ্বল করেননি, বরং দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার এক উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। দৃষ্টিহীনতাকে সঙ্গী করেও কীভাবে আইএএস (IAS) অফিসার হওয়া সম্ভব, সম্যক সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন।

চ্যালেঞ্জ যখন শৈশব থেকেই

আইপিএস অফিসার সম্যক জৈন।
আইপিএস অফিসার সম্যক জৈন।

সম্যক জৈনর এই যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই তিনি দৃষ্টিশক্তির মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হন। বয়স বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে তাঁর চোখের দৃষ্টি কমতে শুরু করে এবং একসময় তিনি সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু শারীরিক এই সীমাবদ্ধতা তাঁর মেধা বা উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দমাতে পারেনি। তিনি দিল্লির বিখ্যাত জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে তাঁর পড়াশোনা শেষ করেন। সম্যকের মতে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, পড়াশোনার প্রতি আসল ভালোবাসা এবং জেদ থাকলে যে কোনও বড় বাধাই অতিক্রম করা সম্ভব।

ইউপিএসসির মতো কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে তিনি জানান, পড়াশোনাকে তিনি কখনও মানসিক চাপ হিসেবে নেননি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট রুটিন মেনে নিয়ম করে পড়াশোনা করতেন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির পূর্ণ ব্যবহার করতেন, যা একজন দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য ছিল।

মায়ের ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ সহযোগিতা

সম্যকের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে সবথেকে বড় স্তম্ভ হিসেবে যিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি হলেন তাঁর মা। সম্যক যখন দেশের সবচেয়ে কঠিনতম পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর মা তাঁর প্রধান সহায়ক এবং সারথি হয়ে ওঠেন। একজন দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থী হিসেবে সম্যকের জন্য লেখার কাজটি ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই জায়গায় সম্যকের ‘রাইটার’ (Scribe) ছিলেন তাঁর মা।

ইউপিএসসি পরীক্ষার দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর দিনগুলিতে সম্যকের মা পরীক্ষার হলে বসে ছেলের প্রতিটি উত্তর খাতায় লিখে দিতেন। মা ও ছেলের এই অবিরাম পরিশ্রম, সমন্বয় এবং চোখের জল আজ সাফল্যের শেষ শিখরে পৌঁছেছে। সম্যক অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করেন যে, তাঁর মা যদি এভাবে নিজের সমস্ত সুখ-আরাম ত্যাগ করে তাঁর পাশে না দাঁড়াতেন, তবে এই কঠিন স্বপ্ন পূরণ হওয়া হয়তো কোনোদিনই সম্ভব হত না ।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: 'বড় কালেক্টর নাকি?', ডাক্তারির সময় কটাক্ষ শুনে চাপে জেদ, IAS হলেন প্রিয়াঙ্কা

যেভাবে চলত ইউপিএসসি প্রস্তুতির কঠিন লড়াই

দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য ইউপিএসসির বিশাল সিলেবাস শেষ করা এক পর্বতপ্রমাণ চ্যালেঞ্জ। সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মতো বই দেখে পড়ার সুযোগ সম্যকের ছিল না। তাই তিনি সম্পূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন অডিয়ো বুক এবং স্ক্রিন-রিডিং সফটওয়্যারের (যা টেক্সটকে ভয়েসে রূপান্তর করে) মাধ্যমে দিনরাত পড়াশোনা করতেন। দেশ-বিদেশের খবরের কাগজ পড়ার জন্য তিনি অডিয়ো ফর্ম্যাটের সাহায্য নিতেন এবং কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য পডকাস্ট শুনতেন।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Mental Tips: ০.২ নম্বরের জন্য CSAT-এ 'ফেল', কীভাবে হতাশ না হয়েও ৫ চেষ্টায় UPSC-তে সফল সৃষ্টি?

তাঁর ঐচ্ছিক বিষয় ছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। প্রস্তুতি চলাকালীন তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেবিল-চেয়ারে বসে থাকার চেয়ে পড়ার গুণগত মান বজায় রাখার ওপর বেশি জোর দিয়েছিলেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe