ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার দীর্ঘ যাত্রায় মেধা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই বেশি জরুরি হল ধৈর্য এবং মানসিক দৃঢ়তা। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের মেয়ে সৃষ্টি গোয়েল সেই দৃঢ়তার এক অনন্য উদাহরণ। কখনও প্রিলিমিনারি পাশ করতে না পারা, আবার কখনও সি-স্যাট (CSAT) পেপারে মাত্র ০.২ নম্বরের জন্য স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার —সব বাধা অতিক্রম করে নিজের পঞ্চম প্রচেষ্টায় সর্বভারতীয় ১৬০ তম র্যাঙ্ক অর্জন করেছেন তিনি। সৃষ্টির এই যাত্রা হার না মানা জেদ এবং পরিশ্রমের এক উজ্জ্বল দলিল।
ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে সমাজসেবার আঙিনায়

সৃষ্টির প্রাথমিক পড়াশোনা এবং কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং গোয়ালিয়র থেকেই। পেশায় ব্যবসায়ী বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়েকে সিভিল সার্ভিসে দেখা। কলেজের দিনগুলোতে এনজিওয়ের হয়ে কাজ করতে গিয়ে সৃষ্টি সমাজের নিচুতলার মানুষের সমস্যার সম্মুখীন হন। প্রায় তিন বছর বিভিন্ন স্তরের মানুষের অভাব-অভিযোগ দেখার পর তিনি উপলব্ধি করেন যে সমাজব্যবস্থায় প্রকৃত পরিবর্তন আনতে গেলে প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য থেকেই শুরু হয় ইউপিএসসির প্রস্তুতি।
বারবার স্বপ্নভঙ্গ এবং ০.২ নম্বরের যন্ত্রণাদায়ক হার
সৃষ্টির ইউপিএসসি সফর মোটেই মসৃণ ছিল না। ২০২১ সালে খুব সামান্য নম্বরের জন্য প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। ২০২২ সালে ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার পর্যন্ত পৌঁছালেও চূড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম দেখতে পাননি। কিন্তু সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছিল ২০২৩ সালে। সেই বছর প্রিলিমিনারির সি-স্যাট পেপারে মাত্র ০.২ নম্বরের জন্য তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
শুধু UPSC নয়, RBI গ্রেড-বি পরীক্ষাতেও মাত্র ০.২ নম্বরের জন্য তিনি সুযোগ মেলেনি। মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPPSC) পরীক্ষায় এক নম্বরের জন্য বাদ পড়েন। বারবার সাফল্যের খুব কাছে গিয়ে ফিরে আসা যে কোনও শিক্ষার্থীর জন্যই অত্যন্ত হতাশাজনক। সৃষ্টি নিজেও একসময় ভেঙে পড়েছিলেন এবং মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপের শিকার হয়েছিলেন। এমনকী অসুস্থতার কারণে একবার মেনস পরীক্ষাও দিতে পারেননি তিনি।
{{/usCountry}}শুধু UPSC নয়, RBI গ্রেড-বি পরীক্ষাতেও মাত্র ০.২ নম্বরের জন্য তিনি সুযোগ মেলেনি। মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPPSC) পরীক্ষায় এক নম্বরের জন্য বাদ পড়েন। বারবার সাফল্যের খুব কাছে গিয়ে ফিরে আসা যে কোনও শিক্ষার্থীর জন্যই অত্যন্ত হতাশাজনক। সৃষ্টি নিজেও একসময় ভেঙে পড়েছিলেন এবং মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপের শিকার হয়েছিলেন। এমনকী অসুস্থতার কারণে একবার মেনস পরীক্ষাও দিতে পারেননি তিনি।
{{/usCountry}}দিল্লিতে প্রস্তুতি এবং সাফল্যের চাবিকাঠি
সৃষ্টি বুঝতে পেরেছিলেন যে কেবল বই পড়লেই হবে না, পরীক্ষার চাপ সামলানোর কৌশল রপ্ত করতে হবে। মেনস পরীক্ষার ঠিক এক মাস আগে তিনি দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে তিনি প্রতিদিন অন্তত একটি বা দুটি করে মক টেস্ট দিতে শুরু করেন। এই অনুশীলন তার লেখার গতি বাড়াতে, সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে এবং উত্তর উপস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। মেন্টরদের পরামর্শে তিনি নিজের ভুলগুলো শুধরে নেন।
ইন্টারভিউ বোর্ডে বুদ্ধিমত্তা ও ভারসাম্য
পঞ্চম প্রচেষ্টায় সৃষ্টি যখন ইন্টারভিউ বোর্ডে পৌঁছান, তখন তার লক্ষ্য ছিল শান্ত থাকা। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘যদি কোনও ভিনগ্রহের প্রাণী পৃথিবীকে দেখে, তবে মানুষের কোন তিনটি ভুল তার কাছে সবচেয়ে ভয়ংকর মনে হবে?’ এছাড়াও একজন আইপিএস অফিসার হিসেবে হিংসা দমনের মতো চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এবং যুক্তিনির্ভর উত্তর দিয়ে বোর্ড সদস্যদের মুগ্ধ করেন।