...
...
Next Story

UPSC Civil Services Success Story: দুর্ঘটনায় স্মৃতিশক্তি হারান, ভুলে যান পড়াশোনা, সেই মেয়েই UPSC-তে করলেন বাজিমাত

UPSC Civil Services Success Story: দুর্ঘটনায় স্মৃতিশক্তি হারান, ভুলে যান পড়াশোনা, সেই মেয়েই ইউপিএসসি (ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন) সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় করলেন বাজিমাত। তিনি ৪৮৩ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেছেন।

Published on: May 16, 2026, 09:43:21 IST
Advertisement

UPSC Civil Services Success Story: ‘ইচ্ছাশক্তি যদি দৃঢ় হয়, তবে ভাগ্যকেও মাথানত করতে হয়’- এই উক্তিটিকেই নিজের জীবনে অক্ষরে-অক্ষরে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন কেরলমের কোঝিকোড়ের আথিরা সুগথন। ২০২৫ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় তিনি ৪৮৩ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেছেন। তবে তাঁর এই সাফল্য কেবল একটি কঠিন পরীক্ষা পাশের গল্প নয়; এটি হল এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা, সম্পূর্ণ স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা এবং হুইলচেয়ারে বন্দি জীবনের বিরুদ্ধে লড়াই করে জিতে ফেরার এক রূপকথা। এটি ছিল তাঁর চতুর্থ প্রচেষ্টা।

যে অভিশপ্ত দিনটি জীবন বদলে দিয়েছিল

২০২৫ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় তিনি ৪৮৩ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেছেন আথিরা সুগথন। (ফাইল ছবি)
২০২৫ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় তিনি ৪৮৩ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেছেন আথিরা সুগথন। (ফাইল ছবি)

সময়টা ছিল ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি। আথিরা তখন বেঙ্গালুরুতে থেকে ব্যাচেলর অফ ডেন্টাল সার্জারি (BDS) নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। সবকিছু স্বাভাবিক ছন্দেই চলছিল। কিন্তু আচমকাই এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর হাসিখুশি জীবনকে তছনছ করে দেয়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আথিরার শরীরের নিচের অংশ প্যারালাইজড হয়ে যায় এবং তাঁকে চিরতরে হুইলচেয়ারের আশ্রয় নিতে হয়। মাসের পর মাস হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাঁকে কোঝিকোড়ে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

অ্যামনেশিয়া: যখন মুছে গেল জীবনের সব চেনা পাতা

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাই শেষ ছিল না, ভাগ্যের আরও বড় মার খাওয়া বাকি ছিল আথিরার। দুর্ঘটনার ট্রমা থেকে তিনি ‘অ্যামনেশিয়া’-য় আক্রান্ত হন। আথিরা জানান, ‘প্রায় দুই বছর আমি অ্যামনেশিয়ার অন্ধকারে ডুবে ছিলাম। আমি সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েছিলাম যে আমি ডেন্টিস্ট্রি নিয়ে পড়াশোনা করছিলাম। আমার জীবনের সেই সোনালী দিনগুলোর কোনও অস্তিত্বই আমার মস্তিষ্কে ছিল না।’

দীর্ঘ দুই বছর এই মানসিক অন্ধকারের পর, চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার মাধ্যমে ধীরে-ধীরে তাঁর স্মৃতিশক্তি ফিরতে শুরু করে। অতীত মনে পড়তেই আথিরা ভেঙে না পড়ে তাঁর জীবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি পুনরায় বেঙ্গালুরুর সেই কলেজে ফিরে যান। তাঁর পরিবার সেখানে তাঁর দেখাশোনার জন্য একজন কেয়ারটেকারের ব্যবস্থা করে। আথিরার কথায়, ‘আমি প্রথম তিন বছরের সমস্ত পড়াশোনা ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। স্ক্র্যাচ থেকে আবার শুরু করে অবশেষে আমি আমার বিডিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করি।’

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Topper: ১ কোটির চাকরি ছেড়ে UPSC প্রস্তুতি, প্রথমবারেই IAS টপার হলেন IIT বম্বের প্রাক্তনী

কোভিড মহামারী এবং জীবনের নতুন লক্ষ্য

২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময়ে অথিরা কোঝিকোড়ে ফিরে আসেন এবং একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য কাজ শুরু করেন। এই কাজটিই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি বুঝতে পারেন, সমাজব্যবস্থায় এই মানুষগুলোর লড়াই কতটা কঠিন। আথিরা ভাবলেন, যদি তিনি বড় কোনও পদে থেকে নীতিনির্ধারণে অংশ নিতে পারেন, তবে এই পিছিয়ে পড়া সমাজের জন্য প্রকৃত পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই ভাবনা থেকেই তাঁর সিভিল সার্ভিসের দিকে পা বাড়ানো।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: 'বড় কালেক্টর নাকি?', ডাক্তারির সময় কটাক্ষ শুনে চাপে জেদ, IAS হলেন প্রিয়াঙ্কা

বোনের এক অতুলনীয় আত্মত্যাগ

অথিরার এই দীর্ঘ এবং কঠিন লড়াইয়ের পিছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হলেন তাঁর বোন অনঘা। অনঘা তখন বিএসসি সাইকোলজি পড়ছিলেন। কিন্তু দিদির সার্বক্ষণিক যত্ন ও সহায়তার জন্য তিনি নিজের পড়ার বিষয় পরিবর্তন করে বিএসসি নার্সিংয়ে ভর্তি হন, যাতে চিকিৎসাগতভাবে দিদিকে আরও ভালো সাপোর্ট দিতে পারেন। ইন্টারভিউ বোর্ডে যখন আথিরাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তাঁর সেরা বন্ধু কে, তিনি অকপটে তাঁর বোনের নাম নিয়েছিলেন। এছাড়া তাঁর এলআইসি এজেন্ট বাবা সুগথন এবং মা মিনি প্রতি মুহূর্তে তাঁর ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe