UPSC Civil Services Success Story: ‘ইচ্ছাশক্তি যদি দৃঢ় হয়, তবে ভাগ্যকেও মাথানত করতে হয়’- এই উক্তিটিকেই নিজের জীবনে অক্ষরে-অক্ষরে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন কেরলমের কোঝিকোড়ের আথিরা সুগথন। ২০২৫ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় তিনি ৪৮৩ তম র্যাঙ্ক অর্জন করেছেন। তবে তাঁর এই সাফল্য কেবল একটি কঠিন পরীক্ষা পাশের গল্প নয়; এটি হল এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা, সম্পূর্ণ স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা এবং হুইলচেয়ারে বন্দি জীবনের বিরুদ্ধে লড়াই করে জিতে ফেরার এক রূপকথা। এটি ছিল তাঁর চতুর্থ প্রচেষ্টা।
যে অভিশপ্ত দিনটি জীবন বদলে দিয়েছিল

সময়টা ছিল ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি। আথিরা তখন বেঙ্গালুরুতে থেকে ব্যাচেলর অফ ডেন্টাল সার্জারি (BDS) নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। সবকিছু স্বাভাবিক ছন্দেই চলছিল। কিন্তু আচমকাই এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর হাসিখুশি জীবনকে তছনছ করে দেয়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আথিরার শরীরের নিচের অংশ প্যারালাইজড হয়ে যায় এবং তাঁকে চিরতরে হুইলচেয়ারের আশ্রয় নিতে হয়। মাসের পর মাস হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাঁকে কোঝিকোড়ে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
অ্যামনেশিয়া: যখন মুছে গেল জীবনের সব চেনা পাতা
শারীরিক প্রতিবন্ধকতাই শেষ ছিল না, ভাগ্যের আরও বড় মার খাওয়া বাকি ছিল আথিরার। দুর্ঘটনার ট্রমা থেকে তিনি ‘অ্যামনেশিয়া’-য় আক্রান্ত হন। আথিরা জানান, ‘প্রায় দুই বছর আমি অ্যামনেশিয়ার অন্ধকারে ডুবে ছিলাম। আমি সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েছিলাম যে আমি ডেন্টিস্ট্রি নিয়ে পড়াশোনা করছিলাম। আমার জীবনের সেই সোনালী দিনগুলোর কোনও অস্তিত্বই আমার মস্তিষ্কে ছিল না।’
আয়ুর্বেদের ম্যাজিক ও পড়াশোনায় প্রত্যাবর্তন
{{/usCountry}}আয়ুর্বেদের ম্যাজিক ও পড়াশোনায় প্রত্যাবর্তন
{{/usCountry}}দীর্ঘ দুই বছর এই মানসিক অন্ধকারের পর, চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার মাধ্যমে ধীরে-ধীরে তাঁর স্মৃতিশক্তি ফিরতে শুরু করে। অতীত মনে পড়তেই আথিরা ভেঙে না পড়ে তাঁর জীবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি পুনরায় বেঙ্গালুরুর সেই কলেজে ফিরে যান। তাঁর পরিবার সেখানে তাঁর দেখাশোনার জন্য একজন কেয়ারটেকারের ব্যবস্থা করে। আথিরার কথায়, ‘আমি প্রথম তিন বছরের সমস্ত পড়াশোনা ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। স্ক্র্যাচ থেকে আবার শুরু করে অবশেষে আমি আমার বিডিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করি।’
কোভিড মহামারী এবং জীবনের নতুন লক্ষ্য
২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময়ে অথিরা কোঝিকোড়ে ফিরে আসেন এবং একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য কাজ শুরু করেন। এই কাজটিই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি বুঝতে পারেন, সমাজব্যবস্থায় এই মানুষগুলোর লড়াই কতটা কঠিন। আথিরা ভাবলেন, যদি তিনি বড় কোনও পদে থেকে নীতিনির্ধারণে অংশ নিতে পারেন, তবে এই পিছিয়ে পড়া সমাজের জন্য প্রকৃত পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই ভাবনা থেকেই তাঁর সিভিল সার্ভিসের দিকে পা বাড়ানো।
বোনের এক অতুলনীয় আত্মত্যাগ
অথিরার এই দীর্ঘ এবং কঠিন লড়াইয়ের পিছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হলেন তাঁর বোন অনঘা। অনঘা তখন বিএসসি সাইকোলজি পড়ছিলেন। কিন্তু দিদির সার্বক্ষণিক যত্ন ও সহায়তার জন্য তিনি নিজের পড়ার বিষয় পরিবর্তন করে বিএসসি নার্সিংয়ে ভর্তি হন, যাতে চিকিৎসাগতভাবে দিদিকে আরও ভালো সাপোর্ট দিতে পারেন। ইন্টারভিউ বোর্ডে যখন আথিরাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তাঁর সেরা বন্ধু কে, তিনি অকপটে তাঁর বোনের নাম নিয়েছিলেন। এছাড়া তাঁর এলআইসি এজেন্ট বাবা সুগথন এবং মা মিনি প্রতি মুহূর্তে তাঁর ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।