UPSC Civil Services Success Story: ইচ্ছে আর কঠোর পরিশ্রম যদি মানুষের সঙ্গী হয়, তবে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে বাধ্য। এই প্রবাদটিকেই বাস্তবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন হরিয়ানার এক প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে দিব্যা তনওয়ার। তাঁর সাফল্যের কাহিনী কেবল একটি কঠিন পরীক্ষা পাশ করার গল্প নয়; বরং এটি চরম দারিদ্র্য, সামাজিক প্রতিকূলতা এবং এক মায়ের অদম্য লড়াইয়ের এক অনন্য দলিল। সমস্ত বাধা-বিপত্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিব্যা মাত্র ২১ বছরে আইপিএস এবং পরের বছর আইএএস অফিসার হয়েছেন। ছোটোবেলায় বাবাকে হারিয়েছিলেন তিনি। মা দিনের বেলায় ক্ষেতে কাজ করতেন। রাতে সেলাইয়ের কাজ করতেন মা।

দিব্যা ছোটোবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। গ্রামের সরকারি স্কুলেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। এরপর নিজের প্রতিভার জোরে তিনি জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। স্কুল পাশ করার পরে তিনি একটি সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। স্কুলে পড়ার সময় একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন এক মহকুমা শাসক। সেই অফিসারকে দেখে ছোট্ট দিব্যার মনে প্রথম প্রশাসনিক অফিসার হওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল। নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে এবং মায়ের ওপর থেকে কিছুটা আর্থিক চাপ কমাতে দিব্যা ছোটো বাচ্চাদের টিউশন পড়ানোও শুরু করেছিলেন।
দামি কোচিং বা ইন্টারনেট ছাড়াই কেল্লাফতে
কোনও নামী কোচিং সেন্টারের সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ সেলফ স্টাডি এবং ইন্টারনেটের কিছু নিখরচায় পাওয়া স্টাডি মেটেরিয়ালের ওপর ভরসা করে তিনি প্রস্তুতি শুরু করেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন হিন্দি মাধ্যমকে এবং এনসিইআরটি বইগুলোকে নিজের প্রস্তুতির মূল ভিত্তি বানিয়ে প্রতিদিন টানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন।
{{/usCountry}}কোনও নামী কোচিং সেন্টারের সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ সেলফ স্টাডি এবং ইন্টারনেটের কিছু নিখরচায় পাওয়া স্টাডি মেটেরিয়ালের ওপর ভরসা করে তিনি প্রস্তুতি শুরু করেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন হিন্দি মাধ্যমকে এবং এনসিইআরটি বইগুলোকে নিজের প্রস্তুতির মূল ভিত্তি বানিয়ে প্রতিদিন টানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন।
{{/usCountry}}প্রথমবারেই ২১ বছর বয়সে IPS, ২২-এ IAS এর মুকুট
দিব্যার এই কঠোর তপস্যার ফল মিলেছিল ২০২১ সালে। মাত্র ২১ বছরেই নিজের প্রথম অ্যাটেম্পটে ৪৩৮ তম র্যাঙ্ক করে ইউপিএসসি ক্র্যাক করেন তিনি। দেশের অন্যতম কনিষ্ঠ মহিলা আইপিএস অফিসার হন দিব্যা। তিনি মণিপুর ক্যাডারে ছিলেন। তাঁর ট্রেনিংও শুরু করে দিয়েছিলেন।
কিন্তু দিব্যার মূল লক্ষ্য ছিল আইএএস হওয়ার। আইপিএসের কঠিন ট্রেনিং ও কর্তব্যের মাঝেই তিনি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যান। নিজের জেদ ও পরিশ্রমের জোরে ২০২২ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় তিনি অভাবনীয় সাফল্য পান। এবার ভারতে ১০৫ তম র্যাঙ্ক অর্জন করে মাত্র ২২ বছরে নিজের স্বপ্নপূরণ করে আইএএস অফিসার হন দিব্যা।