UPSC Civil Services Success Story: বাবার খুনের পরে UPSC দিয়ে IPS হলেন বজরং, হত্যাকারীদেরও হল জেল, ভাসলেন আবেগে
UPSC Civil Services Success Story: ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা দিয়ে আইপিএস অফিসার হয়েছেন। আর তাঁর বাবাকে হত্যা করা হয়েছিল গ্রাম্য বিবাদের কারণে। সেই হত্যাকারীদের সাজা দিয়েছে আদালত। তারপর আবেগে ভেসে গিয়েছেন।
UPSC Civil Services Success Story: জমি ও গ্রাম সংক্রান্ত বিবাদের জেরে বাবাকে খুন করেছিল দুষ্কৃতীরা। নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। তারপর ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা দিয়ে তৃতীয় অ্যাটেম্পটে আইপিএস অফিসার হয়েছেন ছেলে। শুধু তাই নয়, পুলিশের অফিসার হিসেবে তিনি দেখেছেন যে বাবার হত্যার ঘটনায় যুক্ত অপরাধীদের শাস্তি দিয়েছে আদালত। আর সেই ঘটনার পরে আবেগে ভেসে গিয়েছেন আইপিএস অফিসার বজরং প্রসাদ।

অঙ্কে স্নাতক, শস্য বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ চালানো
বাবার মৃত্যুর পরে পড়াশোনার খরচ চালানোও প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল বজরঙের। এই ঘটনায় সমগ্র পরিবার ভেঙে পড়েছিল এবং আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিল। কিন্তু বজরং পিছু হঠেননি। বরং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করেন। তিনি স্থির করেন, এমন এক প্রশাসনিক অবস্থানে পৌঁছাবেন, যেখানে কেবল বাবার হত্যার ন্যায়বিচারই নিশ্চিত হবে না, বরং অন্য কোনও পরিবারকেও যেন এই ধরনের অন্যায় সহ্য করতে না হয়।
সেইমতো শস্য বিক্রি করে দিল্লি গিয়ে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসের কোচিংয়ের ফি জমা দেন। দিল্লিতে থাকার খরচ এবং পড়াশোনা চালানোর প্রতিটি মুহূর্তে মা ছিলেন বজরঙের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ও শক্তির উৎস। যিনি গ্রামের স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পরে প্রয়াগরাজ থেকে অঙ্কে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি মোটেই সহজ ছিল না।
আরও পড়ুন: UPSC Success Story: টাকা বাঁচাতে ৭ কিমি সাইকেল চালিয়ে পড়তে যেতেন, UPSC দিয়ে IAS হলেন কৃষকের ছেলে
তৃতীয় অ্যাটেম্পটে বাজিমাত করে IPS অফিসার হলেন বজরং
প্রথম দুটি অ্যাটেম্পটে কাঙ্খিত সাফল্য পাননি বজরং। তবে এই ব্যর্থতা তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। নিজের ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নিয়ে মাতৃভাষা তথা হিন্দি মাধ্যমকেই নিজের প্রধান শক্তি হিসেবে বেছে নেন। অবশেষে ২০২৩ সালে তৃতীয় অ্যাটেম্পটে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ৪৫৪ তম র্যাঙ্ক অর্জন করে আইপিএস অফিসার হন।
আরও পড়ুন: Success Story: মা বেচতেন সবজি, বাবা দিনমজুর, সেই ছেলেরই টানা ৩ বার UPSC-তে বাজিমাত, হলেন IPS
IPS অফিসার ছেলে দেখলেন বাবা হত্যায় যুক্ত শাস্তি
আর সেই কর্মজীবনেই সবথেকে বড় মুহূর্ত আসে বজরঙের জীবনে। বাবার হত্যা মামলায় অভিযুক্ত নয়জনকেই দণ্ডিত করে আদালত। ১০ বছরের কঠোর কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৭,৫০০ টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর আদালতের এই রায়ের পর আইপিএস অফিসার বজরং বলেন, ‘আজ আমার বাবার হত্যাকাণ্ডে যুক্ত নয়জন অভিযুক্তকেই বস্তির প্রথম অতিরিক্ত দায়রা আদালত ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠিয়েছেন।’
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


