UPSC Civil Services Success Story: পণের নির্মম অত্যাচার থেকে সমাজের অবহেলা—সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কোনও ইন্টারনেট বা ইংরেজি সংবাদপত্র ছাড়াই নিজের চতুর্থ চেষ্টায় UPSC ক্র্যাক করে আজ একজন সফল আইআরএস (IRS) অফিসার হয়ে উঠেছেন কোমল গণাত্রা। গুজরাটি মাধ্যমে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। মেধাবী কোমল আলাদা-আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনটি ভিন্ন ভাষায় ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও রাজকোট গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা এবং বাবাসাহেব আম্বেদকর ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে বিএ পাশ করেন তিনি।
বিয়ের পিঁড়িতে বসার চরম মূল্য এবং প্রতারণা

২০০৮ সাল। কোমল তখন গুজরাট লোকসেবা আয়োগের (GPSC) মেইনস পরীক্ষায় পাশ করে অফিসার হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। ঠিক সেই সময়েই এক এনআরআই যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়। সংসার ও সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় জীবনের এক মস্ত বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সিভিল সার্ভিসের চূড়ান্ত ইন্টারভিউতে অংশ না নিয়েই ২৬ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ড প্রবাসী এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
কিন্তু বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই তাঁর স্বপ্নের পৃথিবী তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে। বিয়ের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় কোমলকে ভারতে একা ফেলে রেখে তাঁর স্বামী নিউজিল্যান্ডে পালিয়ে যান।
সমাজের নির্মম খোটা ও গ্রামের একাকী নির্বাসন
সেই ধাক্কা কাটিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন কোমল। কিন্তু আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা পাশে দাঁড়ানোর বদলে তাঁকে দেখলেই তাঁর পলাতক স্বামী ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাঁকা মন্তব্য করতে শুরু করেন। ঘর থেকে বের হলেই ধেয়ে আসত সমাজের হাজারো কটূকথা। সেই পরিস্থিতিতে নিজের শহর ছেড়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের এক প্রত্যন্ত গ্রামে একা থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র ৫,০০০ টাকা বেতনে শিক্ষিকার চাকরি নেন। সেইসঙ্গে সিস্টেমের অংশ হওয়ার জন্য নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। গ্রামের সেই ভাঙা ঘরে বসেই তিনি স্থির করেন, চোখের জল ফেলে নয়, বরং নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে সমাজের এই নির্মম অপমানের জবাব দেবেন।
{{/usCountry}}সেই ধাক্কা কাটিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন কোমল। কিন্তু আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা পাশে দাঁড়ানোর বদলে তাঁকে দেখলেই তাঁর পলাতক স্বামী ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাঁকা মন্তব্য করতে শুরু করেন। ঘর থেকে বের হলেই ধেয়ে আসত সমাজের হাজারো কটূকথা। সেই পরিস্থিতিতে নিজের শহর ছেড়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের এক প্রত্যন্ত গ্রামে একা থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র ৫,০০০ টাকা বেতনে শিক্ষিকার চাকরি নেন। সেইসঙ্গে সিস্টেমের অংশ হওয়ার জন্য নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। গ্রামের সেই ভাঙা ঘরে বসেই তিনি স্থির করেন, চোখের জল ফেলে নয়, বরং নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে সমাজের এই নির্মম অপমানের জবাব দেবেন।
{{/usCountry}}ইন্টারনেট ও ইংরেজি সংবাদপত্র ছাড়াই লড়াই
যে গ্রামে কোমল আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে UPSC প্রস্তুতির ন্যূনতম কোনও পরিকাঠামো ছিল না। গ্রামটিতে প্রায়শই বিদ্যুৎ থাকত না, ইন্টারনেটের কোনও সুযোগ-সুবিধা ছিল না এবং সিভিল সার্ভিসের জন্য অত্যন্ত জরুরি কোনও ইংরেজি সংবাদপত্রও পৌঁছাত না। কিন্তু কোনও বাধাই তাঁর জেদের কাছে টিকতে পারেনি।
সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত তিনি নিষ্ঠার সাথে স্কুলে বাচ্চাদের পড়াতেন। এরপর প্রতি শনি ও রবিবার কোচিংয়ের জন্য গ্রাম থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আমদাবাদে যেতেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে তিনি স্কুল থেকে একদিনও ছুটি নেননি। প্রথম তিনবার পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেও তিনি ভেঙে পড়েননি। ২০১২ সালে তাঁর চতুর্থ প্রচেষ্টার সময় পরীক্ষার কেন্দ্র পড়েছিল মুম্বইয়ে। স্কুল শেষ করে সারারাত ট্রেনে ভ্রমণ করে মুম্বাই পৌঁছান, পরীক্ষা দেন এবং আবার ট্রেনে চড়ে পরদিনই স্কুলে নিজের কাজে যোগ দেন।তপস্যা ও ইস্পাতকঠিন মানসিকতার ফল অবশেষে পান কোমল। ২০১২ সালের UPSC পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ৫৯১ তম র্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি 'ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস' (IRS) অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন।