UPSC Civil Services Success Story: ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের চাকরি করতেন। সেখান থেকে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসের পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। আইআইটির প্রাক্তনী বাজিমাত করেছেন সিভিল সার্ভিসেসের পরীক্ষায়। ২০২৫ সালের পরীক্ষায় ৪০২ তম স্থান অধিকার করেছেন লখনউয়ের পীযূষ কাপুর।
আইআইটি থেকে গুগলে গুরুত্বপূর্ণ পদ
পীযূষ বরাবরই একজন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। আইআইটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেছিলেন। এরপরই সুযোগ পান টেক জায়ান্ট গুগলে। ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউয়ে গুগলের সদর দফতরে কর্মরত থাকাকালীন তিনি জিমেলকে স্প্যাম এবং ফিশিংয়ের মতো বড় ধরনের সাইবার হুমকি থেকে রক্ষা করার সিকিউরিটি মেকানিজম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। সেখানে একটি লিডারশিপ রোল সামলানোর পাশাপাশি ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেসের পরীক্ষার বিশাল সিলেবাসের মহাসমুদ্র পার করা সাধারণ কোনও ব্যাপার নয়।
১২ ঘণ্টার মুখস্থ বিদ্যা নয়, পীযূষের মন্ত্র ছিল ‘কনসিস্টেন্সি’
সাধারণত মনে করা হয়, ইউপিএসসি পাশ করতে হলে দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পড়তেই হবে। কিন্তু পীযূষ এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছেন। নিজের প্রস্তুতির কৌশল নিয়ে পীযূষ বলেন, ‘আমার মূল মন্ত্র ছিল খুবই স্পষ্ট- ইনটেনসিটির (তীব্রতা) চেয়ে কনসিস্টেন্সির (ধারাবাহিকতা) ওপর বেশি জোর দেওয়া। আমি সেই দলে ছিলাম না, যারা দিনে ১২ ঘণ্টা পড়তে পারে, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে তা বজায় রাখা অসম্ভব। আমি প্রতিদিন মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা গভীর এবং সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতাম।’ সারাদিনের কাজের ক্লান্তি দূর করতে এবং মানসিক ও শারীরিকভাবে ফিট থাকতে তিনি তাঁর অবসর সময়টুকু জিমে কাটাতে পছন্দ করতেন।
আমেরিকার টাইম জোন যেভাবে আশীর্বাদ হয়ে উঠল
{{/usCountry}}আমেরিকার টাইম জোন যেভাবে আশীর্বাদ হয়ে উঠল
{{/usCountry}}আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে প্রায় ১৩ ঘণ্টার সময়ের ব্যবধান রয়েছে। এই ব্যবধান সাধারণত মানুষের জন্য সমস্যার কারণ হলেও, পীযূষ এটিকে নিজের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বানিয়ে তুলেছিলেন। পীযূষের কথায়, ‘যখন ভারতে প্রতিদিন সকালে খবরের কাগজ, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এবং বিভিন্ন কোচিংয়ের স্টাডি মেটেরিয়াল প্রকাশিত হত, তখন ক্যালিফোর্নিয়ায় সন্ধ্যা নামত। এর ফলে আমি আমার অফিস ডিউটিতে কোনও ক্ষতি না করে একদম রিয়েল-টাইমে ভারতের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেয়ে যেতাম। আমার অফিসের কাজ শুরু হওয়ার আগেই আমি আমার পড়াশোনার দৈনিক কোটা শেষ করে ফেলতাম।’
ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা এবং পরিবারের ভূমিকা
এই সাফল্য কিন্তু একবারে আসেনি। পঞ্চম অ্যাটেম্পটে সাফল্য লাভ করেন। আগের চারটি অ্যাটেম্পটে কাঙ্খিত সাফল্য আসেনি। দূর দেশে একা থেকে চাকরি ও পড়াশোনা সামলানো এবং বারবার ব্যর্থ হওয়া যে কোনও মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলার জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার তাঁর পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছিল।