মধ্য-প্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যে ‘যুদ্ধ’ চলছে, তাতে ইতি পড়ার আপাতত কোনও ইঙ্গিত মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, যে আমেরিকা একসময় রাশিয়ার তেল বিক্রির উপর কঠোর বিধিনিষেধ চাপিয়েছিল, এখন তারাই ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে ভ্লাদিমির পুতিনদের কাছ থেকে তেল কেনার জন্য রীতিমতো কাকুতি-মিনতি করছে।
ফেঁসে গিয়েছে আমেরিকা?

ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক নীতিকে 'বিপর্যস্ত' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এমন এক গোলকধাঁধায় আটকে পড়েছে, যেখানে একদিকে বন্ধুদের স্বার্থরক্ষা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার উপর পরোক্ষভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে। ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে, হোয়াইট হাউস এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে উৎসাহিত করছে, যাতে তারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখে। তবেই বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঠিক থাকবে এবং আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
ভারতের হাতেপায়ে ধরছে আমেরিকা, খোঁচা ইরানের
ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার জন্য মাসের পর মাস ধরে ভারতকে হুমকি দিয়ে আসছে আমেরিকা। কিন্তু ইরানের সঙ্গে দু'সপ্তাহ যুদ্ধ হতে না হতেই রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারত-সহ বিশ্বের হাতেপায়ে ধরছে হোয়াইট হাউস। ইউরোপ ভেবেছিল যে ইরানের বিরুদ্ধে বেআইনি যুদ্ধে আমেরিকাকে সমর্থন করলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন সমর্থন পাবে। জঘন্য।’
রাশিয়ার তেল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ইউ-টার্ন কেন?
{{/usCountry}}রাশিয়ার তেল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ইউ-টার্ন কেন?
{{/usCountry}}আর তিনি সেই মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নয়া ঘোষণার পরে। আমেরিকার তরফে দাবি করা হয়েছে যে আপাতত রাশিয়ার তেল কেনার ‘অনুমতি’ দেওয়া হয়েছে। সেই বিষয়টির পিছনে গভীর অর্থনৈতিক সমীকরণ আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদি রাশিয়া থেকে তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে। আর তেলের দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়বে মার্কিন অর্থনীতির ওপর, যা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামাতে পারে।
এই কারণেই হোয়াইট হাউস এখন 'কৌশলগত নীরবতা' পালন করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, তারা একদিকে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার বুলি আওড়াচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে ভারত বা চিনের মতো বৃহৎ আমদানিকারকদের রুশ তেল কেনা থেকে আটকাতে কঠোর কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ইরানের ভাষায়, এটি আমেরিকার দ্বিমুখী নীতি এবং চরম অসহায়ত্বের বহিঃপ্রকাশ।