ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আমেরিকা সংঘর্ষবিরতির পথে হাঁটবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যে লক্ষ্য নিয়ে ইরান যুদ্ধের সূত্রপাত করা হয়েছিল, তা পূরণের কাছাকাছি চলে গিয়েছে আমেরিকা। সেই রেশ ধরে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘দেখুন, আমরা আলোচনা করতে পারি। কিন্তু আমি যুদ্ধবিরতি করতে চাই না। আপনারা জানেন, যখন আপনি অপর পক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন, তখন যুদ্ধবিরতি করা হয় না।’ সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, একটা সময় 'নিজে নিজেই' খুলে যাবে হরমুজ প্রণালী। তবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক সহায়তার প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, চিন বা জাপানোর মতো দেশ যদি সেই কাজে যুক্ত হয়, তাহলে ব্যাপারটা ভালো হবে।
হরমুজ প্রণালীর তেমন প্রয়োজন নেই আমেরিকার, দাবি ট্রাম্পের
ট্রাম্প দাবি করছেন, প্রয়োজনমতো হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা দরকার। সেখানে নজরদারি চালাতে হবে। তবে সেটা আমেরিকার ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য নয়। কারণ আমেরিকা এই নৌপথ সেরকম ব্যবহার করে না। কিন্তু যে যে দেশ সেই নৌপথ ব্যবহার করে, সেগুলির জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে। সেই পরিস্থিতিতে কোনও দেশ যদি সহায়তার আর্জি জানায়, তাহলে সেগুলিকে সাহায্য করা হবে। এমনিতে সেটার প্রয়োজন নেই। কারণ ইরানের তরফ যে বিপদের আশঙ্কা ছিল, তা নির্মূল করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
ইরানে সামরিক অভিযান কমিয়ে আনবেন ট্রাম্প?
সেই রেশ ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ধাপে-ধাপে ইরানের সামরিক অভিযান কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছে মার্কিন প্রশাসন। তাঁর কথায়, 'আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। (সেই পরিস্থিতিতে) ইরানের জঙ্গি শাসনের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মহান সামরিক অভিযান ধাপে-ধাপে গুটিয়ে আনার কথা বিবেচনা করছি।'
আরও পড়ুন: Global Terrorism Index: সন্ত্রাসবাদ সূচকে শীর্ষে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ এই তালিকায় কত নম্বরে?
মধ্যপ্রাচ্যে আরও যুদ্ধজাহাজ ও নৌসেনা জওয়ান পাঠাচ্ছে আমেরিকা
{{/usCountry}}আরও পড়ুন: Global Terrorism Index: সন্ত্রাসবাদ সূচকে শীর্ষে পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশ এই তালিকায় কত নম্বরে?
মধ্যপ্রাচ্যে আরও যুদ্ধজাহাজ ও নৌসেনা জওয়ান পাঠাচ্ছে আমেরিকা
{{/usCountry}}যদিও ট্রাম্প মুখে সেই কথা বললেও ইরানের হুঁশিয়ারির মুখে মধ্যপ্রাচ্যে আরও যুদ্ধজাহাজ ও নৌসেনা পাঠাচ্ছে আমেরিকা। এক মার্কিন আধিকারিকের সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আরও তিনটি রণতরী পাঠাচ্ছে পেন্টাগন। সেইসঙ্গে আরও ২,৫০০-র মতো নৌসেনা জওয়ান পাঠানো হচ্ছে। নাম গোপন রাখার শর্তে যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আরও দুই মার্কিন আধিকারিক। তাঁরা জানিয়েছেন, ওই যুদ্ধজাহাজগুলি মোতায়েন করা হচ্ছে। তবে কোন দিকে যাচ্ছে সেগুলি, তা নিয়ে তাঁরা কোনও মন্তব্য করেননি।
আরও পড়ুন: 'এটা করবেন না...,' ইরানে হামলায় নয়া মোড়, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে নেতানিয়াহুর?