...
...
Next Story

কেন মহাদেবকেও ভিক্ষা নিতে হয়েছিল দেবী অন্নপূর্ণার থেকে? জানুন সেই কাহিনি

একবার মহাদেবকেও হাত পাততে হয়েছিল দেবী অন্নপূর্ণার সামনে। কী ঘটেছিল তখন? জেনে নিন।

Published on: Mar 16, 2026 01:00 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে বাংলার ঘরে ঘরে পালিত হয় অন্নপূর্ণা পুজো। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে এই পুজোটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মা অন্নপূর্ণা হলেন অন্ন ও পুষ্টির অধিষ্ঠাত্রী দেবী। তাঁর কৃপায় সংসারে কোনোদিন খাবারের অভাব হয় না—এমনই বিশ্বাস ভক্তদের হৃদয়ে।

কেন মহাদেবকেও ভিক্ষা নিতে হয়েছিল দেবী অন্নপূর্ণার থেকে? জানুন সেই কাহিনি
কেন মহাদেবকেও ভিক্ষা নিতে হয়েছিল দেবী অন্নপূর্ণার থেকে? জানুন সেই কাহিনি

সংসারে অভাব-অনটন দূর করতে এবং অন্নের সংস্থান নিশ্চিত করতে দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা অনাদিকাল থেকে চলে আসছে। দেবী অন্নপূর্ণা মূলত দেবী দুর্গা বা পার্বতীরই এক শান্ত ও মমতাময়ী রূপ। তাঁর এক হাতে রয়েছে অন্নের পাত্র এবং অন্য হাতে রত্নখচিত হাতা, যা দিয়ে তিনি জগতবাসীকে অন্ন বিলিয়ে দেন।

(আরও পড়ুন: শুক্রের মেষ রাশিতে গোচর, এপ্রিল থেকে ভাগ্য উজ্জ্বল হবে ৩ রাশির! মিলবে আকস্মিক ধনলাভ ও বিলাসবহুল জীবন)

অন্নপূর্ণা পুজোর নেপথ্যের কাহিনি: শিব ও পার্বতীর লীলা

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, একবার মহাদেব এবং পার্বতীর মধ্যে এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। শিব বলেন, ‘জগত এক মায়া, এবং খাদ্যও একটি মায়া।’ এই কথা শুনে দেবী পার্বতী রুষ্ট হন এবং তিনি জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। দেবী যেহেতু প্রকৃতিরূপী অন্নপূর্ণা, তাই তিনি অন্তর্হিত হওয়া মাত্রই ত্রিভুবনে দেখা দেয় প্রবল দুর্ভিক্ষ। চারদিকে হাহাকার পড়ে যায় এবং খোদ মহাদেবও ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন।

(আরও পড়ুন: ৩ দিন পর থেকে মহালক্ষ্মী রাজযোগ, চন্দ্র ও মঙ্গলের মিলনে ফিরবে ৩ রাশির ভাগ্য! ধনলাভের প্রবল যোগ)

শক্তিবাদ ও পুরাণের দৃষ্টিতে অন্নপূর্ণা

পুরাণ: দেবীভাগবত ও ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা হলেন সৃষ্টির আধার। কাশী বা বারাণসী হলো তাঁর প্রধান ক্ষেত্র। বলা হয়, কাশীতে কেউ না খেয়ে থাকে না, কারণ স্বয়ং দেবী সেখানে অন্ন বিলিয়ে দেন।

শক্তিবাদ: শাক্ত দর্শনে অন্নপূর্ণা হলেন 'পুষ্টিকারিণী' শক্তি। তিনি কেবল শারীরিক খিদে মেটান না, বরং আধ্যাত্মিক জ্ঞানের খিদেও মেটান। সাধকের কাছে তিনি জ্ঞান ও বৈরাগ্যের দেবী। তাঁর কৃপা ছাড়া কোনো সাধক পূর্ণতা লাভ করতে পারেন না।

(আরও পড়ুন: বারাণসী থেকে বাংলার জমিদার বাড়ি, ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গেও যোগ আছে অন্নপূর্ণা পুজোর)

জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রভাব

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, যাদের কুণ্ডলীতে চন্দ্র বা শুক্র গ্রহ দুর্বল এবং পরিবারে সবসময় আর্থিক টানাটানি বা অশান্তি লেগেই থাকে, তাঁদের জন্য অন্নপূর্ণা পুজো অত্যন্ত ফলদায়ক। চৈত্র মাসের এই তিথিতে দেবীর আরাধনা করলে ঘরের বাস্তুদোষ দূর হয় এবং 'অন্নদোষ' থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে অন্নপূর্ণা পুজোর দিন চাল বা শস্য দান করা অত্যন্ত পুণ্যকর্ম হিসেবে গণ্য হয়।

বাংলায় অন্নপূর্ণা পুজোর ঐতিহ্য

বাংলার জমিদারী ইতিহাসে অন্নপূর্ণা পুজোর বিশাল মহিমা রয়েছে। বিশেষ করে শোভাবাজার রাজবাড়িতে এবং চন্দননগরের বিভিন্ন চালপট্টিতে এই পুজো মহাসমারোহে পালিত হয়। অনেক বনেদি বাড়িতে অন্নপূর্ণার মূর্তি সোনার বা রুপোর হয়, যা আভিজাত্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক।

(আরও পড়ুন: পরের মাস থেকেই উজ্জ্বল হবে ৩ রাশির ভাগ্য, মিলবে রাজকীয় সম্মান ও অঢেল সম্পদ! নেপথ্যে শুক্রাদিত্য রাজযোগ)

অন্নপূর্ণা পুজো আমাদের শেখায় খাবারের অপচয় না করতে এবং আর্তকে অন্নদান করতে। দেবীর হাতের অন্নপাত্র আসলে পৃথিবীর উর্বরতার প্রতীক। বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সময়ে মা অন্নপূর্ণার আরাধনা প্রতিটি মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে এক বড় ভরসা। দেবীর আশীর্বাদে সবার ঘরে অন্নের ভাণ্ডার পূর্ণ থাকুক, এটাই হোক এই বছরের প্রার্থনা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe