আজই সেই দিন, আজই পাঠ করুন এই শক্তিশালী স্তোত্র, মা লক্ষ্মীর কৃপায় ফিরবে ভাগ্য

জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, শুক্র গ্রহ যদি কোনো জাতকের জন্মকুণ্ডলীতে শক্তিশালী অবস্থানে থাকে, তবে সেই ব্যক্তি জীবনে সমস্ত ধরনের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ধন-সম্পদ এবং সুখ্যাতি লাভ করেন।

Published on: Feb 20, 2026, 08:23:28 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

হিন্দু ধর্মে শুক্রবার দিনটি অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ। এই দিনটি মূলত ধন ও ঐশ্বর্যের দেবী মা লক্ষ্মী এবং জাগতিক সুখ ও বিলাসিতার কারক গ্রহ শুক্র দেবের আরাধনার জন্য নির্দিষ্ট। যদি কোনো ব্যক্তির জীবনে আর্থিক টানাটানি লেগেই থাকে বা দাম্পত্য জীবনে অশান্তি দেখা দেয়, তবে জ্যোতিষশাস্ত্রে শুক্রবারের কিছু বিশেষ উপায়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে 'শুক্র স্তোত্র' পাঠ হলো অন্যতম শক্তিশালী প্রতিকার।

আজই সেই দিন, আজই পাঠ করুন এই শক্তিশালী স্তোত্র, মা লক্ষ্মীর কৃপায় ফিরবে ভাগ্য
আজই সেই দিন, আজই পাঠ করুন এই শক্তিশালী স্তোত্র, মা লক্ষ্মীর কৃপায় ফিরবে ভাগ্য

সনাতন ধর্মে প্রতিটি দিনের জন্য আলাদা আলাদা দেব-দেবীর উপাসনার বিধান রয়েছে। শুক্রবার হলো মা লক্ষ্মীর বার। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, শুক্র গ্রহ যদি কোনো জাতকের জন্মকুণ্ডলীতে শক্তিশালী অবস্থানে থাকে, তবে সেই ব্যক্তি জীবনে সমস্ত ধরনের সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ধন-সম্পদ এবং সুখ্যাতি লাভ করেন। অন্যদিকে, শুক্র দুর্বল থাকলে অভাব-অনটন এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন পিছু ছাড়ে না। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শুক্রবারের বিশেষ পূজাবিধি ও শুক্র স্তোত্র পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম।

কেন পাঠ করবেন শুক্র স্তোত্র?

শুক্র দেবকে খুশি করার অন্যতম সেরা মাধ্যম হলো 'শুক্র স্তোত্র' (Shukra Stotra)। এই স্তোত্রটি ভক্তিভরে পাঠ করলে শুক্র গ্রহের অশুভ প্রভাব বা 'শুক্র দোষ' কেটে যায়। এটি কেবল অর্থপ্রাপ্তিতে সাহায্য করে না, বরং আপনার ব্যক্তিত্বে এক ধরণের আকর্ষণ তৈরি করে এবং পরিবারে সুখের পরিবেশ বজায় রাখে।

শুক্রবারের বিশেষ প্রতিকার ও পূজাবিধি:

১. শুক্র স্তোত্র পাঠের নিয়ম: শুক্রবার সূর্যোদয়ের পর স্নান সেরে পরিষ্কার সাদা পোশাক পরিধান করুন। কারণ শুক্র দেবের প্রিয় রং হলো সাদা। একটি শান্ত স্থানে বসে শুক্র দেবের ধ্যান করে স্তোত্রটি পাঠ করুন। এটি আপনার মনের অস্থিরতা কমিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলবে।

২. মা লক্ষ্মীর আরাধনা: শুক্রবার সন্ধ্যায় মা লক্ষ্মীর মূর্তির সামনে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান। দেবীকে সাদা রঙের মিষ্টি বা পায়েস অর্পণ করুন। 'কনকধারা স্তোত্র' বা 'লক্ষ্মী সূক্ত' পাঠ করলে ঘরের শ্রী বৃদ্ধি পায় এবং ঋণ মুক্তি ঘটে।

৩. সাদা জিনিসের দান: শুক্র গ্রহকে তুষ্ট করতে শুক্রবার দান-ধ্যান করা অত্যন্ত শুভ। অভাবী মানুষকে সাদা রঙের সামগ্রী যেমন— চাল, দুধ, চিনি, দই বা সাদা কাপড় দান করুন। এতে শুক্রের শুভ দৃষ্টি আপনার ওপর বজায় থাকবে।

৪. পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধি: শুক্র দেব সৌন্দর্য এবং পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন। তাই শুক্রবার বাড়িঘর পরিষ্কার রাখুন। পূজা শেষে নিজে সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার করতে পারেন, যা শুক্রের শক্তিকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

৫. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: শুক্রবার দিন আমিষ আহার এবং টক জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা শাস্ত্রসম্মত। এই দিন নিরামিষ আহার গ্রহণ করলে এবং দান করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।

বিশেষ মন্ত্র জপ:

স্তোত্র পাঠের পাশাপাশি আপনি শুক্র দেবের বীজ মন্ত্র জপ করতে পারেন। মন্ত্রটি হলো— 'ওঁ শুং শুক্রায় নমঃ'। এটি কমপক্ষে ১০৮ বার জপ করলে ব্যবসায় উন্নতি এবং সাংসারিক সুখ সুনিশ্চিত হয়।

ভক্তি ও বিশ্বাসের সাথে যদি এই নিয়মগুলি পালন করা যায়, তবে মা লক্ষ্মীর কৃপায় আপনার জীবন থেকে অর্থকষ্ট চিরতরে বিদায় নেবে। শুক্র দেবের আশীর্বাদে আপনি পাবেন রাজকীয় সুখ ও মানসিক শান্তি। মনে রাখবেন, পরিষ্কার মন এবং শুদ্ধ আচরণই হলো ঈশ্বর লাভের মূল চাবিকাঠি।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More