৩ দিন পরেই বাম্পার লাক! বৃহস্পতি আর শুক্রের নবপঞ্চম যোগে কপাল ফিরবে কোন তিন রাশির
বৃহস্পতি ও শুক্রের এই মহামিলনে কোন কোন রাশির ভাগ্য খুলতে চলেছে, কাদের জীবনে আসবে টাকার জোয়ার ও রাজকীয় সুখ, জেনে নিন।
গ্রহমন্ডলীর বিন্যাসে একটি অত্যন্ত বিরল ও শক্তিশালী যোগ তৈরি হতে চলেছে। দেবগুরু বৃহস্পতি এবং সুখ-বিলাসের কারক গ্রহ শুক্র একে অপরের থেকে ১২০ ডিগ্রি দূরত্বে অবস্থান করে তৈরি করছে 'নবপঞ্চম রাজযোগ'। জ্যোতিষশাস্ত্রে এই যোগকে অত্যন্ত শুভ এবং সমৃদ্ধিদায়ক বলে মনে করা হয়।

বৃহস্পতি ও শুক্রের এই মহামিলনে কোন কোন রাশির ভাগ্য খুলতে চলেছে, কাদের জীবনে আসবে টাকার জোয়ার ও রাজকীয় সুখ, জেনে নিন।
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে বৃহস্পতিকে জ্ঞান, সন্তান ও ভাগ্যের কারক এবং শুক্রকে ধন, ঐশ্বর্য ও প্রেমের কারক মনে করা হয়। যখন এই দুই শুভ গ্রহ একে অপরের সঙ্গে নবপঞ্চম অবস্থানে থাকে, তখন মহাবিশ্বে এক ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ তৈরি হয়। ২০২৬ সালের এই গোচর মূলত ৩টি রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য সাফল্যের নতুন দরজা খুলে দেবে।
নবপঞ্চম রাজযোগ কী?
জ্যোতিষ গণনা অনুসারে, যখন দুটি গ্রহ একে অপরের থেকে পঞ্চম এবং নবম ঘরে অবস্থান করে, তখন তাকে নবপঞ্চম যোগ বলা হয়। এই অবস্থানে গ্রহরা একে অপরের ওপর শুভ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে, যার ফলে জাতকের জীবনে আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত—উভয় প্রকার উন্নতি ঘটে। ২০২৬ সালে বৃহস্পতি ও শুক্রের এই ১২০ ডিগ্রির ব্যবধান রাজকীয় সুখ প্রদানের ক্ষমতা রাখে।
যে ৩ রাশির ভাগ্য বদলে যাবে এই রাজযোগে:
১. কর্কট রাশি (Cancer): ক্যারিয়ারে অভাবনীয় সাফল্য
কর্কট রাশির জাতকদের জন্য এই রাজযোগ আশীর্বাদের মতো।
- কর্মজীবন: যারা দীর্ঘ সময় ধরে চাকরিতে পদোন্নতির অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের ইচ্ছা পূরণ হবে। বস ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন।
- আর্থিক: আয়ের নতুন উৎস তৈরি হবে। ব্যবসায়ীরা বড় কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেন যা ভবিষ্যতে বিপুল মুনাফা এনে দেবে।
২. কন্যা রাশি (Virgo): সামাজিক সম্মান ও পারিবারিক সুখ
কন্যা রাশির জাতকদের জন্য বৃহস্পতি ও শুক্রের এই সংযোগ মান-সম্মান বৃদ্ধি করবে।
- সম্পর্ক: অবিবাহিতদের বিয়ের যোগ তৈরি হবে। পারিবারিক কোনো বিবাদ থাকলে তার মীমাংসা হয়ে যাবে।
- সম্পদ: নতুন গাড়ি বা জমি কেনার পরিকল্পনা থাকলে এই সময়টি সবথেকে উপযুক্ত। আপনার নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত আপনাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেবে।
৩. বৃশ্চিক রাশি (Scorpio): বিদেশ যাত্রা ও শিক্ষায় উন্নতি
বৃশ্চিক রাশির জাতকদের জন্য এই সময়টি নতুন নতুন সুযোগ নিয়ে আসবে।
- শিক্ষা: শিক্ষার্থীদের জন্য এই রাজযোগ অত্যন্ত শুভ। উচ্চশিক্ষার জন্য যারা বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের সেই বাধা দূর হবে।
- স্বাস্থ্য: দীর্ঘস্থায়ী কোনো শারীরিক অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাবেন। মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকবে।
রাজযোগের ফল বৃদ্ধির উপায়
যাদের কুণ্ডলীতে বৃহস্পতি বা শুক্র দুর্বল অবস্থানে আছে, তাঁরা এই শুভ যোগের পূর্ণ সুবিধা পেতে নিচের প্রতিকারগুলো করতে পারেন:
- প্রতি বৃহস্পতিবার বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করুন এবং হলুদ রঙের মিষ্টি দান করুন।
- শুক্রবার মা লক্ষ্মীকে সাদা ফুল ও বাতাসা অর্পণ করুন।
- জপমালা নিয়ে 'ওঁ বৃহস্পতয়ে নমঃ' এবং 'ওঁ শুক্রায় নমঃ' মন্ত্র জপ করুন।
২০২৬ সালের এই নবপঞ্চম রাজযোগ কেবল একটি জ্যোতিষীয় ঘটনা নয়, বরং এটি ত্যাগের বদলে প্রাপ্তির মাস। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের সাথে এই শুভ যোগকে কাজে লাগাতে পারলে জাতক চিরস্থায়ী সমৃদ্ধি লাভ করতে পারেন।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


