...
...
Next Story

দোলযাত্রায় এবার গ্রহণের ছায়া, এই ৫ জিনিস দান করুন এই দিনে, দূর হবে জীবনের সব বাধা

জ্যোতিষশাস্ত্রে চন্দ্রকে মনের কারক গ্রহ বলা হয়। গ্রহণের সময় চন্দ্রের ওপর রাহুর ছায়া পড়ায় মানুষের মানসিক স্থিতি ও ভাগ্যের ওপর এর গভীর প্রভাব পড়ে। এই চন্দ্রগ্রহণের সময় কিছু বিশেষ সামগ্রী দান করলে কেবল মনের অশান্তি দূর হয় না, বরং ধন-সম্পদ ও সুখ-শান্তি বৃদ্ধি পায়।

Published on: Feb 23, 2026 08:23 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

৩ মার্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে। হিন্দু ধর্মে গ্রহণকে কেবল একটি মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং আধ্যাত্মিক শুদ্ধিকরণ এবং পুণ্য অর্জনের একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে গ্রহণের সময় এবং গ্রহণের পরবর্তী দান-ধ্যান জাতকের কুণ্ডলী থেকে নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে এবং গ্রহের অশুভ দশা থেকে মুক্তি পেতে অত্যন্ত কার্যকর।

দোলযাত্রায় এবার গ্রহণের ছায়া, এই ৫ জিনিস দান করুন এই দিনে, দূর হবে জীবনের সব বাধা
দোলযাত্রায় এবার গ্রহণের ছায়া, এই ৫ জিনিস দান করুন এই দিনে, দূর হবে জীবনের সব বাধা

চন্দ্রগ্রহণের সময় কোন কোন জিনিস দান করা শুভ এবং এর ধর্মীয় গুরুত্ব জেনে নিন আজই।

জ্যোতিষশাস্ত্রে চন্দ্রকে মনের কারক গ্রহ বলা হয়। গ্রহণের সময় চন্দ্রের ওপর রাহুর ছায়া পড়ায় মানুষের মানসিক স্থিতি ও ভাগ্যের ওপর এর গভীর প্রভাব পড়ে। ২০২৬ সালের ৩ মার্চ হোলির দিনে সংগঠিত হতে যাওয়া এই চন্দ্রগ্রহণের সময় কিছু বিশেষ সামগ্রী দান করলে কেবল মনের অশান্তি দূর হয় না, বরং ধন-সম্পদ ও সুখ-শান্তি বৃদ্ধি পায়।

কেন গ্রহণের সময় দান করা জরুরি?

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, গ্রহণের সময় অশুভ শক্তি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সময় করা মন্ত্র জপ এবং দান সাধারণ সময়ের তুলনায় হাজার গুণ বেশি ফলদায়ক হয়। দান করলে গ্রহণের অশুভ প্রভাব বা 'সূতক দোষ' থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং পূর্বপুরুষদের আত্মা শান্তি লাভ করে।

চন্দ্রগ্রহণের সময় ও পরে যে ৫টি জিনিস দান করা অত্যন্ত শুভ:

চন্দ্র যেহেতু সাদা রঙের প্রতীক, তাই এই সময় সাদা কাপড় বা চাল দান করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এটি চন্দ্রের অবস্থান মজবুত করে এবং মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি দেয়। যারা মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই দান শ্রেষ্ঠ।

২. রূপো বা রূপোর অলঙ্কার:

যাঁদের কুণ্ডলীতে 'চন্দ্র দোষ' রয়েছে, তাঁরা গ্রহণের পর সামর্থ্য অনুযায়ী রূপোর কোনো বস্তু বা ছোট মুদ্রা দান করতে পারেন। জ্যোতিষীদের মতে, এটি আর্থিক অনটন দূর করে এবং কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসে।

৩. দুধ ও চিনি:

দুধ এবং চিনি চন্দ্রের কারক বস্তু। গ্রহণের পর কোনো অভাবী মানুষ বা কোনো মন্দিরে দুধ ও চিনি দান করলে ভাগ্যের দুয়ার খুলে যায়। এটি পারিবারিক কলহ দূর করতে এবং দাম্পত্য জীবনে মধুরতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৪. নারকেল ও কালো তিল:

যদি কারোর ওপর রাহুর দশা চলে, তবে চন্দ্রগ্রহণের সময় নারকেল এবং কালো তিল দান করা উচিত। এটি গ্রহণের নেতিবাচক শক্তিকে প্রশমিত করে এবং জাতককে দুর্ঘটনা বা হঠাৎ আসা বিপদ থেকে রক্ষা করে।

৫. ঘি ও কর্পূর:

গ্রহণের পর ঘর শুদ্ধ করতে ঘি ও কর্পূর দান করা বা বাড়িতে কর্পূর জ্বালানো অত্যন্ত শুভ। এটি বাস্তু দোষ দূর করে এবং ঘর থেকে নেতিবাচক শক্তি বের করে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে।

গ্রহণের সময় যে নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত:

  • খাবার বর্জন: গ্রহণের সময় রান্না করা খাবার বা জল পান করা থেকে বিরত থাকা ভালো। তবে শিশু, বৃদ্ধ বা রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল থাকে।
  • তুলসী পাতার ব্যবহার: দুধ বা আগে থেকে রাখা খাবারের পাত্রে তুলসী পাতা দিয়ে রাখুন, যাতে গ্রহণের তেজ সেই খাবারকে নষ্ট করতে না পারে।
  • মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ: গ্রহণের সময় মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে এবং মূর্তিপূজা করা হয় না। এই সময় মনে মনে ইষ্টদেবকে স্মরণ করা উচিত।

২০২৬ সালের এই চন্দ্রগ্রহণ অনেকের জন্য পরিবর্তনের বার্তাবাহী। সঠিক সময়ে সঠিক দান কেবল আপনার বর্তমান সমস্যাগুলোই দূর করবে না, বরং আপনার আধ্যাত্মিক চেতনাকে আরও উন্নত করবে। বিশ্বাস ও ভক্তির সাথে এই শাস্ত্রীয় নিয়মগুলো মেনে চললে গ্রহণ আপনার জীবনে অমঙ্গল নয়, বরং আশীর্বাদ হয়ে আসবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe