Maha Shivratri Auspicious Yogas: ভাবতে পারবেন না, ৫০০ বছর পরে এমন যোগ! আজকের মহাশিবরাত্রি কেন এত অনন্য, জেনে নিন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে আজকের দিনটি অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলোয় ফেরার দিন। শাস্ত্র মতে, এই বিশেষ তিথিতেই দেবাদিদেব মহাদেব অগ্নিলিঙ্গ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

Published on: Feb 15, 2026, 11:17:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মহাশিবরাত্রি উৎসব আজ দেশজুড়ে অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে পালিত হচ্ছে। জ্যোতিষশাস্ত্রীয় গণনা এবং তিথি অনুযায়ী এই বছরের মহাশিবরাত্রি কেন বিশেষ এবং চার প্রহরের পুজোর সঠিক সময় থেকে শুরু করে বিশেষ প্রতিকার—সবকিছুর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হল।

ভাবতে পারবেন না, ৫০০ বছর পরে এমন যোগ! আজকের মহাশিবরাত্রি কেন এত অনন্য, জেনে নিন
ভাবতে পারবেন না, ৫০০ বছর পরে এমন যোগ! আজকের মহাশিবরাত্রি কেন এত অনন্য, জেনে নিন

জেনে নিন নিশীথ কাল পুজোর সময়, চার প্রহরের নির্ঘণ্ট ও শিবলিঙ্গে জল ঢালার বিশেষ উপায়

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬; ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে আজকের দিনটি অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলোয় ফেরার দিন। শাস্ত্র মতে, এই বিশেষ তিথিতেই দেবাদিদেব মহাদেব অগ্নিলিঙ্গ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। জ্যোতিষীদের মতে, ২০২৬ সালের মহাশিবরাত্রি তিথিতে গ্রহের অবস্থান এমন এক বিরল যোগ তৈরি করেছে যা ভক্তদের আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ প্রশস্ত করবে।

মহাশিবরাত্রি ২০২৬: শুভ মুহূর্ত ও তিথি

এই বছর চতুর্দশী তিথি নিয়ে সামান্য মতভেদ থাকলেও পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই পুণ্য তিথি শুরু হয়ে গিয়েছে।

  • চতুর্দশী তিথি শুরু: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ - ভোর ০৫:৪২ মিনিটে।
  • চতুর্দশী তিথি শেষ: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ - রাত ০৩:৫১ মিনিটে।
  • নিশীথ কাল (সবচেয়ে শুভ মুহূর্ত): রাত ১১:৪৫ মিনিট থেকে ১২:৩৫ মিনিট পর্যন্ত। যারা তন্ত্র সাধনা করেন বা বিশেষ সিদ্ধি পেতে চান, তাঁদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত ফলদায়ক।

চার প্রহরের পুজোর মাহাত্ম্য ও সময়সূচী

মহাশিবরাত্রির রাতে ভক্তরা সাধারণত ঘুমোন না, যাকে বলা হয় 'জাগরণ'। সারা রাতকে চার ভাগে ভাগ করে শিবের আরাধনা করা হয়:

১. প্রথম প্রহর (সন্ধ্যা ০৬:১১ - রাত ০৯:২৪): এই সময়ে শিবলিঙ্গে দুগ্ধ অভিষেক করা হয়। এটি শারীরিক রোগমুক্তি ও শান্তি নিয়ে আসে।

২. দ্বিতীয় প্রহর (রাত ০৯:২৪ - ১২:৩৭): এই সময় দধি বা দই দিয়ে অভিষেক করার নিয়ম। এতে পারিবারিক সুখ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

৩. তৃতীয় প্রহর (রাত ১২:৩৭ - ভোর ০৩:৪৯): এই প্রহরে ঘৃত বা গাওয়া ঘি দিয়ে অভিষেক করা হয়। এটি জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

৪. চতুর্থ প্রহর (ভোর ০৩:৪৯ - সকাল ০৭:০২): শেষ প্রহরে মধু দিয়ে অভিষেক করা হয়। এটি জীবনের দারিদ্র্য দূর করে এবং মোক্ষ লাভে সাহায্য করে।

পুজোর সঠিক বিধি ও অর্পণযোগ্য সামগ্রী

মহাশিবরাত্রির দিন মহাদেবকে তুষ্ট করার জন্য খুব বেশি আড়ম্বরের প্রয়োজন হয় না। সামান্য কিছু সামগ্রী ভক্তিভরে অর্পণ করলেই 'আশুতোষ' সন্তুষ্ট হন:

  • বেলপাতা: তিনটি পাতা যুক্ত অখণ্ড বেলপাতা শিবের অত্যন্ত প্রিয়। এটি অর্পণ করার সময় মসৃণ অংশটি লিঙ্গের দিকে রাখা উচিত।
  • ধুতুরা ও আকন্দ: অহংকার ত্যাগের প্রতীক হিসেবে এই বুনো ফুল ও ফল শিবকে দেওয়া হয়।
  • ভস্ম ও চন্দন: শিবকে ভস্ম ও সাদা চন্দনের তিলক লাগানো অত্যন্ত শুভ।
  • জলাভিষেক: তামার পাত্রে গঙ্গাজল নিয়ে 'ওঁ নমঃ শিবায়' মন্ত্র বলতে বলতে অভিষেক করুন। মনে রাখবেন, শিবলিঙ্গে কখনও শঙ্খ দিয়ে জল ঢালবেন না।

জ্যোতিষশাস্ত্রীয় প্রতিকার

যাদের জীবনে রাহুর দশা চলছে বা মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত, তারা আজ শিবলিঙ্গে জল অর্পণের সময় অল্প কালো তিল মিশিয়ে নিন। এছাড়া অবিবাহিতদের জন্য এই দিনে শিব-পার্বতীর যুগ্ম পূজা দাম্পত্য সুখের আশীর্বাদ নিয়ে আসে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More