...
...
Next Story

মহাশিবরাত্রিতে বেলপাতা দিয়ে পুজো করবেন? এর সঠিক নিয়ম জানা আছে তো? সামান্য ভুলেই রুষ্ট হতে পারেন মহাদেব

শিবলিঙ্গে বেলপাতা নিবেদনের কিছু নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় নিয়ম রয়েছে, যা সঠিক না হলে পুজোর পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না। বেলপাতা অর্পণের সঠিক পদ্ধতি এবং এর মাহাত্ম্য জেনে নিন।

Published on: Feb 15, 2026 07:04 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

মহাশিবরাত্রির পুণ্য লগ্নে মহাদেবকে প্রসন্ন করার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো শিবলিঙ্গে বেলপাতা অর্পণ করা। তবে শিবলিঙ্গে বেলপাতা নিবেদনের কিছু নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় নিয়ম রয়েছে, যা সঠিক না হলে পুজোর পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না। বেলপাতা অর্পণের সঠিক পদ্ধতি এবং এর মাহাত্ম্য জেনে নিন।

শিবলিঙ্গে বেলপাতা নিবেদনের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

মহাশিবরাত্রিতে বেলপাতা দিয়ে পুজো করবেন? এর সঠিক নিয়ম জানা আছে তো
মহাশিবরাত্রিতে বেলপাতা দিয়ে পুজো করবেন? এর সঠিক নিয়ম জানা আছে তো

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬; সারা ভারতজুড়ে পালিত হচ্ছে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার মহাপর্ব মহাশিবরাত্রি। সনাতন ধর্মে বলা হয়, শিব ও বেলপাতা সমার্থক। মহাদেবকে 'বিল্বপ্রিয়' বলা হয় কারণ তিনি বেলপাতাতেই সবচেয়ে বেশি তুষ্ট হন। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, শিবলিঙ্গে বেলপাতা দেওয়ার কিছু বিশেষ নিয়ম বা বিধি শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের এই মহাশিবরাত্রিতে আপনি যদি শিবের পূর্ণ আশীর্বাদ পেতে চান, তবে বেলপাতা অর্পণের সময় এই নিয়মগুলি অবশ্যই মাথায় রাখুন।

১. বেলপাতার গঠন ও অখণ্ডতা

শিবলিঙ্গে সবসময় তিনটি পাতা যুক্ত অখণ্ড বেলপাতা অর্পণ করা উচিত। খেয়াল রাখবেন পাতাটি যেন কোথাও থেকে ছেঁড়া, শুকনো বা পোকা খাওয়া না হয়। শাস্ত্র মতে, 'ত্রিদলং ত্রিগুণাকারং'—অর্থাৎ তিনটি পাতা যুক্ত বেলপাতা সত্ত্ব, রজ ও তম গুণের প্রতীক। একটি মাত্র ছেঁড়া পাতা আপনার পুজোর বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

বেলপাতা অর্পণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো এর দিক নির্বাচন। অনেকেই ভুল করে পাতার খসখসে বা উল্টো দিকটি শিবলিঙ্গে দেন। নিয়ম হলো—বেলপাতার মসৃণ বা পিচ্ছিল অংশটি (যেদিকে কোনো শির নেই) সর্বদা শিবলিঙ্গের ওপর স্পর্শ করাতে হবে। পাতার উল্টো দিকটি থাকবে উপরের দিকে। এটি সমর্পণের প্রতীক।

৩. চন্দন ও অক্ষতের ব্যবহার

বেলপাতাকে আরও শক্তিশালী করতে এর মাঝখানের পাতায় সাদা চন্দন বা অষ্টগন্ধ দিয়ে 'ওঁ' বা 'রাম' নাম লিখুন। কথিত আছে, শ্রীরামচন্দ্রের নাম লেখা বেলপাতা মহাদেব অত্যন্ত প্রীতির সাথে গ্রহণ করেন। এছাড়া পাতার বোঁটায় সামান্য চন্দন লাগিয়ে শিবলিঙ্গে অর্পণ করলে জীবনের দীর্ঘদিনের অশান্তি দূর হয়।

৪. বেলপাতা তোলার এবং অর্পণের নিষিদ্ধ দিন

শাস্ত্র অনুযায়ী, চতুর্থী, অষ্টমী, নবমী, চতুর্দশী এবং অমাবস্যা তিথিতে বেলপাতা গাছ থেকে পাড়া নিষিদ্ধ। যেহেতু আজ চতুর্দশী বা মহাশিবরাত্রি, তাই আজ পাতা ছেঁড়া অনুচিত। এই অবস্থায় ভক্তরা একদিন আগেই পাতা সংগ্রহ করে রাখেন। তবে যদি পাতা না পাওয়া যায়, তবে শিবলিঙ্গে আগে থেকে নিবেদিত বেলপাতা তুলে নিয়ে ভালো করে ধুয়ে পুনরায় অর্পণ করা যায়। বেলপাতা কখনও বাসি বা অশুদ্ধ হয় না।

৫. অর্পণের মন্ত্র ও মানসিকতা

বেলপাতা অর্পণের সময় 'ওঁ নমঃ শিবায়' অথবা 'ত্রিদলং ত্রিগুণাকারং ত্রিনেত্রঞ্চ ত্রিধায়ুধম্। ত্রিজন্মপাপসংহারং বিল্বপত্রং শিবাপণম্॥'—এই মন্ত্রটি পাঠ করা উচিত। পাতাটি অর্পণের সময় বৃদ্ধাঙ্গুলি ও অনামিকা আঙুল ব্যবহার করা শ্রেয়।

জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য

জ্যোতিষ মতে, বেলপাতা অর্পণ করলে কুণ্ডলীতে চন্দ্র এবং বুধ গ্রহের অবস্থান মজবুত হয়। মহাশিবরাত্রির রাতে বেলপাতা দিয়ে মহাদেবকে পুজো করলে অকালমৃত্যুর ভয় দূর হয় এবং দারিদ্র্য মুক্তি ঘটে। যারা দাম্পত্য সমস্যায় ভুগছেন, তারা এদিন শিব ও পার্বতীর চরণে বেলপাতার মালা অর্পণ করলে সম্পর্কের মাধুর্য ফিরে পান।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe