...
...
Next Story

আজ মহাদেবের আরতি করবেন? মহাশিবরাত্রির পুজোর আগে জেনে নিন সঠিক নিয়ম ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য

মহাশিবরাত্রির রাতে শিবলিঙ্গের বিশেষ পূজার পর আরতি করা হলে ভক্তের সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে যায় এবং মনের অন্ধকার দূর হয়ে জ্ঞানের আলো জ্বলে ওঠে।

Published on: Feb 15, 2026, 14:37:53 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

মহাশিবরাত্রির পুণ্য লগ্নে দেবাদিদেব মহাদেবকে সন্তুষ্ট করার সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো ভক্তিভরে তাঁর আরতি করা। বিশেষ করে 'ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা' আরতিটি শিব আরাধনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মহাশিবরাত্রিতে শিবের আরতির গুরুত্ব, সঠিক নিয়ম এবং আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য জেনে নিন।

'ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা'—এই আরতি ছাড়া অসম্পূর্ণ মহাদেবের পূজা

আজ মহাদেবের আরতি করবেন? জেনে নিন সঠিক নিয়ম ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য
আজ মহাদেবের আরতি করবেন? জেনে নিন সঠিক নিয়ম ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬; সারা ভারতজুড়ে পালিত হচ্ছে মহাপবিত্র মহাশিবরাত্রি। দেবাদিদেব মহাদেব হলেন ত্যাগের মূর্ত প্রতীক এবং পরমেশ্বর। শাস্ত্র মতে, মহাশিবরাত্রির রাতে শিবলিঙ্গের বিশেষ পূজার পর আরতি করা হলে ভক্তের সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে যায় এবং মনের অন্ধকার দূর হয়ে জ্ঞানের আলো জ্বলে ওঠে। 'ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা' আরতিটি শিবের দিব্য রূপ ও মহিমাকে বর্ণনা করে, যা পাঠ করলে ভক্ত ও ভগবানের মধ্যে এক আধ্যাত্মিক সংযোগ তৈরি হয়।

শিব আরতির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

আরতি হলো পূজার শেষ ধাপ, যা পরমাত্মার প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ সমর্পণকে নির্দেশ করে। শিব আরতির প্রতিটি পংক্তিতে মহাদেবের পঞ্চানন রূপ, তাঁর কপালে অর্ধচন্দ্র, গলার সর্পরাজ এবং জটায় গঙ্গার উপস্থিতিকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। 'ওঙ্কারা' শব্দটি ব্রহ্মাণ্ডের আদি ধ্বনি 'ওঁ'-কে নির্দেশ করে, যার অর্থ শিবই হলেন আদি এবং তিনিই অন্ত। মহাশিবরাত্রির মতো শক্তিশালী তিথিতে এই আরতির গুঞ্জন চারপাশের নেতিবাচক শক্তিকে বিনাশ করে ইতিবাচক স্পন্দন তৈরি করে।

আরতি করার সঠিক নিয়ম (Puja Vidhi)

১. প্রদীপ প্রস্তুতি: পঞ্চপ্রদীপ বা ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করা সবচেয়ে শুভ। কর্পূর জ্বালিয়েও আরতি করা যেতে পারে, কারণ কর্পূরের দহন অহংকার বিনাশের প্রতীক।

২. ভঙ্গি ও চলন: আরতি করার সময় প্রদীপটিকে শিবলিঙ্গ বা মূর্তির সামনে ঘড়ির কাঁটার দিকে (Clockwise) ঘোরাতে হয়। প্রথমে চরণে চারবার, নাভিতে দুবার, মুখে একবার এবং সবশেষে পুরো শরীরে সাতবার ঘোানোর বিধান রয়েছে।

৩. শান্ত মন: আরতির সময় মুখে স্পষ্ট উচ্চারণ এবং মনে গভীর ভক্তি থাকা আবশ্যিক। সমবেত কণ্ঠে আরতি করলে তা এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করে।

৪. সমাপ্তি: আরতি শেষে প্রদীপের ওপর দুহাত রেখে সেই তাপ নিজের চোখে ও মাথায় নেওয়া হয়, যা ঈশ্বরের আশীর্বাদ গ্রহণের প্রতীক।

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র ও আরতির প্রভাব

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, মহাশিবরাত্রির রাতে ব্রহ্মাণ্ডের শক্তি কেন্দ্রগুলো অত্যন্ত সক্রিয় থাকে।

  • মানসিক প্রশান্তি: আরতির সময় শঙ্খধ্বনি ও ঘণ্টার আওয়াজ মস্তিষ্কের 'আলফা ওয়েভ' জাগ্রত করে, যা মানসিক অবসাদ ও দুশ্চিন্তা দূর করে।
  • গ্রহদোষ মুক্তি: যাদের কুণ্ডলীতে রাহু, কেতু বা শনির অশুভ দশা চলছে, তারা মহাশিবরাত্রির চার প্রহরের পূজার পর ভক্তিভরে আরতি করলে গ্রহের প্রতিকূলতা হ্রাস পায়।
  • বাস্তু দোষ: বাড়ির মন্দিরে আরতি ও কর্পূর দহনের ফলে বাস্তুর নেতিবাচক শক্তি বা 'নেগেটিভ এনার্জি' দূর হয় এবং পরিবারে সমৃদ্ধি আসে।

মহাদেব বা আশুতোষ খুব অল্পেই তুষ্ট হন। আপনার কাছে যদি মহার্ঘ্য উপাচার নাও থাকে, তবে কেবল একটি প্রদীপ এবং গভীর আরতির মাধ্যমেই আপনি শিবের কৃপা লাভ করতে পারেন। ২০২৬ সালের এই মহাশিবরাত্রিতে প্রদীপ জ্বেলে গাও— "ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা, স্বামী জয় শিব ওঙ্কারা..." আর নিজেকে সমর্পণ করো সেই পরম পিতার চরণে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe