মহাশিবরাত্রির পুণ্য লগ্নে দেবাদিদেব মহাদেবকে সন্তুষ্ট করার সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো ভক্তিভরে তাঁর আরতি করা। বিশেষ করে 'ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা' আরতিটি শিব আরাধনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মহাশিবরাত্রিতে শিবের আরতির গুরুত্ব, সঠিক নিয়ম এবং আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য জেনে নিন।
'ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা'—এই আরতি ছাড়া অসম্পূর্ণ মহাদেবের পূজা

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬; সারা ভারতজুড়ে পালিত হচ্ছে মহাপবিত্র মহাশিবরাত্রি। দেবাদিদেব মহাদেব হলেন ত্যাগের মূর্ত প্রতীক এবং পরমেশ্বর। শাস্ত্র মতে, মহাশিবরাত্রির রাতে শিবলিঙ্গের বিশেষ পূজার পর আরতি করা হলে ভক্তের সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে যায় এবং মনের অন্ধকার দূর হয়ে জ্ঞানের আলো জ্বলে ওঠে। 'ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা' আরতিটি শিবের দিব্য রূপ ও মহিমাকে বর্ণনা করে, যা পাঠ করলে ভক্ত ও ভগবানের মধ্যে এক আধ্যাত্মিক সংযোগ তৈরি হয়।
শিব আরতির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
আরতি হলো পূজার শেষ ধাপ, যা পরমাত্মার প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ সমর্পণকে নির্দেশ করে। শিব আরতির প্রতিটি পংক্তিতে মহাদেবের পঞ্চানন রূপ, তাঁর কপালে অর্ধচন্দ্র, গলার সর্পরাজ এবং জটায় গঙ্গার উপস্থিতিকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। 'ওঙ্কারা' শব্দটি ব্রহ্মাণ্ডের আদি ধ্বনি 'ওঁ'-কে নির্দেশ করে, যার অর্থ শিবই হলেন আদি এবং তিনিই অন্ত। মহাশিবরাত্রির মতো শক্তিশালী তিথিতে এই আরতির গুঞ্জন চারপাশের নেতিবাচক শক্তিকে বিনাশ করে ইতিবাচক স্পন্দন তৈরি করে।
আরতি করার সঠিক নিয়ম (Puja Vidhi)
মহাদেবের আরতি করার সময় কিছু শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে চলা উচিত, যাতে পূজার পূর্ণ ফল লাভ করা যায়:
{{/usCountry}}মহাদেবের আরতি করার সময় কিছু শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে চলা উচিত, যাতে পূজার পূর্ণ ফল লাভ করা যায়:
{{/usCountry}}১. প্রদীপ প্রস্তুতি: পঞ্চপ্রদীপ বা ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করা সবচেয়ে শুভ। কর্পূর জ্বালিয়েও আরতি করা যেতে পারে, কারণ কর্পূরের দহন অহংকার বিনাশের প্রতীক।
২. ভঙ্গি ও চলন: আরতি করার সময় প্রদীপটিকে শিবলিঙ্গ বা মূর্তির সামনে ঘড়ির কাঁটার দিকে (Clockwise) ঘোরাতে হয়। প্রথমে চরণে চারবার, নাভিতে দুবার, মুখে একবার এবং সবশেষে পুরো শরীরে সাতবার ঘোানোর বিধান রয়েছে।
৩. শান্ত মন: আরতির সময় মুখে স্পষ্ট উচ্চারণ এবং মনে গভীর ভক্তি থাকা আবশ্যিক। সমবেত কণ্ঠে আরতি করলে তা এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করে।
৪. সমাপ্তি: আরতি শেষে প্রদীপের ওপর দুহাত রেখে সেই তাপ নিজের চোখে ও মাথায় নেওয়া হয়, যা ঈশ্বরের আশীর্বাদ গ্রহণের প্রতীক।
ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র ও আরতির প্রভাব
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, মহাশিবরাত্রির রাতে ব্রহ্মাণ্ডের শক্তি কেন্দ্রগুলো অত্যন্ত সক্রিয় থাকে।
- মানসিক প্রশান্তি: আরতির সময় শঙ্খধ্বনি ও ঘণ্টার আওয়াজ মস্তিষ্কের 'আলফা ওয়েভ' জাগ্রত করে, যা মানসিক অবসাদ ও দুশ্চিন্তা দূর করে।
- গ্রহদোষ মুক্তি: যাদের কুণ্ডলীতে রাহু, কেতু বা শনির অশুভ দশা চলছে, তারা মহাশিবরাত্রির চার প্রহরের পূজার পর ভক্তিভরে আরতি করলে গ্রহের প্রতিকূলতা হ্রাস পায়।
- বাস্তু দোষ: বাড়ির মন্দিরে আরতি ও কর্পূর দহনের ফলে বাস্তুর নেতিবাচক শক্তি বা 'নেগেটিভ এনার্জি' দূর হয় এবং পরিবারে সমৃদ্ধি আসে।
মহাদেব বা আশুতোষ খুব অল্পেই তুষ্ট হন। আপনার কাছে যদি মহার্ঘ্য উপাচার নাও থাকে, তবে কেবল একটি প্রদীপ এবং গভীর আরতির মাধ্যমেই আপনি শিবের কৃপা লাভ করতে পারেন। ২০২৬ সালের এই মহাশিবরাত্রিতে প্রদীপ জ্বেলে গাও— "ওঁ জয় শিব ওঙ্কারা, স্বামী জয় শিব ওঙ্কারা..." আর নিজেকে সমর্পণ করো সেই পরম পিতার চরণে।