SSC Recruitment Scam Ratechart: গ্রুপ 'সি' পদে চাকরির জন্য দিতে হত ১৫-১৬ লাখ টাকা। আর গ্রুপ 'ডি' পদে চাকরি পাওয়ার জন্য 'উপঢৌকন' হিসেবে ১০-১২ লাখ টাকা দিতে হত। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) গ্রুপ 'সি' এবং গ্রুপ ‘ডি’ নিয়োগ মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, তাতে এমনই রেটচার্টের উল্লেখ করা হয়েছে বলে সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইডির সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, পার্থের ‘বান্ধবী’ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়, কুন্তল ঘোষদের নাম আছে।
দুর্নীতির জাল অনেকদূর বিস্তৃত, বলল ইডি

গত ২০ অগস্ট আর্থিক তছরুপ বিরোধী আইনের আদালতে এই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। গত জানুয়ারিতে প্রথম চার্জশিট পেশ করেছিল ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, এই নিয়োগ দুর্নীতির জাল বহুদূর বিস্তৃত এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে-সঙ্গে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ভূমিকা স্পষ্ট হচ্ছে।
আপাতত ৬৩০.৪ কোটি টাকা দুর্নীতির হদিশ, আরও বাড়তে পারে
ইডির তরফে জানানো হয়েছে, গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি নিয়োগ দুর্নীতির অঙ্কটা দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৬৩০.৪ কোটি টাকা। তবে এই অঙ্কটা আরও বাড়তে পারে, কারণ এই 'কেলেঙ্কারি'-র সঙ্গে অবৈধ নিয়োগের অন্যান্য পদ্ধতিও জড়িত ছিল। যার মধ্যে বা র্যাঙ্ক টপকে যাওয়া, প্যানেলের বাইরের নিয়োগ, প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিয়োগ এবং পুনঃমূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারচুপির বিষয় আছে।
চাকরিপ্রার্থীদের থেকে তোলা হত ১৫-২০ লাখ টাকা
{{/usCountry}}চাকরিপ্রার্থীদের থেকে তোলা হত ১৫-২০ লাখ টাকা
{{/usCountry}}কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারিতে প্রার্থীদের পদের ভিত্তি অনুযায়ী টাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। একজন অযোগ্য প্রার্থীকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য অন্তত ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হত।
১) গ্রুপ-সি পোস্টের জন্য: প্রার্থীপিছু ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল।
২) গ্রুপ-ডি পোস্টের জন্য: অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে তোলা হয়েছিল ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।
তদন্তকারীদের দাবি, এই বিপুল টাকার লেনদেন কেবল কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এতে মধ্যস্থতাকারী, দালাল এবং উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এক বিশাল নেটওয়ার্ক সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ‘সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব’ ও ইডির অভিযোগ
কেন্দ্রীয় সংস্থার চার্জশিটে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থের ভূমিকা সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। ইডির দাবি, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে এসএসসি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর ‘সর্বাত্মক কর্তৃত্ব’ বজায় রাখতেন। তিনি নিজের সরকারি পদের চরম অপব্যবহার করে এই অবৈধ ও বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।