Bengal Totos Restriction in Highways: রাজ্যজুড়ে জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং বড়-বড় রাস্তায় অবাধে ই-রিকশা বা টোটোর বেপরোয়া যাতায়াত রুখতে এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করল পরিবহণ দফতর। শনিবার রাজ্যের সমস্ত পুলিশ প্রশাসনকে জাতীয় সড়ক-সহ সব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টোটো চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে প্রয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন বড় রাস্তায় টোটোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে যেমন ভয়াবহ যানজট তৈরি হচ্ছিল, তেমনই বাড়ছিল ছোটো-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সেই পরিস্থিতির রাশ টানতেই এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল প্রশাসন।
‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’ ছিল, কিন্তু নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছিল

পরিবহণ দফতরের তরফে পুলিশকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, ই-রিকশা বা টোটো পরিষেবার মূল উদ্দেশ্যই ছিল ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’। অর্থাৎ যেখানে বাস বা ট্রেন পৌঁছাতে পারে না, সেখানে সাধারণ মানুষকে পৌঁছে দেবে টোটো। সরকারি নিয়ম নির্দেশিকা অনুযায়ী, বড় ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ই-রিকশা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু ইদানিং সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জাতীয় ও রাজ্য সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাজার-হাজার বেআইনি টোটো।
২০১৬ সালের নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছিল?
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো নির্দেশিকায় ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই প্রকাশিত রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকায় কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, টোটো বা ই-রিকশা শুধুমাত্র স্থানীয় এবং নির্দিষ্ট রুটের গলির রাস্তায় চলতে পারবে। বিশেষ ব্যতিক্রমী অনুমোদন না থাকলে জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং শহরের প্রধান ট্রাফিক রুটে টোটো যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পরিবহণ দফতরের কড়া নির্দেশ টোটো নিয়ে, শাস্তির বিধান
{{/usCountry}}পরিবহণ দফতরের কড়া নির্দেশ টোটো নিয়ে, শাস্তির বিধান
{{/usCountry}}কিন্তু পরিবহণ দফতরের কাছে অভিযোগ জমা পড়ছিল যে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে বেপরোয়াভাবে দূরপাল্লার রুট এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টোটো চালানো হচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত ব্যাপক যানজট তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বেআইনি টোটো বাজেয়াপ্ত করা থেকে শুরু করে জরিমানা আরোপের মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে সমগ্র রাজ্যের জেলা, শহর কিংবা মফঃস্বলগুলোতে ঠিক কত সংখ্যক টোটো বা ই-রিকশা চলাচল করছে, তার কোনও সঠিক বা সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের খাতায় নেই। তবে আনুমানিক হিসেবে এই সংখ্যাটা কয়েক হাজার বা তারও বেশি হতে পারে। এই বিপুল সংখ্যক টোটোর বড় অংশই বেআইনিভাবে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই রাজপথে নামছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনাই এখন পুলিশ এবং পরিবহণ দফতরের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।