Pro-Mamata leaders on Ritabrata: তৃণমূল কংগ্রেস থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কার্যত মুছে দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিদ্রোহী বিধায়ক। এখন পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে ঋতব্রতরাই নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করতে পারেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। সেই আবহে ঋতব্রত-সহ বিদ্রোহী নেতা-বিধায়কদের আক্রমণ করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, ‘কেউ দল ছেড়ে যেতে পারেন। কারও যদি মনে হয়, দল ছেড়ে যাবেন, তাহলে হিম্মত থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রণাম করে দল ছেড়ে যেতে পারতেন। এমন অনেকে ওখানে আছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওখানে বিভিন্ন পদে ছিলেন।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আইনের লড়াই পরে হবে। আগে ভগবানের দরবারে লড়াই হবে। এদের যা মানসিকতা, তাতে এরা নিজের মায়ের পিঠে ছুরি মারতে পারে।’
তৃৃণমূলের প্রতীক হাতছাড়া হবে মমতার?

আর সোমবার নিউ টাউনের হোটেলে ৬০ বিধায়ক ও ৭০ কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের পরে সেই মন্তব্য করেছেন কুণাল। ঋতব্রতরা যে তৃণমূলের প্রতীক নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, সেটা যে কালীঘাট অনুধাবন করেছে, সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক।
‘এরা নিজের মায়ের পিঠে ছুরি মারতে পারে’
তিনি বলেছেন, ‘যে লোকগুলো বলছে, তাঁর হাত থেকে দলের প্রতীক কাড়বে, এরা নিজের মায়ের পিঠে ছুরি মারতে পারে। এরা নিজের মায়ের পিঠে ছুরি মারতে পারে। দলে কেউ এলেন, বনিবনা হল না, দল থেকে চলে গেলেন। জহর সরকারের (তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন) বনিবনা হয়নি, তিনি ইস্তফা দিয়ে চলে গিয়েছেন।’
একইসুরে ঋতব্রতদের আক্রমণ করেছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (যিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করলেও আপাতত কালীঘাট তৃণমূলেই আছেন)। সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কল্যাণ দাবি করেছেন যে এতদিন ঋতব্রতকে বিশ্বাসঘাতক বলে অভিহিত করতেন। এবার থেকে তাঁকে 'ফোর টোয়েন্টি' বলবেন। সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ঋতব্রত হলেন সিপিআইএমের 'প্রোডাক্ট'। যে সিপিআইএমের খুন, ধর্ষণের সংস্কৃতি ছিল। ফলে ঋতব্রতের থেকে বেশি কিছু প্রত্যাশা করা যায় না বলে দাবি করেছেন কল্যাণ।
আরও পড়ুন: Upper Primary Recruitment: কাউন্সেলিংয়ে দেরি কেন? শিক্ষা সচিবকে তুমুল ভর্ৎসনা হাইকোর্টের, কী বলা হল?
শো-কজের বন্যা বইয়ে দিলেন মমতারা
আর সেইসব আক্রমণের মধ্যেই শো-কজের এক লম্বা তালিকা বের করেছে কালীঘাট তৃণমূল। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, চারবারের বিধায়ক অরূপ রায়, প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী-সহ একঝাঁক নেতাকে শো-কজ নোটিশ ধরিয়েছেন মমতারা। ফিরহাদ এবং অরূপকে নতুন জাতীয় কর্মসমিতির সহ-সভাপতি করা হয়েছে। আবার চেয়ারম্যান করা হয়েছে হাওড়ার চারবারের বিধায়ক অরূপকে।