মহিলা এএফসি এশিয়ান কাপে ভারতীয় দলকে যে চরম অব্যবস্থার মুখে পড়তে হয়েছে, তা নিয়ে স্মারকলিপি জমা দিলেন কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ফুটবল সংস্থা আইএফএয়ের মাধ্যমে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে (এআইএফএফ) সেই স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। 'ইন্ডিয়ান স্পোর্টস লাভার্স গ্রুপ'-র তরফে তুলিকা অধিকারী (যিনি উত্তর ২৪ পরগনা গ্রামীণ ২-র কংগ্রেসের মহিলা সভানেত্রী) দাবি করেছেন, উপযুক্ত প্রস্তুতি ছাড়াই ভারতীয় দলকে এএফসি এশিয়ান কাপে পাঠানো হয়েছিল। তাছাড়াও তাঁদের ছোট জার্সি দেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা একটি দলকে কীভাবে এরকম চরম অব্যবস্থাপনার মুখে পড়তে হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তুলিকা। তাঁর মতে, এরকম ঘটনা ফুটবলারদের মনোবল ভেঙে গিয়েছিল। যাঁদের এমনিতেই মাঠে কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নামতে হয়েছে। সেই রেশ ধরে একাধিক দাবি তোলা হয়েছে ফেডারেশনের কাছে।
কোন কোন দাবি তোলা হয়েছে ওই সংগঠনের তরফে?

১) এই ধরনের অব্যবস্থাপনা কীভাবে ঘটল, সে বিষয়ে একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে।
২) পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
৩) ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের অবহেলার পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪) ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের জন্য যথাযথ লজিস্টিক সহায়তা, পরিকাঠামো, নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে তুলিকা বলেছেন, 'আমাদের মহিলা অ্যাথলিটরা বিশ্বমঞ্চে গর্বের সঙ্গে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁদের প্রস্তুতি, মর্যাদা এবং মনোবল রক্ষা করা আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি যে ফেডারেশন এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।'
ব্যাপারটা ঠিক কী হয়েছিল?
{{/usCountry}}ব্যাপারটা ঠিক কী হয়েছিল?
{{/usCountry}}অস্ট্রেলিয়ায় মহিলা এএফসি এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে নামার আগে ভারতীয় সিনিয়র দলের খেলোয়াড়দের যে জার্সি ও কিট পাঠানো হয়েছিল, তা ভুল মাপের ছিল। আর শুধু ভুল মাপ বললে একেবারেই কম বলা হয়। কারণ ফেডারেশনকে দেওয়া চিঠিতে খেলোয়াড়রা অভিযোগ করেছিলেন, যে জার্সি পাঠানো হয়েছে, তা অনূর্ধ্ব-১৫ স্তর বা তার কম বয়সিদের পরার উপযুক্ত। ফলে সিনিয়র দলের ৮০ শতাংশ খেলোয়াড়েরই সেই জার্সি হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছিলেন খেলোয়াড়রা।
খেলোয়াড়রা দাবি করেছিলেন, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার মাত্র দু’দিন আগে যখন দলের ট্রেনিং এবং ম্যাচ জার্সি কার্গোতে এসে পৌঁছায়, তখন দেখা যায় সেগুলোর মাপ একেবারেই বেমানান। দলের ২৬ জন সদস্যের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ফুটবলারের জার্সি এবং পোশাক পরার অযোগ্য। এমনকী কোচিং স্টাফদের পোশাকের মাপও ভুল ছিল। কিটগুলো দেখে মনে হচ্ছে সেগুলো অনূর্ধ্ব-১৫ বা তার চেয়েও ছোট বয়সের অ্যাথলিটদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।