Aman Sanger Net Worth: ২৫ বছরেই ৫১.৯৮ হাজার কোটি টাকার মালিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমন! মাঝপথে ছেড়েছিল পড়া

Aman Sanger Net Worth: গুগল ও ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটসের মতো নামী সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার অভিজ্ঞতা থাকা আমন সাঙ্গার প্রমাণ করেছেন যে সাফল্যের জন্য শুধু বড় ডিগ্রিই শেষ কথা নয়। বিলিয়নেয়ারের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণ আমন।

Published on: Jun 24, 2026, 10:12:43 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Aman Sanger Net Worth: বলা হয়, সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগ চিনে নেওয়ার নামই ব্যবসা। তবে মাত্র ২৫ বছরেই সিলিকন ভ্যালিতে এমন এক ইতিহাস তৈরি হবে, তা হয়তো অনেকেই কল্পনা করতে পারেননি। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স রেকর্ড ৬০ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকার বেশি) বিনিময়ে কিনে নিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক কোডিং স্টার্টআপ ‘কার্সার’-এর মূল সংস্থা অ্যানিস্ফিয়ার। আর এই একটিমাত্র ঐতিহাসিক চুক্তির হাত ধরে রাতারাতি বিশ্বমঞ্চের অন্যতম কনিষ্ঠ বিলিয়নেয়ারের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণ উদ্যোক্তা আমন সাঙ্গার।

বিলিয়নেয়ারের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণ আমন সাঙ্গার। (ফাইল ছবি)
বিলিয়নেয়ারের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণ আমন সাঙ্গার। (ফাইল ছবি)

ছোটোবেলা থেকেই কোডিংয়ের নেশা ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড

আমনের জন্ম নিউ ইয়র্কে। বাবা অরবিন্দ আইআইটি বম্বের প্রাক্তন ছাত্র এবং ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম ‘জিওস্ফিয়ার ক্যাপিটাল’-র প্রতিষ্ঠাতা। মা শিল্পা পেশায় একজন অর্থোডেনটিস্ট। আমন মাত্র ১৪ বছর থেকেই কোডিং করা শুরু করেন। গণিত ও কম্পিউটারে অসম্ভব পারদর্শী আমন ২০১৭ সালে স্যাট (SAT) পরীক্ষায় ম্যাথমেটিক্স লেভেলে পুরো ৮০০ নম্বর পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: WB Monsoon Rain Forecast Latest Update: ২.৪ ডিগ্রি পড়ল পারদ, আরও ঝড়-বৃষ্টি বাড়বে কলকাতায়? কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টি?

MIT ড্রপ-আউট: ডিগ্রি ছেড়ে স্বপ্নের পথে হাঁটা

২০১৮ সালে আমন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোয়াশ টিমের একজন খেলোয়াড়ও ছিলেন। এমআইটিতে পড়ার সময়ই তাঁর আলাপ হয় মাইকেল ট্রুয়েল, সোয়ালেহ আসিফ এবং আরভিড লুনেমার্কের সঙ্গে। ২০২২ সালে যখন বিশ্বজুড়ে জেনারেটিভ এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক নতুন জোয়ার আসছিল, তখন এই চার বন্ধু বুঝতে পারেন যে সফটওয়্যার তৈরির দুনিয়াটা চিরতরে বদলে যেতে চলেছে। সেই সুযোগ হাতছাড়া না করতে আমন এবং তাঁর বন্ধুরা এমআইটির পড়াশোনা মাঝপথেই ছেড়ে দেওয়ার এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: ক্ষেতে কাজ থেকে সেলাই মায়ের- প্রথমবারেই IPS হলেন সেই মেয়ে দিব্যা, ২২ বছরে IAS

কী এই ‘কার্সার’ এবং কেন এটি এত মূল্যবান?

বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে আমন ও তাঁর বন্ধুরা মিলে গড়ে তোলেন ‘অ্যানিস্ফিয়ার’ নামের একটি স্টার্ট-আপ এবং এর অধীনে তৈরি করেন এআই কোডিং প্ল্যাটফর্ম ‘কার্সার’। এটি সাধারণ কোনও কোডিং টুল নয়; এটি এমন এক শক্তিশালী কোডিং অ্যাসিস্ট্যান্ট যা প্রোগ্রামারদের সাধারণ ভাষায় দেওয়া নির্দেশ বুঝেই নিমেষে জটিল থেকে জটিলতর সফটওয়্যার কোড লিখে দিতে পারে, ভুলত্রুটি ধরতে পারে এবং পুরো প্রজেক্ট বিশ্লেষণ করতে পারে।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: বাবা ক্যারিব্যাগ সাপ্লায়ার ছিলেন, বাড়িতে নিজে পড়েই UPSC ক্র্যাক মেয়ে রীতিকার

অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বের বড়-বড় প্রযুক্তি সংস্থা যেমন এনভিডিয়া, অ্যাডোব, উবার , শপিফাই এবং পেপ্যালের মতো প্রায় ৫০,০০০ কোম্পানির লাখ-লাখ ডেভেলপার কার্সার ব্যবহার করা শুরু করেন। কোম্পানির বার্ষিক আয় দ্রুত ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা একে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল এআই সংস্থায় পরিণত করে।

ইলন মাস্কের স্পেসএক্স এবং ৬০ বিলিয়ন ডলারের সেই চুক্তি

রকেট বানানোর কোম্পানি স্পেসএক্স কেন একটি এআই কোডিং সফটওয়্যার কোম্পানি কিনতে যাবে- তা নিয়ে প্রথমে অনেকে অবাক হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক রকেট বিজ্ঞান, স্যাটেলাইট পরিচালনা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মূল ভিত্তি হল কোটি-কোটি লাইনের জটিল সফটওয়্যার কোড। ২০২৬ সালের এই মেগা অল-স্টক ডিলে স্পেসএক্স যখন ৬০ বিলিয়ন ডলারে কার্সারকে কিনে নেয়, তখন এই কোম্পানির মাত্র ৪.৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক আমনের সম্পত্তি একলাফে প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি) গিয়ে পৌঁছায়।

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More