সিবিএসই বোর্ড বর্তমানে বার্ষিক পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি বোর্ডের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন সংক্রান্ত কোনও তথ্য বা ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা যাবে না। নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বোর্ড।
গোপনীয়তা রক্ষায় জিরো টলারেন্স

সিবিএসইয়ের তরফে দাবি করা হয়েছে, অনেক সময় দেখা যাচ্ছে শিক্ষকরা পরীক্ষার খাতা দেখার সময় বা মূল্যায়নের অভিজ্ঞতার কথা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করছেন। অনেক ক্ষেত্রে খাতা দেখার রিলস বা ভিডিয়ো তৈরি করে আপলোড করা হচ্ছে। বোর্ডের মতে, এটি পরীক্ষার গোপনীয়তা এবং স্বচ্ছতাকে বিঘ্নিত করে। পরীক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা উত্তরপত্রের কোনও অংশ জনসমক্ষে আসা বোর্ডের নীতিমালার পরিপন্থী।
নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
১) গোপনীয়তা বজায় রাখা: খাতা দেখার সময় কোনওভাবেই মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা ব্যবহার করে উত্তরপত্রের ছবি তোলা যাবে না।
২) তথ্য আদান-প্রদান নিষিদ্ধ: মূল্যায়নের মানদণ্ড বা কোনও নির্দিষ্ট উত্তরের নম্বর প্রদান নিয়ে জনসমক্ষে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা করা যাবে না।
৩) শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: যদি কোনও শিক্ষক এই নিয়ম ভঙ্গ করেন, তবে তাঁকে বোর্ডের প্যানেল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হতে পারে। এমনকী তার স্কুলের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে CBSE।
কেন এই কঠোরতা?
{{/usCountry}}কেন এই কঠোরতা?
{{/usCountry}}বোর্ড জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরণের তথ্য ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ভুল তথ্যের কারণে অনেক সময় অহেতুক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়, যা বোর্ডের সামগ্রিক ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করে। পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে 'কনফিডেনশিয়াল' রাখা সিবিএসই-র দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবং নিয়ম।
স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব
শুধুমাত্র শিক্ষকদের ওপর দায় চাপিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি বোর্ড। স্কুলগুলোকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে শিক্ষকদের এই বিষয়ে নিয়মিত প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। পরীক্ষার সেন্টারে এবং মূল্যায়ন কেন্দ্রে শিক্ষকদের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। কোনও শিক্ষক যদি নিয়ম ভাঙেন, তবে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট স্কুলকেও নিতে হতে পারে।
ছাত্রছাত্রীদের ওপর প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষকদের জন্য এই কঠোর বার্তা আসলে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থেই দেওয়া হয়েছে। উত্তরপত্র মূল্যায়নের পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা বজায় থাকলে এবং কোনও তথ্য ফাঁস না হলে রেজাল্টের নির্ভুলতা বজায় থাকে। বোর্ড চায় না যে ছাত্রছাত্রীদের পরিশ্রমের ফসল কোনওভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কন্টেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হোক।