Fake Sugar identification: দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ হল চিনি। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, যে চিনি আপনি ও আপনার পরিবার প্রতিদিন খাচ্ছেন, তা কতটা খাঁটি? সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাজারে হু হু করে বাড়ছে ভেজাল বা নকল চিনির দাপট। বাড়তি মুনাফা লুটতে একদল অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে নকল বা মিহি চকের গুঁড়ো মেশানো চিনি সরবরাহ করতে শুরু করেছে। এই নকল চিনি দেখতে এতটাই নিখুঁত এবং সাধারণ চিনির মতো চকচকে হয় যে খালি চোখে আসল-নকলের পার্থক্য বোঝা অসম্ভব। যা থেকে মারাত্মক রোগ হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে নকল চিনি চেনার জন্য কয়েকটি উপায়ের কথা বলেছেন।
কীভাবে চিনবেন আসল ও নকল চিনি?
জলের গ্লাস পরীক্ষা
ভারতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ বা FSSAI একটি ভিডিয়োয় এই পরীক্ষাটির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে। চিনিতে সাধারণত যে চকের গুঁড়ো মেশানো হয়, তা ধরার জন্য এটি সেরা উপায়।
কী করতে হবে: একটি কাঁচের স্বচ্ছ গ্লাসে পরিষ্কার জল নিন। এবার তাতে দুই চামচ চিনি দিয়ে দিন। চামচ দিয়ে জলটি ভালো করে নাড়াতে থাকুন যতক্ষণ না চিনি পুরোপুরি গলে যায়।
ফলাফল: চিনি সম্পূর্ণ গলে যাওয়ার পর যদি গ্লাসের জল একদম পরিষ্কার থাকে, তবে বুঝবেন চিনি ১০০ শতাংশ খাঁটি। কিন্তু যদি দেখেন জলের নিচে কোনও সাদা গুঁড়ো বা ছোট ছোট কণা জমা হয়েছে এবং জলের রঙ সামান্য ঘোলাটে হয়ে গিয়েছে, তবে নিশ্চিত হোন যে ওই চিনিতে চক পাউডার বা চুন মেশানো রয়েছে।
প্যানে গরম করার পরীক্ষা
{{/usCountry}}প্যানে গরম করার পরীক্ষা
{{/usCountry}}আসল চিনি আগুনের সংস্পর্শে এলে এক অদ্ভুত রাসায়নিক পরিবর্তন দেখায়, যা নকল চিনির পক্ষে সম্ভব নয়।
কী করতে হবে: গ্যাস ওভেনে একটি ছোটো প্যান বা চামচ গরম করুন। তাতে এক চামচ চিনি দিয়ে দিন এবং লক্ষ্য রাখুন।
ফলাফল: খাঁটি চিনি তাপ পেলেই খুব দ্রুত গলতে শুরু করবে এবং ধীরে ধীরে তার রঙ পরিবর্তন হয়ে বাদামি হয়ে যাবে। কিন্তু চিনিটি যদি নকল বা ভেজাল হয়, তবে তা সহজে গলবে না। উল্টো প্যান থেকে ঝাঁঝালো রাসায়নিক গন্ধ বের হতে পারে এবং কালো ধোঁয়া তৈরি হতে পারে।
হাতের তালুর পরীক্ষা
ইন্দ্রিয় অনেক সময় ভেজাল পণ্য খুব সহজে ধরে ফেলতে পারে। চিনির দানার গঠন পরীক্ষা করে এটি করা সম্ভব।
কী করতে হবে: সামান্য একটু চিনি আপনার হাতের তালুতে নিন। এবার বুড়ো আঙুল দিয়ে চিনির দানাগুলো হাতের তালুর ওপর কিছুক্ষণ ঘষুন বা রগড়ান।
ফলাফল: খাঁটি চিনির দানা সবসময় শক্ত, শুষ্ক এবং দানাদার অনুভূত হবে। কিন্তু চিনিতে যদি পাউডার বা অন্য কোনো কেমিক্যাল মেশানো থাকে, তবে ঘষার পর হাতের তালুতে একটি আঠালো, তৈলাক্ত বা অতিরিক্ত মসৃণ পাউডারের মতো অনুভূতি হবে।
স্বাদের পার্থক্যও আপনাকে দেবে সঠিক সংকেত
পরীক্ষা ছাড়াও স্বাদের মাধ্যমেও আসল-নকলের বড় ফারাক বোঝা যায়। খাঁটি চিনি অল্প পরিমাণে দিলেই চা বা দুধে দারুণ মিষ্টিভাব আসে। অন্যদিকে, ভেজাল বা নকল চিনি ৩-৪ চামচ দেওয়ার পরেও খাবারে সঠিক মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায় না। যদি আপনার মনে হয় চিনি বেশি দেওয়া সত্ত্বেও চা বা মিষ্টি ফিকে লাগছে, তবে বুঝবেন ওই চিনির গুণমান অত্যন্ত নিম্নমানের অথবা তাতে ভেজাল রয়েছে।