২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর - সেই অভিশপ্ত দিনটা, ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের অভিশপ্ত ফাইনালের স্মৃতি এখনও টাটকা ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে এক লাখের বেশি নীল জার্সির দর্শককে স্তব্ধ করে দিয়ে ট্রফি ছিনিয়ে নিয়েছিল প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালের আগে ঠিক সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চান নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ভারতের মাটিতে ভারতকে হারিয়ে ট্রফি জেতা এবং গ্যালারির লক্ষাধিক দর্শককে ‘খামোশ’ করে দেওয়াই এখন কিউয়ি ব্রিগেডের পাখির চোখ।
প্যাট কামিন্সের পথেই স্যান্টনার

ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে মিচেল স্যান্টনারকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে। যখন তাঁকে ভারতীয় দর্শকদের উন্মাদনা এবং ১৪০ কোটি মানুষের প্রত্যাশার চাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, স্যান্টনার স্পষ্ট জানান, 'প্যাট কামিন্স যা করেছিলেন, তা সত্যিই অতুলনীয়। ঘরের মাঠে গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের স্তব্ধ করে দেওয়ার মধ্যে একটা আলাদা রোমাঞ্চ আছে। আমাদের লক্ষ্যও ঠিক তাই। ভারতের মাটিতে ভারতকে হারানো কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ট্রফি জেতার জন্য যদি আমায় আরও একবার কয়েক কোটি মানুষের হৃদয় ভাঙতে হয়, তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই।'
চাপ এখন ভারতের ওপর
স্যান্টনার মনে করেন, ঘরের মাঠে খেলার কারণে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ভারতের ওপর প্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি। তিনি বলেন, ‘ভারত ফেভারিট হিসেবে শুরু করবে ঠিকই, কিন্তু মাঠের বাইরের সেই চাপটা আমাদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। আমরা যদি শুরুতেই কয়েকটা উইকেট তুলে নিয়ে দর্শকদের শান্ত করে দিতে পারি, তবে ভারত মানসিকভাবে চাপে পড়ে যাবে।’ উল্লেখ্য, গত ১১ বছরে নিউজিল্যান্ড এই নিয়ে পাঁচটি আইসিসি ফাইনাল খেলছে। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে এখনও বড় কোনও শিরোপা জেতা হয়নি তাদের। তাই এবার আর কোনও সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন স্যান্টনাররা।
{{/usCountry}}স্যান্টনার মনে করেন, ঘরের মাঠে খেলার কারণে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ভারতের ওপর প্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি। তিনি বলেন, ‘ভারত ফেভারিট হিসেবে শুরু করবে ঠিকই, কিন্তু মাঠের বাইরের সেই চাপটা আমাদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। আমরা যদি শুরুতেই কয়েকটা উইকেট তুলে নিয়ে দর্শকদের শান্ত করে দিতে পারি, তবে ভারত মানসিকভাবে চাপে পড়ে যাবে।’ উল্লেখ্য, গত ১১ বছরে নিউজিল্যান্ড এই নিয়ে পাঁচটি আইসিসি ফাইনাল খেলছে। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে এখনও বড় কোনও শিরোপা জেতা হয়নি তাদের। তাই এবার আর কোনও সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন স্যান্টনাররা।
{{/usCountry}}দক্ষিণ আফ্রিকার জয় থেকে আত্মবিশ্বাস
সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা নিউজিল্যান্ড এখন ফুটছে। বিশেষ করে ওপেনার ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী ফর্ম কিউয়ি শিবিরকে ভরসা দিচ্ছে। স্যান্টনারের মতে, পাওয়ার প্লে-তে উইকেট নেওয়াটাই হবে আসল চাবিকাঠি। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপ অত্যন্ত গভীর। যদি আমরা শুরুর দিকে উইকেট না পাই, তবে ওরা ২৫০ রানও তুলে দিতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হবে পাওয়ার প্লে-তে আক্রমণাত্মক বোলিং করা।’
ইতিহাস বনাম বর্তমান
ভারত ও নিউজিল্যান্ডের সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নিউজিল্যান্ড ৪-১ ব্যবধানে হারলেও, স্যান্টনারের দাবি, ওই সিরিজ থেকে তারা অনেক শিক্ষা নিয়েছেন। ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে স্নায়ুর চাপ যারা বেশি সামলাতে পারবে, শেষ হাসি তারাই হাসবে। রবিবার আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে কিউয়িরা কি পারবেন প্যাট কামিন্সের মতো ইতিহাস গড়তে, নাকি সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়া বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখবে— এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব।