আইসিসির তরফে এখনও ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশের ঘোষণা করা হয়নি। আর কাজটাও কঠিন। কারণ এবারের বিশ্বকাপে এবার একাধিক খেলোয়াড় নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন। ফলে সেরা একাদশে ঢোকার দাবিদারও বেশি। সেই আবহে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশ বেছে নিল হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। যে দলে আছেন পাঁচজন ভারতীয়। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দু'জন করে রয়েছেন। ঠাঁই পাননি কোনও পাকিস্তানি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশ

১) সঞ্জু স্যামসন (ভারত): ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। যে তিনটি ম্যাচে হারলে ভারতের পরপর দু'বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরা থেকে যেত, সেই তিনটি ম্যাচে সঞ্জু করেছেন যথাক্রমে অপরাজিত ৯৭ রান, ৮৯ রান এবং ৮৯ রান। সবমিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে মোট ৩২১ রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ৮০.২৫। সেই পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশের ওপেনার তিনি না হলে ওরকম তালিকা করার কোনও অর্থই হয় না।
২) এডেন মার্করাম (দক্ষিণ আফ্রিকা): দ্বিতীয় ওপেনারের জায়গা নিয়ে একাধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে লড়াইয়ের সুযোগ ছিল। টিম সেফার্ত, ফিন অ্যালেন, সাহিবজাদা ফারহানের মতো তারকারা এবার দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন। তাঁদের থেকে কম রান করলেও প্রথম একাদশে এডেন মার্করামকে রাখা হচ্ছে। আটটি ইনিংসে ২৮৬ রান করেছেন। গড় ৪৭.৬৬। সেইসঙ্গে বোলিং এবং অধিনায়কত্বও প্লাস পয়েন্ট হয়েছে মার্করামের ক্ষেত্রে।
৩) ইশান কিষান (ভারত): একটা সময় বিশ্বকাপের দলে থাকারই কথা ছিলেন না। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষে তিনিই সেরা একাদশের 'ওয়ান-ডাউন' ব্যাটার। নয় ইনিংসে ৩১৭ রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ১৯৩.২৯। যা পেসারদের ক্ষেত্রে বেড়ে ২১২-তে ঠেকেছিল। আর স্পিনারদের বিরুদ্ধে স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭৭। আর মাঝের ওভারে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২১০-র বেশি। বিশ্বকাপের শুরুর দিকে ভারত যে মাঝের ওভারে স্পিনের বিরুদ্ধে আটকে যাচ্ছিল, সূর্যকুমার যাদব এবং তিলক বর্মারা খাবি খাচ্ছিলেন, সেটা ইশানকে তিনে নামিয়ে আনতেই সেই সমস্যা কেটে যায়। সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। আর বড় জুটি গড়ে তোলেন।
{{/usCountry}}৩) ইশান কিষান (ভারত): একটা সময় বিশ্বকাপের দলে থাকারই কথা ছিলেন না। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষে তিনিই সেরা একাদশের 'ওয়ান-ডাউন' ব্যাটার। নয় ইনিংসে ৩১৭ রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ১৯৩.২৯। যা পেসারদের ক্ষেত্রে বেড়ে ২১২-তে ঠেকেছিল। আর স্পিনারদের বিরুদ্ধে স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭৭। আর মাঝের ওভারে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২১০-র বেশি। বিশ্বকাপের শুরুর দিকে ভারত যে মাঝের ওভারে স্পিনের বিরুদ্ধে আটকে যাচ্ছিল, সূর্যকুমার যাদব এবং তিলক বর্মারা খাবি খাচ্ছিলেন, সেটা ইশানকে তিনে নামিয়ে আনতেই সেই সমস্যা কেটে যায়। সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। আর বড় জুটি গড়ে তোলেন।
{{/usCountry}}৪) শিমরন হেতমায়ার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ): জেকব বেথেল সেমিফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে মহাকাব্যিক ইনিংস খেললেও সার্বিকভাবে বিচার করলে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা একাদশের চার নম্বর জায়গাটা চোখ বন্ধ করে ক্যারিবিয়ান তারকাকে দেওয়া যায়। সাত ইনিংসে মোট ২৪৮ রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ১৮৬.৪৬। একাধিক ম্যাচে ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন। এমনকী এবারের বিশ্বকাপে স্পিনারদের বিরুদ্ধে সর্বাধিক হাঁকানোরও নজির রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ভারত ও শ্রীলঙ্কা মিলিতভাবে যে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে, সেখানে এই পরিসংখ্যান চমকপ্রদ।
৫) শিবম দুবে (ভারত): সেই অর্থে কোনও ম্যাচের একা সুপারস্টার হয়ে ওঠেননি। কোনও ম্যাচের যাবতীয় লাইমলাইট একা শুষে নেননি। কিন্তু ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম স্টার হলেন শিবম। কঠিন ও জটিল পরিস্থিতিতে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৭ বলে ২৭ রান করেন। নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩১ বলে ৬৬ রান করেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৫ বলে ৪৩ রান করেন দুবে। আর ফাইনালে তো শেষ ওভারে ২৪ রান তোলেন। আট বলে ২৬ রানে অপরাজিত থেকে ভারতকে ২৫৫ রানে পৌঁছে দেন।
৬) হার্দিক পান্ডিয়া (ভারত): চাপ, টেনশনের মুহূর্ত? হার্দিককে ডাকুন! পাওয়ার প্লে'তে বোলিং হোক, ডেথ ওভারে বোলিং হোক বা ডেথ ওভারে ব্যাটিং হোক - হার্দিক সবদিক থেকে অবদান রেখেছেন। ডেথে আট ওভার বোলিং করেছেন। যে সময় তাঁর ইকোনমি রেট ১০-র নীচে ছিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে প্রবল চাপের মুখে ১৯ তম ওভারে খরচ করেন মাত্র নয় রান। আবার পাওয়ার প্লে'তে ওভারপিছু মাত্র আট রান খরচ করেন। সেইসঙ্গে ডেথ ওভারে ১১৪ রান করেছেন। ওই সময় ১৯০ বা তার বেশি স্ট্রাইক রেটে রান করা খেলোয়াড়দের তালিকায় দু'নম্বরে আছেন তিনি।
৭) উইল জ্যাকস (ইংল্যান্ড): হার্দিকের মতোই অলরাউন্ডার হিসেবে জ্যাকসকে বাদ দেওয়া অসম্ভব। আট ইনিংসে ২২৬ রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ১৭৬-র বেশি। উইকেট নিয়েছেন ন'টি। এবারের বিশ্বকাপে একাধিকবার ব্যাট হাতে ইংল্যান্ডকে বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। বল হাতেও ঠিক সেই কাজটাই করেছেন একাধিকবার। এমনকী গ্রুপ-পর্বের পরেই সাতটি উইকেট নিয়েছেন।
৮) সিকন্দর রাজা (জিম্বাবোয়ে): পিচে কি স্পিনারদের জন্য সহায়তা আছে নাকি পেসাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন, সেটার উপরে ভিত্তি করে যে কোনও একজনকে (সিকন্দর রাজা এবং জেসন হোল্ডারকে) বেছে নিতে হবে। তাও যদি পিচকে বাদ দিয়ে একজনকে বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে সেটা হলেন সিকন্দর। অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দারুণ খেলেন সিকন্দর। জিম্বাবোয়ে যে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল, সেটার নেপথ্যে সিকন্দরের বড় ভূমিকা ছিল। ১৩ বলে অপরাজিত ২৫ রান করেছিলেন। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আবার ২৬ বলে ৪৫ রান করেছিলেন জিম্বাবোয়ের অধিনায়ক। সুপার এইটে ৪৩ বলে ৭৩ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। বল হাতে চার ওভারে ২৯ রানে তিন উইকেট নেন।
৯) আদিল রশিদ (ইংল্যান্ড): বরুণ চক্রবর্তী এবারের বিশ্বকাপে জসপ্রীত বুমরাহের সঙ্গে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ উইকেট নিলেও ইমপ্যাক্টের দিক থেকে সেরা একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন রশিদ। অধিকাংশ ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন। আট ম্যাচে নেন ১৩টি উইকেট। গড় ১৯.২৩। ইকোনমি রেট ৮.১৫। সেমিফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ১৬ বলে ১৯ রান খরচ করেন। যদিও মার খেয়ে যান দুবের কাছে। রশিদের আট বলে ২২ রান তোলেন দুবে। তারপরও যে ম্যাচে মোট ৪৯৯ রান উঠেছে, সেটার নিরিখে খুব বাজে বোলিং করেননি রশিদ।
১০) জসপ্রীত বুমরাহ (ভারত): এই নামটা কেন সেরা একাদশে আছে, তা ব্যাখ্যার জন্য একটা শব্দেরও প্রয়োজন নেই। বুমরাহ নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন যে ব্যাটার জানেন কী বল আসছে, সেরকম প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাতেও কিছু করতে পারছেন না। যা ভয়ংকরভাবে মালুম হয়েছে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে। দুটি মেগা ম্যাচেই কার্যত একই কায়দায় প্রথম বলেই উইকেট নিয়েছেন বুমরাহ।
আর বুমরাহ যে কতটা ভয়ংকর, সেটা বোঝা যায় একটা পরিসংখ্যানেই। সেমিতে জয়ের জন্য ১৮ বলে ৪৫ রান দরকার ছিল ইংল্যান্ডের। ক্রিজে আছেন মহাকাব্যিক ইনিংস খেলা বেথেল। তাও ১৮ তম ওভারে বুমরাহকে মারার চেষ্টাই করলেন না ইংরেজরা। স্রেফ ছয় রান নিয়ে ওভারটা পার করে দিলেন। সেটা থেকেই বোঝা যায় যে বুমরাহকে কতটা ভয় পান ব্যাটাররা। এবারের বিশ্বকাপে আটটি ম্যাচে ১৪টি উইকেট নিয়েছেন বুমরাহ। গড় ১২-র সামান্য বেশি। ইকোনমি রেট ৬.২১।
আরও পড়ুন: SKY on T20 World Cup 2026 Final: 'সবাই একই লাইন মুখস্থ করে ঝাড়ছে', NZ অধিনায়ককে পালটা তোপ সূর্যের
১১) লুঙ্গি এনগিদি (দক্ষিণ আফ্রিকা): খাতায়কলমে ব্লেসিং মুজারাবানির পরিসংখ্যান ভালো হলে সার্বিকভাবে এগিয়ে থাকেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ডবল সুপার ওভারের ম্যাচে ২৬ রানে তিন উইকেট নিয়েছিলেন। আর ভারতের বিরুদ্ধে কোনও উইকেট না পেলেও দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন। স্লোয়ার বলে রীতিমতো নাকানি-চোবানি খাইয়েছিলেন ভারতীয় ব্যাটারদের। সার্বিকভাবে সাতটি ম্যাচে ১২টি উইকেট নিয়েছেন। ইকোনমি রেট ৭.১৯। গড় ১৫.৫৮।